Calcutta University

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করবে কলেজ-গোষ্ঠী! স্নাতক চতুর্থ বর্ষের জন্য বিশেষ ভাবনা কর্তৃপক্ষের

নিয়ম অনুযায়ী কোনও কলেজ এই কোর্স তখনই করাতে পারবে, যখন নির্দিষ্ট বিভাগে অন্তত দু’জন শিক্ষকের পিএইচডি থাকবে। সমস্যা হতে পারে ঠিক এই ক্ষেত্রেই। সংশ্লিষ্ট কলেজে নির্দিষ্ট বিষয়ের দু’জন পিএইচডি-প্রাপ্ত শিক্ষক না থাকলে কী করবেন পড়ুয়ারা?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৪৬
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

কলেজগুলিকে একত্রে বাঁধতে চাইছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশেষ গোষ্ঠী তৈরির ভাবনাচিন্তা চলছে। এমনই জানা গিয়েছে কর্তৃপক্ষের তরফে।

Advertisement

আদতে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় অধীনস্থ কলেজগুলিতে শুরু হচ্ছে ‘অনার্স উইথ রিসার্চ’ কোর্স। ২০২৬ থেকেই স্নাতক স্তরে এই কোর্স চালু করার ক্ষেত্রে নতুন কিছু নিয়মও চালু করছেন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কিন্তু এতে জটিলতা তৈরি হতে পারে পড়ুয়াদের মধ্যে। অনেকেই মনে করছেন এমন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছেন, এই সমস্যা সমাধানের পথ বার করতে দ্রুত আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

কী সেই জটিলতা?

Advertisement

নিয়ম অনুযায়ী কোনও পড়ুয়া স্নাতকের ষষ্ঠ সেমেস্টারে ৭৫ শতাংশ নম্বর পেলে তাঁরা স্নাতকের চতুর্থ বর্ষে অনার্স উইথ রিসার্চ কোর্স করতে পারবেন। তারপরে সরাসরি গবেষণার জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন। তাঁদের স্নাতকোত্তর কোর্স করতে হবে না। কিন্তু নিয়ম অনুযায়ী কোনও কলেজের কোনও বিভাগ এই কোর্স তখনই করাতে পারবে যদি সংশ্লিষ্ট বিভাগে অন্তত দু’জন শিক্ষকের পিএইচডি থাকে। সমস্যা হতে পারে ঠিক এই ক্ষেত্রেই। সংশ্লিষ্ট কলেজে নির্দিষ্ট বিষয়ের দু’জন পিএইচডি-প্রাপ্ত শিক্ষক না থাকলে কী করবেন পড়ুয়ারা?

কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ জানান, পড়ুয়াদের যাতে কোনও সমস্যা না হয়, সে জন্য ইতিমধ্যেই ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে। এই পরিস্থিতি তৈরি হলে মূলত দু’টি পথ খোলা থাকছে বলে তাঁর অভিমত।

Advertisement

প্রথমত, যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি হয় তা হলে কোনও পড়ুয়া যে কলেজে ভর্তি হতে চান সেই কলেজের পোর্টালের মাধ্যমে ভর্তি হতে পারবেন।

দ্বিতীয়ত, কয়েকটি কলেজকে নিয়ে একটি গোষ্ঠী বা ‘ক্লাস্টার’ তৈরি করার কথা ভাবা হচ্ছে। অর্থাৎ এমন কয়েকটি কলেজকে নিয়ে একটি ‘ক্লাস্টার’ তৈরি করা হবে, যেখানে পড়ুয়ারা সহজে স্নাতক পড়ার পর অন্য কলেজে অনার্স উইথ রিসার্চ করতে যেতে পারবেন।

ধরা যাক কোনও পড়ুয়া পদার্থবিদ্যায় এই কোর্স করতে চান। ওই বিষয়ে তাঁর কলেজে অন্তত দু’জন পিএইচডি না থাকলে তিনি ক্লাস্টারের অন্য কলেজে যেতে পারবেন চতুর্থ বর্ষের কোর্স শেষ করতে।

যদিও এ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পরই সিদ্ধান্ত হবে বলে উপাচার্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘‘আমরা ইতিমধ্যেই ভাবনা চিন্তা শুরু করেছি। দ্রুত এই সমস্যার একটি সমাধানের একটি পথ চূড়ান্ত করে ফেলা হবে। পড়ুয়াদের কোনও রকম অসুবিধা হতে দেব না।’’ নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ ষড়ঙ্গিও বলেন, ‘‘ইউজিসি-র নিয়মের লঙ্ঘন করা যাবে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্তৃপক্ষ সুনির্দিষ্ট নির্দেশিকা দেবেন। অসুবিধা হবে না।’’

বিশ্ববিদ্যালয়ের এক আধিকারিক জানান, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১৫৬ টি কলেজ রয়েছে। তার মধ্যে যে কলেজগুলি যথাযথ পরিকাঠামো এবং ইউজিসি-র শর্ত পূরণ করতে পারবে সেখানেই এই কোর্স চালু হবে। তার পর ক্লাস্টার তৈরির বিষয়ে ভাবনাচিন্তা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement