নিজস্ব চিত্র।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা এ বার কড়া পদক্ষেপ করতে চলেছেন কর্তৃপক্ষ। জানা গিয়েছে, গত শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারি ক্যাম্পাসের ভিতরেই কয়েকজন ছাত্রের হাতে নিগৃহীত হন অধ্যাপক রাজ্যেশ্বর সিংহ এবং ললিত মাধব। তার পর সোমবারই প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হল পঠনপাঠন এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম। এ দিনই কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেন, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দোষীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
সংবাদমাধ্যমকে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিক্ষকের উপর হামলা অত্যন্ত নিন্দনীয়, অকল্পনীয়। দোষীদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি অনুযায়ী করা শাস্তিমূলক পদক্ষেপ করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত শীঘ্রই শুরু হবে। ৩ সদস্যের এই তদন্ত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে থেকেও সদস্যেরা থাকবেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।”
ইতিমধ্যে সরকারি অনুমতি পাওয়ার পর বিশ্ব ক্যাম্পাসের বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরা লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ঘটনাস্থল এবং তার আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হবে বলে জানাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। দুই অধ্যাপকের নিগৃহীত হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে অধ্যাপক ও প্রাক্তনীরা উদ্বিগ্ন। বৃহস্পতিবার একাধিক ছাত্র ও শিক্ষক সংগঠন উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দিয়েছে এই ঘটনার প্রতিবাদে। তাঁদের অনেকেই মনে করছেন, শিক্ষক নিগ্রহের ঘটনা পরিকল্পিত।
অভিযোগ, যেখানে দু’দল ছাত্র বিবাদ করছিল, সেখানে প্রায় ১৪-১৫জন শিক্ষক উপস্থিত হয়ে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সে সময় একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বেশ কিছু ছাত্রকে সেখানে উপস্থিত হন এবং তাঁদেরই একজন অধ্যাপককে আক্রমণ করেন। কয়েকজন শিক্ষক ধরেও ফেললেও অন্য ছাত্রদের সহায়তায় তাঁকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে বের করে দেওয়া হয়।
সোমবার বিকেলে শিক্ষকদের একটি বৈঠক রয়েছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মনে করা হচ্ছে, সেখানে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত গৃহীত হতে পারে।