ছবি: সংগৃহীত।
পড়ুয়ারা আদৌ কি সকলে ব্যাগ, পোশাক ও জুতো পেয়েছে? সেই তথ্য গত এপ্রিলে জানতে চেয়েছিল স্কুলশিক্ষা দফতর। কিন্তু প্রায় দু’মাস হতে চললেও জেলা স্কুল পরিদর্শকদের তরফে সেই রিপোর্ট না পাওয়ায় অসন্তুষ্ট দফতরের কর্তারা। ফের সেই তথ্য চেয়ে পাঠাল বিকাশ ভবন।
সূত্রের খবর, এই তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত পরবর্তী পদক্ষেপ করতে পারছেন না কর্তৃপক্ষ। তৃণমূল সরকারের আমলে প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের পড়ুয়াদের পোশাক দেওয়ার প্রকল্প শুরু হয়। দেওয়া হয় ব্যাগ এবং জুতোও। বছর খানেক আগে থেকে সেই পোশাকের রং নীল-সাদা করা নিয়ে বিতর্কও শুরু হয়েছিল। নীল-সাদা রঙের পরিবর্তে প্রতিটি স্কুলকে যেন নিজেদের মতো পোশাক ব্যবহার করতে দেওয়া হয় সেই দাবিও ইতিমধ্যে উঠেছে। ব্যাগে এবং পোশাকে যে বিশ্ববাংলার লোগো রয়েছে সেটিও পরিবর্তন করা হবে। কারণ নব নির্বাচিত বিজেপি সরকারের তরফে লোগো সরিয়ে অশোকস্তম্ভ এবং তার নীচে লেখা পশ্চিমবঙ্গ সরকার ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের সময়ে এপ্রিল মাসে স্থানীয় সার্কেল অফিস থেকে বেশ কিছু স্কুল ব্যাগ সংগ্রহ করেছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু নির্বাচনী আচরণ বিধি জারি হয়ে যাওয়ায় সেই ব্যাগ বিলি করা যায়নি। এমনকি বিজেপি সরকার গঠনের পরেও সেই ব্যাগ দিতে নিষেধ করা হয়েছে বলে জানান এক স্কুলের প্রধানশিক্ষক।
স্পষ্ট না বললেও দফতরের অনেকেই বলছেন, ব্যাগ বিলি বন্ধ রাখার আসল কারণ তাতে থাকা ‘বিশ্ববাংলা’ লোগোর ‘ব’। ক্ষমতায় এসে নতুন সরকার ওই লোগো বাতিল করেছে। তা আর কোনও ভাবেই কোথাও ব্যবহার করা যাবে না।
তা হলে তৈরি হয়ে যাওয়া ব্যাগগুলির কী হবে?
সূত্রের খবর, যে সব ব্যাগ পড়ুয়াদের দেওয়া হয়নি সেগুলি সংস্থার কাছে ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হবে। ওই লোগো তুলে দেবে সংস্থা। তার পর তা বিলি করা হবে। ইতিমধ্যে পোশাকের মান নিয়েই অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সে কারণে এই তথ্য সংগ্রহের পরে পরবর্তী পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে খবর।
দফতরের এক কর্তা জানান যে, প্রথমে ১৫ এপ্রিলের মধ্যে রিপোর্ট চাওয়া হয়েছিল। সেটা পাওয়া যায়নি। এ বারে শুক্রবারের মধ্যে রিপোর্ট চেয়ে পাঠানো হয়েছে।
বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘ আমরা নতুন সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলাম যে পোশাকের রঙ-এর বিষয়টি স্কুলের উপরেই এই দায়িত্ব দিয়ে দেওয়া হোক। এই বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ করলেই ভাল হয়। ’’