প্রতীকী চিত্র।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হতে চলেছে সাঁওতালি ভাষায় ডিগ্রি কোর্স। সাঁওতালি ভাষায় স্নাতকোত্তর কোর্স চালু করার জন্য নতুন বিভাগ গঠন করার প্রস্তাব গ্রহণ করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক্সিকিউটিভ কাউন্সিল (ইসি)।
ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান, বিদ্যাসাগর, সিধু-কানহু বিরসা এবং মুর্শিদাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি ভাষার বিভাগ রয়েছে। যেখানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পঠন-পাঠন ও গবেষণা করানো হয়। এ ছাড়াও বাঁকুড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাঁওতালি বিষয়ে স্নাতকে পড়ানো হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছে, গত মঙ্গলবার যে ইসি বৈঠক হয় সেখানে সাঁওতালি ভাষা নিয়ে নতুন বিভাগ চালু করার প্রস্তাব দেওয়া হয়। প্রস্তাবে স্নাতক কোর্স চালু করার কথা বলা হয়েছে। তবে ইসিতে ঠিক করা হয়েছে যে প্রাথমিক ভাবে স্নাতকোত্তরে সাঁওতালি বিভাগ চালু করা হবে। ক্রমে চালু করা হবে স্নাতক কোর্স।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, "আমাদের কাছে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সেই প্রস্তাব নীতিগত ভাবে আমরা গ্রহণ করেছি। কিন্তু পুরো বিষয়টা নির্ভর করছে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও তাদের সিদ্ধান্তের উপর। একটি বিভাগ তৈরি করার জন্য উপযুক্ত পরিকাঠামোর প্রয়োজন। তার থেকেও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষক নিয়োগ। চালু হলেও প্রথমে আমরা স্নাতকোত্তর চালু করব। তারপর স্নাতক বিভাগ চালু করা হবে।"
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা জানান, "আমরা প্রস্তাব পাওয়ার পর এই বিভাগ চালুর ক্ষেত্রে কি কি প্রয়োজন, কত শিক্ষক লাগবে, সব কিছু ঠিক করে রিপোর্ট পাঠাব উচ্চ শিক্ষা দফতরের কাছে। সেখান থেকে অনুমোদন এলে আমরা এই নতুন বিভাগ চালু করতে পারব।"
এ ছাড়াও দু'টি পৃথক স্কুল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এতদিন ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যাডাল্ট কন্টিনিউইং এডুকেশনের মধ্যে ছিল দু'টি স্কুল। সেগুলি হল স্কুল অফ জার্নালিজম অ্যান্ড মাস কমিউনিকেশন ও স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কন্টিনিউইং এডুকেশন।
বর্তমানে যে বিভাগটি রয়েছে সেখানে চার জন শিক্ষক রয়েছেন। বিভাগটিতে দু'টি কোর্স পড়ানো হয়। তার মধ্যে সাংবাদিকতা এবং গণজ্ঞাপনের জন্য দু'জন শিক্ষক রয়েছেন। আর বাকি দু'জন ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজমেন্ট বিশেষজ্ঞ। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাখ্যা, সাংবাদিকতা কোর্সটি এখন যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এই বিভাজনে প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল। এতে পড়ুয়াদের সমস্যার সমাধান হবে।