কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ছবি: সংগৃহীত।
গবেষণার জন্য পৃথক প্রবেশিকা পরীক্ষা (রেট) বন্ধ করে দিল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, এ বার থেকে নেট, সেট দিয়েই পিএইচডি করার সুযোগ পাবেন পড়ুয়ারা। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘রেট’ নামক যে প্রবেশিকা পরীক্ষা ছিল, তা বন্ধ করা হল।
এরই পাশাপাশি বিশেষ কমিটি গড়ে খতিয়ে দেখা হবে অধীনস্থ কলেজগুলিতে গবেষণার উপযুক্ত পরিকাঠামো আছে কি না। সরেজমিন পরিদর্শনের পর সিদ্ধান্ত হবে, ওই সব কলেজের আওতায় পিএইচডি করানো যাবে কি না। সম্প্রতি একগুচ্ছ নতুন নির্দেশিকা নিয়ে প্রকাশিত হয়েছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘পিএইচডি রেগুলেশন।’
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, গত মাসে এই বিধি প্রকাশ করেন কর্তৃপক্ষ। সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে, তাঁদের অধীনে যে সব কলেজে গবেষণা করা হয় সেখানে পরিকাঠামো আদৌ উপযুক্ত কিনা সেই সব সরেজমিনে খতিয়ে দেখা হবে। কলেজ পরিদর্শক (ইনস্পেক্টর অফ কলেজেস), পিজি স্টাডিজের ফ্যাকাল্টি কাউন্সিলের ডিন এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের অধ্যাপক পদ মর্যাদার অন্তত দু’জন প্রতিনিধিকে নিয়ে একটি কমিটি তৈরি হবে। সেই কমিটির দায়িত্ব থাকবে কলেজে যথাযথ গাইড রয়েছেন কি না, গবেষণা করার মত সব পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিসার জানান, আসলে কর্তৃপক্ষ চাইছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মানের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই গবেষণা হোক। এ ক্ষেত্রে কোনও আপোস করতে নারাজ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপশি রাজ্য স্তরের স্টেট এলিজিবিলিটি টেস্ট বা সেট এবং সর্বভারতীয় ক্ষেত্রের প্রবেশিকা পরীক্ষা ন্যাশনাল এলিজাবিলিটি টেস্ট বা নেট, গেট এবং জিপ্যাট-কেই যোগ্যতার নির্ণায়ক হিসেবেই চূড়ান্ত করতে চাইছেন।
নতুন বিধিতে এসআরএসি (স্টুডেন্ট রিসার্চ অ্যাডভাইসারি কমিটি) গঠনের কথা বলা হয়েছে। ওই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে রিসার্চ সুপারভাইজারকে। এ ছাড়া কমিটিতে থাকবেন বাইরে থেকে আসা সংশ্লিষ্ট বিষয়ের এক জন বিশেষজ্ঞ এবং কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ এক বিশেষজ্ঞ। তাঁরাই গবেষক পড়ুয়াকে পরামর্শ দেবেন। এর ফলে তাঁর গবেষণার মান অনেক উন্নত হবে বলেই মত কর্তৃপক্ষের।
উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “গবেষণার মান আরও উন্নত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। যে কারণে বিধিতে কিছু বদল হল। পড়ুয়াদের এবং সকলের জন্য সেটা ভাল হবে বলেই আমার বিশ্বাস।”
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন কুটা র সভাপতি সাগরময় ঘোষ বলেন, “নতুন পরিবর্তনের ফলে গবেষণার মান কতটা উন্নত হবে সেটা সময়ই বলবে। আমাদের বিশ্বাস, মান এবং ঐতিহ্য অটুট রেখে আগামী দিনে শুধু গবেষণা নয় সার্বিক পড়াশোনার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় আরও এগিয়ে যাবে।”