Jadavpur University alumni meet

মুক্তচিন্তার যাদবপুরে ‘হুলিগানিজ়ম’! প্রাক্তনী সমাবেশে বিশেষ বার্তা আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তার

মনে করা হচ্ছে, ছাত্র নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন ‘হোক কলরব’ বা সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা— গত কয়েক বছরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যে ভাবে একের পর বিষয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে, তা নিয়েই সরব প্রাক্তনী সুমন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ ১৭:২৪
Share:

নিজস্ব চিত্র।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী সমাবেশে যোগ দিয়ে ‘হুলিগানিজ়ম’-এর বিরুদ্ধে গলা তুললেন আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা। আদতে তিনিও যাদবপুরের প্রাক্তনী।

Advertisement

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় প্রাক্তনী সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছিল শনিবার, ৩ জানুয়ারি। সেখানেই প্রধান বক্তা হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আইআইটি খড়্গপুরের অধিকর্তা সুমন চক্রবর্তী। নিজের বক্তব্যে তিনি ছাত্রজীবনের স্মৃতিচারণের পাশাপাশি তুলে ধরেন বর্তমান পরিস্থিতির কথাও। সেখানেই যেন ছাত্র আন্দোলনের অভিমুখ সম্পর্কে তাঁর সন্দিগ্ধ মনের প্রকাশ লক্ষ করা যায়।

সুমন বলেন, “আমার মনে হয় বর্তমানে ‘ইন্টেলেকচুয়াল ইন্ডিপেন্ডেন্স’কে সামনে রেখে যে ধরনের বিশৃঙ্খলা বা ‘হুলিগানিইজ়ম’ দেখেছি, তাতে সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থার ক্ষতি হচ্ছে। আমাদের সময়ও আন্দোলন হত, কিন্তু তার প্রভাব শিক্ষাব্যবস্থার উপর পড়ত না। এ সব বরদাস্ত করা উচিত নয় কোনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের।” তিনি মনে করেন, এতে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হবে পড়ুয়াদেরই।

Advertisement

এ দিন প্রায় ২৫০ প্রাক্তনী উপস্থিত হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে। অনলাইনেও যোগ দিয়েছিলেন ১০-১৫ জন। সুমন চক্রবর্তী নিজে যাদবপুরের প্রাক্তনী। ১৯৯৬-এ তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। তারপর স্বর্ণপদক-সহ স্নাতকোত্তর উত্তীর্ণ হন ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স থেকে। ২০০০ থেকে ২০০২ পর্যন্ত তিনি যাদবপুরে শিক্ষকতাও করেছেন।

এ দিনের সমাবেশে তাঁর মুখে ‘হুলিগানিজ়ম’ শব্দের ব্যবহার নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা। মনে করা হচ্ছে, ছাত্র নির্বাচন নিয়ে আন্দোলন ‘হোক কলরব’ বা সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর উপস্থিতিতে বিশৃঙ্খলা— গত কয়েক বছরে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় যে ভাবে একের পর বিষয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছে, তা নিয়েই সরব প্রাক্তনী সুমন।

নাম না করলেও সুমনের ইঙ্গিত বুঝে জবাব দিয়েছেন উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যও। তিনি বলেন, “যাদবপুর গড়ে উঠেছে মুক্ত চিন্তা ভাবনা দিয়েই। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে, ‘হুলিগানইজ়ম’ মাথা চারা দিয়ে উঠবে। অহেতুক বিতর্ক কাটিয়ে পঠনপাঠনের মানোন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।”

যাদবপুরের স্থায়ী উপাচার্য পদে সদ্য যোগ দিয়েছেন চিরঞ্জীব। কিন্তু গত দু’মাসেও নানা অপ্রীতিকর বিষয়ে যাদবপুর অস্থির। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সংবিধান ও সংবিধানপ্রণেতা বিআর অম্বেডকর সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করার। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে রিপোর্ট চেয়েছে ন্যাশনাল কমিশন ফর শিডিউল কাস্ট। এর পাশাপাশি এক সংখ্যালঘু ছাত্রীর ভাবাবেগে আঘাত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ইংরেজির বিভাগীয় প্রধানের বিরুদ্ধে। সে বিষয়েও তদন্ত করছে বিশেষ কমিটি। বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘুরে গিয়েছেন রাজ্য সংখ্যালঘু কমিশনের সদস্যেরা। এরই মধ্যে প্রাক্তনী সমাবেশে আইআইটি অধিকর্তার মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

যদিও এর পাশাপাশি সুমন প্রাক্তনীদের কর্মকাণ্ড বিষয়ে নানা পরামর্শও দিয়েছেন। তাঁর দাবি, শুধুমাত্র বার্ষিক সমাবেশে যোগ দিলে হবে না। বছরভর দেশ-বিদেশের প্রাক্তনী নিয়ে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠান করতে হবে, যাতে সকলের সঙ্গে যোগাযোগ থাকে, যা আদতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে কাজে লাগবে।

উপাচার্য এ প্রসঙ্গে বলেন, “২০২৩-এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রাক্তনীদের নিয়ে এ ধরনের কোনও সমাবেশ হতো না। এ বার থেকে এ বিষয়ে উদ্যোগী হবে বিশ্ববিদ্যালয়। যোগাযোগ রাখা হবে আইআইটি অধিকর্তা এবং এমন অন্য প্রাক্তনীদের সঙ্গেও।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement
Advertisement