গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম
উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা ইতিমধ্যেই শেষ হয়েছে। সিবিএসসই দ্বাদশ ও আইএসই পরীক্ষা চলছে। অথচ, এখনও রাজ্যে জয়েন্ট এন্ট্রান্স-এর জন্য আবেদন গ্রহণ প্রক্রিয়াও শুরু করতে পারেন বোর্ড। গত বছর ফলপ্রকাশে বিলম্বের কারণে মেধাবী পড়ুয়া হারাতে হয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেকেই। এ বার তাই ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া নিজেরা করতে চাইছেন কর্তৃপক্ষ।
যদিও রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড যে ভাবে পরীক্ষা নিচ্ছে তাতে আপত্তি নেই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাকাল্টি কাউন্সেলিং-এর। তারা চাইছে মেধাতালিকা অনুযায়ী কাউন্সেলিং নিজেরা করিয়ে পড়ুয়া ভর্তি নিতে। ইতিমধ্যেই বিষয় আলোচনা ও পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। কর্মসমিতি (ইসি)-র বৈঠক করে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং-এর ডিন পার্থপ্রতিম বিশ্বাস বলেন, “ফ্যাকাল্টি কাউন্সিল ইতিমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাউন্সেলিং করাবে। ইসি-তে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। বেশি দেরি হলে ভাল ছাত্র পাওয়া কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান পড়বে। চাকরির ক্ষেত্রেও পড়ুয়াদের সাফল্য কমে যাবে। তাই এই সিদ্ধান্ত।”
চলতি মার্চেই ইসি বৈঠক হওয়ার কথা। এখানে এই বিষয়টি চূড়ান্ত করে উচ্চশিক্ষা দফতরের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। নিয়ম অনুযায়ী পরীক্ষা নেওয়ার পর জয়েন্ট বোর্ড মেধাতালিকা তৈরি করে। তার ভিত্তিতে বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া ভর্তি করা হয়। এই প্রক্রিয়া জয়েন্ট বোর্ড অনলাইনে সম্পন্ন করে কেন্দ্রীয় ভাবে ধাপে ধাপে।
কিন্তু যাদবপুর চাইছে বোর্ড মেধাতালিকা প্রকাশের পর, তারা নিজেরাই কাউন্সেলিং করিয়ে পড়ুয়া ভর্তি নিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “এটি ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত। আমরা ইসিতে আলোচনা করে সরকারের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব।”
গত বছর ওবিসি সংরক্ষণ জটে জয়েন্টের ফলপ্রকাশে বিস্তর বিলম্ব হয়। তার পর জয়েন্ট বোর্ডের মাধ্যমে অনলাইন কাউন্সেলিংয়ের পর দেখা যায় অনেক আসন ফাঁকা রয়ে গিয়েছে। রাজ্যের জয়েন্ট-এর প্রথম ১০০-র মধ্যে থাকা কোনও পড়ুয়া যাদবপুরে ভর্তি হয়নি গত বছর। কম্পিউটার সায়েন্স ছাড়া কোনও বিভাগেই প্রথম ২৫০ থাকা কেউ ভর্তি হননি। তা নিয়েই চিন্তিত যাদবপুর কর্তৃপক্ষ।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা জানাচ্ছেন যদি যাদবপুর নিজেরা ভর্তি নেয়। তা হলে দীর্ঘ মেয়াদে তার প্রভাব পড়বে বিশ্ববিদ্যালয় সামগ্রিক র্যাঙ্কিং-এ এবং এনআই আরএফ র্যাঙ্কিং-এ। ইঞ্জিনিয়ারিং-এর তালিকা যাদবপুর পিছিয়ে ছিল তারও উন্নতি হবে।