নিজস্ব চিত্র।
হিজাব বিতর্কের জেরে ছুটিতে গেলেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রধান শাশ্বতী হালদারকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবি, তিনি ছুটির জন্য আবেদন করেছিলেন তা মঞ্জুর করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, ৭ থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ছুটি নিয়েছেন শাশ্বতী। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, মঙ্গলবার সকালে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন, উপাচার্য ও ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার। তারপর পরেই এই সিদ্ধান্ত। এ প্রসঙ্গে, বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদার বলেন, “আমি মঙ্গলবার দুপুরে উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলি। তার পরই ছুটির আবেদন করি। সেই আবেদন গৃহীত হয়েছে।”
উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “ছুটিতে পাঠানোর কোনও প্রশ্নই নেই। ব্যক্তিগত কারণে তিনি ছুটি চেয়েছিলেন। আমি তা মঞ্জুর করেছি।”
হিজাব বিতর্কে সোমবার, তথ্যানুসন্ধান কমিটির সদস্যেরা কথা বলেন ইংরেজি স্নাতক তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রী ও বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে। তাঁরা সুপারিশপত্রও পাঠিয়েছিল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। সেখানে বলা হয়েছে, তদন্ত যতদিন চলবে ততদিন বিভাগীয় প্রধান শাশ্বতী হালদার বিশ্ববিদ্যালয়ে না এলেই ভাল হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছুটিতে গেলেন শাশ্বতী।
গত ২২ ডিসেম্বর ইংরেজি তৃতীয় বর্ষের এক ইসলাম ধর্মাবলম্বী ছাত্রীকে পরীক্ষা চলাকালীন পাশের ঘরে ডেকে নিয়ে গিয়ে কথা বলেন বিভাগীয় প্রধান। কর্তৃপক্ষের তরফে জানা গিয়েছে, ওই পরীক্ষায় বার বার নকলের অভিযোগ উঠছিল বলেই কড়া নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছিল। বিভাগীয় প্রধান এবং এক মহিলা গবেষকের উপস্থিতিতে ওই ছাত্রী নিজেই মাথার কাপড় খুলে দেখান তাঁর কাছে কোনও বৈদ্যুতিন যন্ত্র নেই। তার পর বিভাগীয় প্রধান ছাত্রীর কাছে দুঃখপ্রকাশ করে পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেন। অতিরিক্ত ১০ মিনিট সময়ও দেওয়া হয় তাঁকে।
এর পরই তৈরি হয় বিতর্ক। ২৪ ডিসেম্বর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বিক্ষোভ দেখান দুই ছাত্র। অভিযোগ দায়ের হয় রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনেও। গত সপ্তাহে কমিশনের সদস্যরাও দেখা করে গিয়েছেন উপাচার্যের সঙ্গে।