মুসুর ডালবাটায় ত্বকের উপকারিতা। ছবি: সংগৃহীত।
ত্বকের যত্নে ঘরোয়া টোটকার কদর কোনও দিনই কমেনি। রান্নাঘরে থাকা নানা উপাদান দিয়েই অনেকেই ত্বকের পরিচর্যা করেন। সেই তালিকায় বহু বছর ধরে জায়গা করে আছে মুসুর ডাল। দিদিমা-ঠাকুমাদের সময় থেকে মুসুর ডালের বাটা ত্বকে লাগানোর চল রয়েছে। এখন সমাজমাধ্যমে এই উপাদানের নতুন করে জনপ্রিয়তা বেড়েছে। এই ডালবাটা নিয়ম করে মাখলে ত্বক উজ্জ্বল, মসৃণ, কোমল এবং পরিষ্কার দেখাতে পারে। কিন্তু কী ভাবে?
মুসুর ডালে রয়েছে প্রোটিন, অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান। ডাল বেটে ত্বকে লাগালে তা হালকা প্রাকৃতিক স্ক্রাবের কাজ করতে পারে। ফলে ত্বকের উপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর হতে পারে। এর ফলে ত্বক তুলনামূলক ভাবে আগের থেকে কোমল হয়। মুসুর ডালের দানাদার গঠন ত্বককে আলতো ভাবে এক্সফোলিয়েট করতেও সাহায্য করে। তবে খুব জোরে ঘষলে ত্বকে জ্বালা বা আঘাত লাগতে পারে।
মুসুর ডালের বাটা ত্বকে মাখুন। ছবি: সংগৃহীত
কী এর উপকারিতা?
· ত্বকের উপরের মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করতে পারে।
· ত্বকের মসৃণতা এবং কোমলতা বাড়াতে পারে।
· সাময়িক ভাবে ত্বকে ঔজ্জ্বল্য আনে।
· ত্বকের রোমছিদ্র পরিষ্কার করে খুলে দিতে পারে।
· অতিরিক্ত তেল ও ময়লা পরিষ্কারে সাহায্য করতে পারে।
· ত্বকের গঠন কিছুটা উন্নত করতে পারে
কী ভাবে তৈরি করবেন?
সবচেয়ে সহজ উপায় হল ১-২ চামচ মুসুর ডাল কয়েক ঘণ্টা জলে ভিজিয়ে রাখতে হবে। তার পর তা মিহি করে বেটে পেস্ট তৈরি করতে হবে। অনেকে এর সঙ্গে দই, কাঁচা দুধ, মধু বা গোলাপজলও মেশান। তবে ত্বকের ধরন অনুযায়ী উপাদান বেছে নেওয়া ভাল।
শুষ্ক ত্বকের জন্য: মুসুর ডালের পেস্টের সঙ্গে সামান্য দই বা মধু মেশানো যেতে পারে। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে।
তৈলাক্ত ত্বকের জন্য: গোলাপজল বা সামান্য টক দই মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ত্বকে সতেজ অনুভূতি আসতে পারে।
প্রথমে মুখ পরিষ্কার করে নিন। তার পর সমান ভাবে ফেসপ্যাকটি লাগিয়ে ১০-১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। খানিক পরে মুখের উপরের পরত শক্ত হয়ে যাবে। তার পর আলতো হাতে মাসাজ করতে করতে ধুয়ে ফেলুন। শেষে ময়েশ্চারাইজ়ার ব্যবহার করতে ভুলবেন না। নয়তো ত্বক শুষ্ক হয়ে যাবে। তবে রোজ নয়, সপ্তাহে দু’বার মাখলেই যথেষ্ট।