প্রতীকী চিত্র।
উচ্চ মাধ্যমিকের অনেকগুলি পরীক্ষা হয়ে গিয়েছে। সেমেস্টার পদ্ধতিতে ভূগোলের পরীক্ষা সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি। এখন আর নতুন করে প্রস্তুতির কিছু বাকি নেই। শুধু মাথা ঠাণ্ডা রাখা এবং কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখলেই মিলতে পারে পূর্ণ নম্বর।
শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিয়ে তাই জরুরি পরামর্শ দিলেন যোধপুর পার্ক গার্লস হাই স্কুলের বিষয় শিক্ষিকা সুনীপা সরকার।
প্রথমেই সুনীপা জানিয়েছেন, পরীক্ষা শুরুর আগে কী কী করণীয়। তাঁর কথায়, “সকাল ১০টায় পরীক্ষা শুরু হলেও পরীক্ষাকেন্দ্রে ৯টা নাগাদ পৌঁছে গেলেই ভাল। তা হলে সাড়ে ৯টার মধ্যেই নিজের আসন খুঁজে বসার সময় পাওয়া যাবে।” এর ফলে কোনও রকম তাড়াহুড়ো হবে না এবং দুশ্চিন্তামুক্ত থাকা যাবে। ৯টা ৪৫ মিনিটে হাতে পাওয়া যাবে প্রশ্নপত্র। সকাল ১০টা থেকে উত্তর লেখার অনুমতি মিলবে। তাই তার আগে যে ১০মিনিট পাওয়া যাবে, সেই সময় শান্ত মনে উত্তর লেখার জন্য প্রশ্ন নির্বাচন করে নিতে হবে। পরীক্ষার জন্য যে হেতু বরাদ্দ সময় দু’ঘণ্টা, তাই আগে থেকে প্রশ্ন অনুযায়ী উত্তর লেখার সময় বিভাজন করে নিতে হবে।
এর পর পরীক্ষা চলাকালীন কী করতে হবে, সে সম্পর্কেও মতামত দিয়েছেন সুনীপা। জানিয়েছেন, প্রশ্নপত্রের ‘ক’ বিভাগে প্রাকৃতিক ভূগোল, মানবীয় ভূগোল এবং ভারত— এই তিনটি বিষয় থেকে দু’টি করে মোট ছ'টি প্রশ্নের উত্তর করতে হবে। প্রতি প্রশ্নের পূর্ণমান ২ হবে। অর্থাৎ মোট ১২ নম্বর থাকবে। এই বিভাগের জন্য পরীক্ষার্থীদের হাতে সময় রাখতে হবে ৩০ থেকে ৩৫ মিনিট।
পরবর্তী ‘খ’ বিভাগ-এও প্রতিটি বিষয় থেকে দু’টি করে মোট ছ’টি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। প্রতি প্রশ্নে থাকবে ৩ নম্বর। মোট নম্বর ১৮। এই অংশের উত্তর দেওয়ার জন্য পড়ুয়াদের ৪৫ থেকে ৫০ মিনিট সময় রাখতে হবে বলে মনে করেন শিক্ষিকা।
সুনীপা জানিয়েছেন, সব শেষে ‘গ’ বিভাগে পাঁচ নম্বরের দু’টি বিকল্পের মধ্যে একটি প্রশ্নের উত্তর লিখতে হবে। এখানে শুধু মাত্র প্রাকৃতিক ভূগোলের থেকেই প্রশ্ন আসবে। প্রশ্নের পূর্ণমান থাকবে ৫। এই প্রশ্নের জন্য হাতে সময় বরাদ্দ রাখতে হবে ১৫ থেকে ২০ মিনিট। এর পর শেষ ১০ থেকে ১৫ মিনিট খাতা রিভিশন করার জন্য রাখতে হবে।
এ ছাড়াও সুনীপা বেশ কিছু জরুরি বিষয় মাথায় রাখার কথা উল্লেখ করেছেন। যেমন—
সমস্ত বিষয়ের মর্মবস্তু বুঝে পড়তে হবে। এর ফলে প্রশ্ন ঘুরিয়ে এলে উত্তর দেওয়া সহজ হবে। ৩ এবং ৫ নম্বরের প্রশ্নের উত্তর লেখার জন্য প্রয়োজনে ছবি আঁকতে হবে। যে হেতু বিকল্প প্রশ্ন থাকবে, তাই প্রশ্ন নির্বাচনের সময় কোন প্রশ্নে বেশি নম্বর মিলবে, তা সঠিক ভাবে নির্বাচন করতে হবে। কঠিন, সমালোচনামূলক প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়াই ভাল। প্রতি প্রশ্নের উত্তরও হতে হবে স্পষ্ট, তথ্যপূর্ণ এবং উদাহরণযুক্ত।