Abhishek Banerjee CID

রক্ষাকবচ চেয়ে অভিষেকের দ্রুত শুনানির আর্জি খারিজ হাই কোর্টে! দু’বার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন আইনজীবীরা

সই জাল-কাণ্ডে আগামী ৮ জুন অভিষেককে ভবানী ভবনে তলব করেছে সিআইডি। শুক্রবার হাই কোর্টে তাঁর আবেদনের শুনানি হয়নি। শুনানি হবে আগামী বুধবার। তার আগে সিআইডি-র ডাকে কি অভিষেক সাড়া দেবেন?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ জুন ২০২৬ ১৭:৩৩
Share:

তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।

বিধানসভায় সই জাল-কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার তাঁর মামলা শোনেনি আদালত। আইনজীবীরা দ্রুত শুনানির আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু হাই কোর্টের বিচারপতি চৈতালী চট্টোপাধ্যায় দাসের বেঞ্চ সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। বলা হয়েছে, আগামী বুধবার, ১০ জুন অভিষেকের মামলার শুনানি হবে।

Advertisement

সই জাল-কাণ্ডে আগামী ৮ জুন অভিষেককে ভবানী ভবনে তলব করেছে সিআইডি। এর আগে এক বার তিনি হাজিরা এড়িয়েছেন। সিআই়ডি-র কাছ থেকে ১৫ দিন সময় চেয়ে নিয়েছিলেন অভিষেক। কিন্তু তাঁকে ৮ তারিখ হাজিরা দিতে বলা হয়। এর পরই সিআইডি-র নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। তাঁকে গ্রেফতার করা হতে পারে— এই আশঙ্কা থেকে আগাম জামিনের আবেদনও জানান অভিষেক। শুক্রবার তাঁর আইনজীবীরা বিচারপতি দাসের এজলাতে এই মামলার দ্রুত শুনানির আর্জি জানিয়েছিলেন। দু’বার আদালতের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। কিন্তু অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে মামলাটি শুনতে রাজি হননি বিচারপতি।

শুনানি না-হওয়ায় রক্ষাকবচও পাননি অভিষেক। ফলে আগামী সোমবার সিআইডি-র তলবে তিনি সাড়া দেবেন কি না, তা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে। রবিবার ৭ জুন অভিষেক দিল্লি যেতে পারেন। সেখানে বিজেপি বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’র নেতাদের সঙ্গে তৃণমূলের বৈঠক রয়েছে।

Advertisement

শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের তরফে স্পিকার রথীন্দ্র বসুকে একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে দলের ৭০ জন বিধায়কের সই ছিল। তা থেকেই বিতর্কের সূত্রপাত। ওই চিঠিতে কয়েক জনের স্বাক্ষরে ‘অসঙ্গতি’ ছিল বলে অভিযোগ। কেউ কেউ সই করেননি, কেবল ব্লক লেটারে নাম লিখেছেন মাত্র। এই সংক্রান্ত তদন্তভার সিআইডি-র হাতে তুলে দিয়েছে রাজ্য সরকার। তৃণমূলের তিন বিধায়কের হাতের লেখার নমুনাও সংগ্রহ করে ফেলেছেন তদন্তকারীরা। দলের ওই চিঠিতে সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক হিসাবে অভিষেকের সই ছিল। তাই তাঁকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

গত সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সই নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন স্পিকারের কাছে। তার পর পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুভেন্দুর এই ঘোষণার পর দুই বিধায়ককে বহিষ্কার করেছিল তৃণমূল। কিন্তু তার পরের দিনই বহিষ্কৃত সেই ঋতব্রতের নাম বিরোধী দলনেতা হিসাবে প্রস্তাব করে তৃণমূলের ৫৯ জন বিধায়ক স্পিকারকে চিঠি দেন। ঋতব্রতই বিরোধী দলনেতা নির্বাচিত হন। ভাঙন স্পষ্ট হয়ে ওঠে তৃণমূলের পরিষদীয় দলে। এই পরিস্থিতিতে অভিষেক কী করেন, সেটাই দেখার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement