West Bengal School Service Commission

উচ্চ প্রাথমিকের কাউন্সেলিং এখনও বাকি, শূন্য পদের অপেক্ষায় এসএসসি

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এমন নির্দেশের পরেও এখনও কাউন্সেলিং শুরুই হয়নি। উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীরা জানাচ্ছেন, ৩০ মার্চ আসতে আর ১২ দিন বাকি। এর মধ্যে আবার রাজ্য সরকারের ছুটিও রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:১৬
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আগামী ৩০ মার্চের মধ্যে উচ্চ প্রাথমিকের বাকি থাকা ১২৪১ জনের কাউন্সেলিং সম্পন্ন করতে হবে। সেই সঙ্গে ৩০ মার্চ শিক্ষা সচিব, স্কুল শিক্ষা কমিশনার, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সচিবকে আদালতে হাজিরা দিয়ে জানাতে হবে, উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ কত দূর সম্পন্ন হয়েছে। নির্দিষ্ট ওই সময়ের মধ্যে কাউন্সেলিং সম্পন্ন না হলে সংশ্লিষ্ট চার জনের বিরুদ্ধে রুল জারিও করা হতে পারে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের এমন নির্দেশের পরেও এখনও কাউন্সেলিং শুরুই হয়নি। উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীরা জানাচ্ছেন, ৩০ মার্চ আসতে আর ১২ দিন বাকি। এর মধ্যে আবার রাজ্য সরকারের ছুটিও রয়েছে। ফলে, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ১২৪১ জনের কাউন্সেলিং আদৌ শেষ করা যাবে কিনা, সেই প্রশ্ন উঠেছে।

উচ্চ প্রাথমিকের চাকরিপ্রার্থীরা জানাচ্ছেন, ১৪০৫২ জনের মেধা তালিকা প্রকাশ হয়েছিল ২০২৪ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর। তবে, সেই তালিকায় নাম থাকা কিছু চাকরিপ্রার্থীর শিক্ষাগত
যোগ্যতায় ত্রুটি থাকায় ১৩৯৬৪ জন প্রার্থীর চূড়ান্ত মেধা তালিকা প্রকাশিত হয়। এর পরে কাউন্সেলিং করে সুপারিশপত্র দেওয়ার কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর। এখনও পর্যন্ত আট দফায় মোট ১২৭২৩ জনের কাউন্সেলিং সম্পন্ন হয়েছে।

উচ্চ প্রাথমিকের এক চাকরিপ্রার্থী সুশান্ত ঘোষ জানান, গত বছর ১ অগস্ট অষ্টম দফার কাউন্সেলিং হয়েছে। তার পর থেকে কাউন্সেলিং বন্ধ। সুশান্ত বলেন, ‘‘২০২৪ সালের ২৮ অগস্ট উচ্চ প্রাথমিকে নিয়োগ নিয়ে রায় দানের সময়েই হাই কোর্ট নির্দেশ দিয়েছিল, তার পরের চার সপ্তাহে মেধা তালিকা প্রকাশ করতে হবে। মেধা তালিকা প্রকাশের পরবর্তী চার সপ্তাহে সুপারিশপত্র প্রদান এবং তারও
পরবর্তী চার সপ্তাহে নিয়োগপত্র দিতে হবে। কিন্তু, নিয়োগ প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ না হওয়ায় ২০২৫ সালের ৮ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ আপার প্রাইমারি চাকরিপ্রার্থী মঞ্চের তরফে আদালত অবমাননার মামলা করি। সেই মামলায় ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নির্দেশ হয়, ২০ নভেম্বরের মধ্যে বাকি থাকা ১২৪১ জনের কাউন্সেলিং সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু সেই নির্দেশও কার্যকর হয়নি।’’ এর পরে ফের গত ২৪ ফেব্রুয়ারি আদালত নির্দেশ দেয়, ৩০ মার্চের মধ্যে কাউন্সেলিং সম্পন্ন করতে হবে। শিক্ষা দফতরের চার আধিকারিক— শিক্ষা সচিব, স্কুল শিক্ষা কমিশনার, স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সচিবকে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে তাঁদের বিরুদ্ধে রুল জারিও হতে পারে।

চাকরিপ্রার্থীদের প্রশ্ন, ২০১৫ সালে টেট দেওয়ার পরে কেটে গিয়েছে ১১ বছর। আর কত অপেক্ষা করতে হবে? বাকি থাকা ১২৪১ জনের নিয়োগ সম্পন্ন না হলে মাতঙ্গিনী হাজরার পাদদেশ থেকে ধর্না ও বিক্ষোভ মঞ্চ তাঁরা তুলবেন না বলেও জানিয়েছেন। বুধবার ছিল সেই ধর্না মঞ্চের ১১৭৭ দিন। যদিও স্কুল সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান সিদ্ধার্থ মজুমদার বলছেন, ‘‘শিক্ষা দফতর থেকে এখনও ১২৪১ জনের শূন্য পদ পাঠায়নি। শিক্ষা দফতর শূন্য পদ পাঠালেই কাউন্সেলিং শুরু করব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন