How to prepare for exams

দশম বা দ্বাদশের পরীক্ষা ভাল হয়নি, এর পর কী হবে! জীবন কোন পথে এগোবে? জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞেরা

‘কী রে, ফল কেমন হল?’— এ প্রশ্ন বড়জোর দু’মাস ঘোরাফেরা করে কানের পাশে। তার পর আর কেউ মনে রাখেন না, ফল ভাল হয়েছিল নাকি খারাপ! বরং কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্য।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৯
Share:

খারাপ ফল করা পড়ুয়ার কী হবে ভবিষ্যৎ? — প্রতীকী চিত্র।

অঙ্ক পরীক্ষাটা একেবারে ভাল হয়নি প্রতীকের। মাধ্যমিক শেষ হয়ে গেলেও কথাটা সে বাড়ির কাউকে মুখ ফুটে বলতে পারেনি। বাবা-মায়ের প্রত্যাশা, প্রতীক পড়াশোনা করবে বিজ্ঞান নিয়ে। কিন্তু অঙ্ক-বিজ্ঞানের পরীক্ষাটা যে সে ভাল দিতেই পারেনি, ফল ভাল হবে না, নিজেই বুঝতে পারছে। মন খারাপ। একাদশে বিজ্ঞান নিয়ে ভর্তি হতে না পারে তা হলে বাড়ির সকলে কী বলবেন!

Advertisement

প্রতীক একা নয়, এমন অনেকের সঙ্গেই ঘটতে পারে। প্রজন্মের পর প্রজন্মে পরিবারের স্বপ্ন পূরণ করতে পারার দৌড়ে সামিল। না পারলেই ঘিরে ধরে হতাশা, অবসাদ। গত অর্ধ শতকে সেই দৌড় আরও গতিমান হয়েছে। অবসাদও হয়েছে গভীর।

কিন্তু বিষয় হল, মাধ্যমিক বা উচ্চ মাধ্যমিক জীবনের শেষ পরীক্ষা নয়। তাই ফল খারাপ হলেও ঘুরে দাঁড়ানোর জায়গা রয়েছে যথেষ্ট। রাজ্যের মৌলানা আবুল কালাম আজাদ প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ম্যাকাউট)-এর প্রাক্তন উপাচার্য সৈকত মৈত্র বলছেন, ‘‘শুধু আগ্রহ থাকতে হবে, তা হলে জীবনের পথে বাজিমাত করা সম্ভব।’’ তাঁর সংযোজন, মাধ্যমিক, উচ্চ মাধ্যমিক ছাড়াও এই সময়ের আরও কিছু বড় প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে হয়। জয়েন্ট এন্ট্রান্স তার মধ্যে অন্যতম। সেখানেও ফল খারাপ হতে পারে। তাতেও ভেঙে পড়ার কিছু নেই। কম্পিউটার সায়েন্স, ডেটা সায়েন্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সহ আরও নানা বিষয়ে ব্যাচেলর অফ সায়েন্স পড়ার সুযোগ রয়েছে।

Advertisement

যদি বিজ্ঞান নিয়ে পড়ার সুযোগ না-ও পাওয়া যায়, তা হলেও থমকে যাবে না ভবিষ্যৎ। তিনি জানান, সে ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্ট, অ্যাপ্লাইড সাইকোলজি-র মতো অনেক বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ থাকে। প্রথম থেকেই সে দিকে নজর রেখে নিজের পড়ার বিষয়গুলি বেছে নিতে হবে।

কিন্তু পারিবারিক চাপ, মানসিক ভাবে নিজেকে শক্ত করার উপায়?

“আমরা ব্লেমিং কে প্ল্যানিং দিয়ে কনভার্ট করব’’, বলছেন মনোবিদ অনুত্তমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর মতে, কেন ফল ভাল হল না? তাই নিয়ে দোষারোপ না করে, কী হলে ভাল হতে পারত তাই নিয়ে সদর্থক আলোচনা অনেক বেশি অভিপ্রেত।

চিকিৎসক, ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু এমন তো হতেই পারে, তা পূরণ হল না। তাতেও শেষ হয়ে যায় না সব কিছু। এখন পেশাভিত্তিক কোর্সের ছড়াছড়ি। যোধপুর পার্ক বয়েজ় স্কুলের প্রধান শিক্ষক অমিত সেন মজুমদারের কথায়, ‘‘দক্ষতা ভিত্তিক পঠনপাঠন বা স্কিল বেসড এডুকেশন যুগ এখন। তাই ভেঙে পড়ার পরিবর্তে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। কোন বিষয় নিয়ে পড়ার পথ খোলা রইল সেই দিকে নজর দেওয়া খুব দরকার।’’

তথাকথিত পাঠ্যবিষয়গুলির সঙ্গেই উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পেশাভিত্তিক বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ রয়েছে। তাতে পড়ুয়াদের পরবর্তী জীবনে পথ চলতে সুবিধাই হবে বলে মনে করেন অমিত। রিটেল, ইলেকট্রিক, বিউটিশিয়ান-সহ নানা ধরনের বিষয় নিয়ে পড়া যায় আজকাল।

ভাল ফল না হওয়া বা অনুত্তীর্ণ হলে সন্তানের পাশে থাকার দায়িত্বভার থাকে সবচেয়ে প্রথমে পরিবারের উপর। মনোবিদ অনিরুদ্ধ দেবের কথায়, “ভাল ফল নিয়ে চারিদিকে মাতামাতি হয়ে থাকে। আর খারাপ ফল হলেই কোণঠাসা করে দেওয়া একেবারেই ঠিক নয়।” তিনি মনে করেন, ‘কী রে, ফল কেমন হল?’— এ প্রশ্ন বড়জোর দু’মাস ঘোরাফেরা করে কানের পাশে। তার পর আর কেউ মনে রাখেন না, ফল ভাল হয়েছিল নাকি খারাপ! বরং কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়াই সাফল্য।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement