NMC MBBS Time Limit

১০ বছরে পাশ করতেই হবে মেডিক্যাল, সময় বেঁধে দিতে চায় এনএমসি, কী বলছেন চিকিৎসকেরা?

সংশোধিত ‘গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) রেগুলেশন ২০২৬’ অনুযায়ী চিকিৎসাবিদ্যা প়ড়ার নিয়মে খানিক পরিবর্তন করা হয়েছে। সাড়ে পাঁচ বছর পরেও যদি কোনও পরীক্ষার্থী এমবিবিএস পাশ না করতে পারেন, তা হলে সে মোট চার বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৯:৫৬
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

১০ বছরের মধ্যে পাশ করতেই হবে এমবিবিএস। না হলে আর সুযোগ পাবেন না কোনও পড়ুয়া। সম্প্রতি ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন-এর (এনএমসি) তরফে এই মর্মে একটি সংশোধনী খসড়া প্রকাশ করেছে। যেখানে বলা হয়, ২০২৩-এর নিয়মের পরিবর্তন করতে চাইছে তারা।

Advertisement

অনির্দিষ্ট কাল এমবিবিএস-এর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ায় ইতি টানা হয়েছিল ২০২৩-এই। সে সময় ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশন-এর (এনএমসি) ‘গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন রেগুলেশন ২০২৩’-এ বলা হয়েছিল, সাড়ে পাঁচ বছরের এমবিবিএস পাঠ্যক্রম শেষ করার জন্য সর্বোচ্চ ন’বছরের সময় পাবেন পড়ুয়া। সেই মেয়াদই আরও এক বছর বৃদ্ধি করার প্রস্তাব আনা হয়েছে।

সংশোধিত ‘গ্র্যাজুয়েট মেডিক্যাল এডুকেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) রেগুলেশন ২০২৬’ অনুযায়ী ওই নিয়মে খানিক পরিবর্তন করা হয়েছে। সাড়ে পাঁচ বছর পরেও যদি কোনও পরীক্ষার্থী এমবিবিএস পাশ না করতে পারেন, তা হলে সে মোট চার বার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন। সেই চার বারের মধ্যেই তাঁকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করতে হবে। এতে কি আদৌ উপকার হচ্ছে পড়ুয়াদের?

Advertisement

চিকিৎসক এবং অধ্যাপক হীরক মজুমদার বলছেন, ‘‘বহু বছর আগে এমবিবিএস উত্তীর্ণ হওয়ার কোনও সময়সীমা বাঁধা ছিল না। কিন্তু পরে এই নিয়মে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এমবিবিএস-এর ডিগ্রি কোর্সের মেয়াদ বৃদ্ধি করলে সমস্যা হত। কিন্তু যে হেতু উত্তীর্ণ হওয়ার মেয়াদ বেঁধে দেওয়া হয়েছে তাতে পড়ুয়াদেরই ভাল হবে। যে কোনও পাঠ্যক্রম শেষ করার সময়সীমা থাকা উচিত।’’

যদিও চিকিৎসক মানস গুমটা বলছেন, ‘‘এই মর্ডান মেডিসিনের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ক্রমশ যে জায়গায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মেডিক্যাল পড়ুয়ারা। মেধার গুরুত্ব কমছে তাই পাশ করার সুযোগ বৃদ্ধি হচ্ছে।” তিনি মনে করেন, একজন পড়ুয়া ফেল করতে করতে অবশেষে গিয়ে পাশ করছে এমবিবিএস। ফলে বোঝাই যাচ্ছে উৎকর্ষ কমছে। মানস গুমটা বলেন, “এনএমসি এখন চিকিৎসাবিদ্যাকে ব্যবসাদারদের হাতে তুলে দিচ্ছে। তার জন্য যে ভাবে আইন শিথিল করা প্রয়োজন, তা করছে। এমন পরিস্থিতি এমনই যে, প্রবেশিকায় পদার্থবিদ্যা, রসায়ন-এ শূন্য পেয়েও চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়া যাচ্ছে।’’

বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলি নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। তাঁর দাবি, যে কোনও ব্যক্তি বেসরকারি হাসপাতাল ও কলেজ খুলে ফেলতে পারছেন। তাঁর কথায়, “সেখানে আসন নিলামে বিক্রি হচ্ছে! ফেল করতে করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ১০ বছরে এমবিবিএস সম্পূর্ণ করছে মানেই চিকিৎসাবিজ্ঞানে মেধার গুরুত্ব কমছে।’’

চিকিৎসাবিজ্ঞান পড়ার জন্য দ্বাদশে বিজ্ঞান বিষয় থাকা বাধ্যতামূলক। তারপর ন্যাশনাল এলিজিবিলিটি কাম এন্ট্রান্স টেস্ট উত্তীর্ণ হতে হয়। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ পরীক্ষার্থী এই প্রবেশিকা দিয়ে থাকেন। ভাল কাট অফ নম্বর পাওয়া বেশির ভাগ পড়ুয়াই সুযোগ পান সরকারি মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পড়াশোনা করার। আর তার পর বেসরকারি কলেজেও ভর্তি হন অনেক পড়ুয়া। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা মূলক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েই পড়ুয়ারা সুযোগ পাচ্ছেন এমবিবিএস পড়ার।

ইন্টার্নশিপ-সহ সাড়ে পাঁচ বছরের কোর্স এমবিবিএস। একেবারে এই কোর্সে কেউ উত্তীর্ণ হতে না পারলে সর্বশেষ মেয়াদ ১০ বছর। এর মধ্যে অ্যানাটমি, বায়োকেমিস্ট্রি, ফিজ়িয়োলজি নিয়ে প্রথম বছর শেষ করতে হবে সর্বাধিক চার বারের চেষ্টায়, এই নিয়ম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, সর্বাধিক তিন বার সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ মিলবে। এর মধ্যে পাশ করতে না পারলে স্বাভাবিক ভাবেই এমবিবিএস পড়ায় ইতি পড়বে বলে ওই বিধিতে জানানো হয়েছে। ধার্য ১০ বছরের মধ্যে এক বছরের ইন্টার্নশিপ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

এই বিষয়ে চিকিৎসক তুষারকান্তি ঘোষ বলেছেন, ‘‘বছরের পর বছর এমবিবিএস পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া গেলে পড়াশোনার কোনও রকমই আগ্রহ থাকবে না। চিকিৎসাবিজ্ঞান খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং দায়িত্ব নির্ভর পেশা। একটা সময়সীমা থাকা উচিত। এখন পাশের হারও বৃদ্ধি হয়েছে। তাই ১০ বছরের মধ্যেও যদি কেউ উত্তীর্ণ না হতে পারে তা হলে চিকিৎসাবিজ্ঞান না পড়াই ভাল।’’

ন্যাশনাল মেডিক্যাল কমিশনের (এনএমসি) তথ্য অনুযায়ী, ৮১৮টি মেডিক্যাল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩৭৪টি। এর মধ্যে বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানই নির্দিষ্ট কিছু সরকারি হাসপাতালের অধীনে অনুমোদন অর্জন করেছে। রাজ্যে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১টি। সরকারি এবং বেসরকারি মিলিয়ে রাজ্যে মেডিক্যাল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে ৩৮টি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement