— প্রতীকী চিত্র।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী মহিলা ভোটকর্মীদের দায়িত্ব দেওয়া হবে তাঁদের বাসস্থান বা কর্মস্থলের নিকটবর্তী কোনও ভোটকেন্দ্রে। কিন্তু বাস্তব তা ঘটছে না, অভিযোগ এমনই।
আগামী ২৩ এপ্রিল রাজ্যের বেশ কিছু জেলায় ভোটগ্রহণ। ওই সব জেলায় ইতিমধ্যেই নির্বাচনী দায়িত্ব সংক্রান্ত চিঠি পেয়েছেন কর্মীরা। সেখানেই অভিযোগ উঠেছে, বহু দূরে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে মহিলা কর্মীদের। কারও বাড়ি থেকে ‘ডিসিআরসি’-র (ডেলিভারি সেন্টার রিসিভিং সেন্টার) দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। কারও ৫৫ কিলোমিটার।
দ্রুত এই দায়িত্ব প্রত্যাহার করে মহিলা ভোটাকর্মীদের বাড়ির কাছের ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব দেওয়ার দাবি তুলেছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চ (ভোটকর্মী শাখা)। যদিও নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, যে সার্বিক ভাবে মহিলাদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই যাবতীয় ব্যবস্থা করা হয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রেমবাজারের এক শিক্ষিকা জানিয়েছেন, তাঁর কর্মস্থল থেকে ডিসিআরসি-র (যে কেন্দ্র থেকে ভোট সংক্রান্ত সামগ্রী গ্রহণ করতে এবং জমা দিতে হয়) দূরত্ব প্রায় ৭৭ কিলোমিটার। বাড়ি থেকেও ওই কেন্দ্রের দূরত্ব প্রায় ৫০ কিলোমিটার। আবার খড়গপুরের একটি স্কুলের শিক্ষিকা জানান, তাঁর বাড়ি খড়গপুর সদর। ৫৫ কিলোমিটার দূরে বেলদায় ‘ডিসিআরসি’ পড়েছে তাঁর। অর্থাৎ, আগের রাতেই ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে যেতে হবে তাঁদের। ওই শিক্ষিকাদের দাবি, রাতে তাঁরা কোথায় থাকবেন তা জানানো হয়নি নির্বাচন কমিশনের তরফে। আবার ভোট শেষে ইভিএম-সহ সব সামগ্রী জমা দিয়ে কখন বাড়ি ফিরবেন, তা-ও বুঝতে পারছেন না। ফলে নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন।
খড়্গপুরের বাসিন্দা এক শিক্ষিকা দাবি করেন, যে গাড়ির বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার কথা, তা বাড়ি পর্যন্ত আসে না। তিনি বলেন, “২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে ভোটের দায়িত্ব পড়েছিল। রাতে খড়গপুরের কোনও বাস স্ট্যান্ডের কাছে আমাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।” ২০২৪ লোকসভা নির্বাচনেও খারাপ অভিজ্ঞতা হয়েছিল বলে জানিয়েছেন এক শিক্ষিকা। তাঁর দাবি, আগের রাতে ভোটকেন্দ্রে চলে গিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু সেখানে রাত্রিবাসের ন্যূনতম ব্যবস্থা ছিল না। না ছিল যথাযথ আলোর বন্দোবস্ত, না ব্যবহারের উপযোগী শৌচাগার।
মহিলা ভোটকর্মীদের ন্যূনতম পরিষেবা না দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন শিক্ষানুরাগী ঐক্যমঞ্চের ভোটকর্মী শাখার সাধারণ সম্পাদক কিংকর অধিকারী। তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচন কমিশনের তরফে স্পষ্ট নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছিল, মহিলা ভোটকর্মীদের বাড়ি বা কর্মস্থলের নিকটবর্তী কেন্দ্রে কাজের দায়িত্ব দিতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটা হচ্ছে না। আমাদের দাবি অবিলম্বে এই তালিকা প্রত্যাহার করে নতুন ভাবে তাঁদের বাড়ির কাছের ভোটকেন্দ্রের দায়িত্ব দিতে হবে।” পাশাপাশি মহিলা ভোটকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার দাবিও তোলেন তাঁরা।
তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে সার্বিক ভাবে এই অভিযোগ স্বীকার করা হয়নি। কমিশনের এক কর্তা দাবি করেন, বিচ্ছিন্ন ভাবে কোনও মহিলাকর্মীর দায়িত্ব বাড়ি থেকে দূরে পড়তে পারে। কিন্তু এ চিত্র সার্বিক নয়। তিনি বলেন, “মহিলাদের নিরাপত্তার বিষয়ে কমিশন যথেষ্ট তৎপর। রাতে বাড়ি ফেরার জন্য গাড়ির ব্যবস্থাও করা হয়েছে। যেখানে তাঁরা থাকবেন সেখানেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, কোনও কোনও ভোটকর্মীকে পার্শ্ববর্তী বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্ব নিতেই হবে। কমিশনের নিয়মে তার উল্লেখ রয়েছে।