গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
বিচারবিভাগের প্রতি অবমাননার স্বতঃপ্রণোদিত মামলায় অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইটি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত। পাশাপাশি, স্কুল শিক্ষা দফতর এবং এনসিইআরটি-র বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার মামলাও দায়ের হয়েছে। পাঠ্য বিষয় সংশোধন করার কথা সরকারি তরফে জানানোর পরই বই যাতে বিক্রি না হয়, তা সুনিশ্চিত করতে তৎপর ন্যাশনাল কাউন্সিল অফ এডুকেশনাল রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং (এনসিইআরটি)। জানা গিয়েছে, সমস্ত ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে বইগুলি ফেরত দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনসিইআরটি-র পাবলিকেশন বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে দফতরের ফোন বেজে গিয়েছে। কোনও উত্তর পাওয়া যায়নি।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের নির্দেশ অনুযায়ী বই ফেরত নেওয়া হচ্ছে। এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮টি কপি বিক্রি করা হয়েছিল, যার মধ্যে ১৬টি ফেরত এসেছে। এর মধ্যে তিনটি বই অনলাইনে টাকা পাঠিয়ে কেনা হয়েছিল, তাই ক্রেতার যোগাযোগ নম্বর পাওয়া যায়নি।
সম্প্রতি এনসিইআরটি-র অষ্টম শ্রেণির সমাজবিজ্ঞানের বইয়ে ‘সমাজে বিচারব্যবস্থার ভূমিকা’ অধ্যায়ে বিচারব্যবস্থায় ‘দুর্নীতি’র উল্লেখ পাওয়া যায়। বইয়ের ওই নির্দিষ্ট অধ্যায়ে পর্যাপ্ত বিচারকের অভাব, জটিল আইনি প্রক্রিয়া এবং আদালতের উপযুক্ত পরিকাঠামোর অভাবের মতো কারণে মামলা অমীমাংসিত থাকার কথাও লেখা হয়েছিল। সেই ঘটনায় কার্যত হতবাক শীর্ষ আদালত। ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত বলেন, “উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই বিচারব্যবস্থাকে অবমাননা করা হয়েছে এবং এ ধরনের ঘটনা কোনও ভাবে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।”
বুধবার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এনসিইআরটি ক্ষমা প্রার্থনা করে জানায়, এই ত্রুটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃত এবং তারা ক্ষমাপ্রার্থী। বৃহস্পতিবারের মামলায় এ বিষয়ে কড়া মন্তব্য করেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। তিনি স্পষ্ট বলেন, “এই ক্ষমা প্রার্থনা আদৌ আন্তরিক, না কি উদ্ভুত পরিস্থিতি থেকে পরিত্রাণের কৌশল, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে।”