নিজস্ব চিত্র।
সময় মাত্র ১ ঘণ্টা ১৫ মিনিট, উত্তর দিতে হবে ৪০ নম্বরের প্রশ্নের। উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম পর্বে এই নিয়মেই শুরু হয়েছে পরীক্ষা। কলা বিভাগের বিষয়গুলি নিয়ে তেমন সমস্যা না থাকলেও পরীক্ষার্থী থেকে অভিভাবক এমনকি কোনও কোনও শিক্ষকও আশঙ্কা প্রকাশ করছেন অঙ্ক ও অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে।
সোমবার থেকে শুরু হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা। এ বছরই প্রথম দু’টি সেমেস্টার ভেঙে পরীক্ষা হচ্ছে। প্রথম দিনের পরীক্ষার পরই অনেক পরীক্ষার্থী বলছে, অঙ্ক বা অ্যাকাউন্টেন্সির মতো বিষয়, যার সমাধান করতে খানিকটা সময় লাগে, সেগুলির ক্ষেত্রে এই ১ঘণ্টা ১৫মিনিট যথেষ্ট নয়। বিধাননগরের ভগবতীদেবী বালিকা বিদ্যালয়ে পরীক্ষা দিতে এসেছিল সঞ্জনা বিশ্বাস। সে বলেন, “প্রশ্ন সোজা হলে কিছুটা সুবিধা। কিন্তু একটু ঘুরিয়ে প্রশ্ন করা হলে সমস্যা তো হবেই। তার ওপর ক্যালকুলেটর ব্যবহারেও রয়েছে নিষেধাজ্ঞা।”
এরই সঙ্গে উঠে এসেছে বই হাতে না পাওয়ার বিষয়টিও। অভিভাবকেরা অনেকেই অভিযোগ করেছেন, কম সময়ে পাঠ্যক্রম শেষ করতে হয়েছে। সময় মতো বই পাওয়া যায়নি হাতে। ওএমআর-এ পরীক্ষা হওয়ায় প্রতিটি বই খুঁটিয়ে পড়ে পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। তাই দাবি উঠেছে অঙ্ক ও অ্যাকাউন্টেন্সির জন্য যাতে অতিরিক্ত সময় বরাদ্দ করা হয়।
যদিও সে সম্ভাবনার কথা নস্যাৎ করে দিয়েছেন উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্য বলেন, “এ বছর কোনও পরীক্ষার সময়সীমা বাড়ানো যাবে না। তাতে আইনি জটিলতা তৈরি হবে। পরের বছর থেকে আমরা ভাবনা চিন্তা করে দেখব কী করা যায়।”
একাংশ শিক্ষকও মনে করছেন একটি অঙ্ক কষার জন্য গড়ে দু’মিনিটের কম সময় পাবে পরীক্ষার্থীরা। তাতে সাধারণ মেধার পরীক্ষার্থীদের বেশ অসুবিধায় পড়তে হতে পারে। তবে অনেক শিক্ষক আবার মনে করছেন, এতে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। কারণ, প্রশ্ন এমনভাবেই সাজানো হয়েছে যাতে ওই সময়ের মধ্যে অঙ্ক কষা যায়।
পার্ক ইনস্টিটিউশনের অ্যাকাউন্টেন্সির শিক্ষক নরোত্তম দাস বলেন, “পরীক্ষার্থীরা যদি ঠিক মতো পড়াশোনা করে থাকে, তা হলে তেমন অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। এই সময়সীমার মধ্যেই সব উত্তর ওরা দিতে পারবে।”
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের সচিব প্রিয়দর্শনী মল্লিকও বলেন, “অহেতুক এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। প্রশ্ন এমন ভাবেই করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সকলে সমস্ত উত্তর দিতে পারে।”