education issue in election

ভোটের রাজনীতিতে ব্রাত্য শিক্ষা? প্রশ্ন উস্কে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একাংশের ইস্তেহার

ইস্যুভিত্তিক ভোটের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন শিক্ষকেরা! ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁরা ইস্তাহার প্রকাশ করে বলতে চাইছেন চাকরি, ভাতার পাশাপাশি শিক্ষাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এমনই দাবি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২০ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:১১
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

ক্রমশ কমছে সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে কমছে পড়ুয়ার সংখ্যা। ষাট শতাংশের বেশি আসন ফাঁকা থেকে যাচ্ছে। আর এর কারণ হিসাবে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকেরা আঙুল তুলছেন রাজ্য সরকারের দিকে।

Advertisement

ইস্যুভিত্তিক ভোটের রাজনীতিতে ফিরতে চাইছেন শিক্ষকেরা! ২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের আগে তাঁরা ইস্তাহার প্রকাশ করে বলতে চাইছেন চাকরি, ভাতার পাশাপাশি শিক্ষাও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু। এমনই দাবি, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের। যাদবপুর, প্রেসিডেন্সি, বিদ্যাসাগর, আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়-সহ রাজ্যের বিভিন্ন জেলার কলেজের অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান শিক্ষকেরা এই ইস্তাহার প্রকাশ করেন।

শিক্ষার অবনমনের পাশাপাশি আরজি কর কাণ্ডের কথা তুলে ধরে উচ্চশিক্ষায় নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টিও মনে করিয়ে দিতে চেয়েছেন তাঁরা। অভিযোগ, গত কয়েক বছরে স্নাতক স্তরে পড়ুয়াভর্তির হার কমছে। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সংগঠনের দাবি, সরকারি ও সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজগুলিতে স্নাতক স্তরে মোট ৯,৩৬,২১৫টি আসন আছে। ২০২৫-এ কেন্দ্রীয় পোর্টালে মোট করেছিলেন ৪,২১,৩০১ জন প্রার্থী আবেদন করেছিলেন। তার মধ্যে ভর্তি হয়েছেন মাত্র ২,৬৯,৭৭৭ জন। মোট আসনের মাত্র ২৮.৮১ শতাংশ। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে ৪.৪৪ লক্ষ আসন পূরণ হয়েছিল। এমনকি ফাঁকা থেকে যাচ্ছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আসনও।

Advertisement

সংগঠনের সদস্যদের দাবি, রাজ্য সরকার প্রথম থেকে জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-র বিরোধিতা করলেও পরে হুবহু সেই নীতি অনুসরণ করছে। এতে শিক্ষায় বেসরকারিকরণ ত্বরাণ্বিত হবে বলেই মনে করছেন তাঁরা। উচ্চশিক্ষা ধীরে ধীরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে তাঁদের আশঙ্কা। শুধু তা-ই নয়, এই শিক্ষাব্যবস্থা মিথ্যা স্বপ্ন দেখিয়ে শিক্ষিত যুবসমাজকে অনিশ্চিত ও স্বল্পমজুরির অনুগত শ্রমশক্তিতে পরিণত করতে চলেছে বলেও ইস্তাহারে উল্লেখ করেছেন তাঁরা।

সংগঠনের এক সদস্যের কথায়, “শিক্ষানীতি অনুযায়ী ‘মাল্টিপল এন্ট্রি-এগ্‌জ়িট’, ক্রেডিট ব্যাঙ্ক ও আউটকাম-ভিত্তিক শিক্ষা আসলে কর্পোরেট স্বার্থে প্রয়োগ করা হচ্ছে। সেল্‌ফ ফিনান্সিং কোর্স চালু করে রাজ্য আদতে সরকারি সাহায্য কমিয়ে আনাতে চাইছে।”

Advertisement

ইস্তাহারে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগের প্রসঙ্গও। কেন্দ্র-রাজ্য দড়ি টানাটানিতে আখেরে শিক্ষাব্যবস্থার অবনমন ঘটছে বলে মনে করেন তাঁরা। দীর্ঘদিন রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য পদ শূন্য হয়ে পড়েছিল আচার্য, রাজ্যপালের সঙ্গে রাজ্যের সংঘাতে।

রাজ্যের কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে দীর্ঘ দিন ধরে শূন্যপদ পূরণ হয়নি। তাই নতুন শিক্ষক পদ সৃষ্টি না করে স্বল্পবেতনভুক্ত অস্থায়ী শিক্ষকদের নিয়োগের উপর নির্ভরতা বাড়ছে। এই সব অস্থায়ী কর্মীদের কাজের কোনও মর্যাদা বা নিরাপত্তা নেই বলেই অভিযোগ। তাঁদের দাবি, কলেজে কলেজে এক বিশেষ ত্রাসের আবহ তৈরি করা হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক স্বার্থে।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক গৌতম মাইতি বলেন, ‘‘আমরা রাজ্যের নির্বাচকদের কাছে আবেদন করছি— যে বা যে সব দল উক্ত জনবিরোধী শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান নিয়েছে, রাস্তায় নেমে আন্দোলন করছে এবং নির্বাচিত হলে বিধানসভায় এই নীতির বিরুদ্ধে সরব হবে, আপনারা এই নির্বাচনে তাদেরই সমর্থন করুন। কারণ শিক্ষা নষ্ট হলে শুধু বর্তমান নয় আগামীও সঙ্কটের মুখে পড়বে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement