ছবি: সংগৃহীত।
কোনও বিভাগে রয়েছেন একজন শিক্ষক। আবার কোথাও দু’জন। সরকারের অনুমোদিত শিক্ষকের সংখ্যা যেখানে ৬৩২ হওয়ার কথা, সেখানে রয়েছেন মাত্র ২৮১ জন। অর্থাৎ প্রায় ৫৬ শতাংশ ঘাটতি। অর্ধেকের বেশি পদ ফাঁকা!
এই চিত্র রাজ্যের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের। শিক্ষকের অভাবে পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে, পাশাপাশি শিক্ষামহলে গোটা রাজ্যের মুখ পুড়ছে বলেও দাবি শিক্ষকের একাংশের। তবে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, দিন কয়েকের মধ্যেই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রের খবর, সাংবাদিকতা, মলিকিউলার বায়োলজি, পদার্থবিদ্যা, বায়োটেকনোলজি, রসায়নের মতো বিষয়েও কোথাও এক, চার বা ছ’জন শিক্ষক রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্দরেই খবর, শিক্ষক সঙ্কটে ভুগতে থাকা কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মান নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক জানান, কোনও বিভাগে শেষ নিয়োগ হয়েছে ২০০১-এ। কোনও বিভাগে আবার ২০০৭-এ। তার পর থেকে বহু বিভাগ পদশূন্য, শিক্ষকেরা অবসর নিয়েছেন। কিন্তু তা পূরণ হয়নি। বেশির ভাগ বিভাগেই পঠনপাঠন চলছে অতিথি অধ্যাপকদের দিয়ে। কিন্তু সেখানেও অসন্তোষ রয়েছে নানা মহলে। অতিথিরা সকলেই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর যোগ্য কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে বহু বিভাগের অন্দরে।
শিক্ষকের অভাবে বিশেষত বিজ্ঞান বিভাগে পঠনপাঠন ব্যাহত হচ্ছে বলেই অভিযোগ। সেখানে গবেষণাগারে হাতেকলমে পড়ুয়াদের কাজ হওয়ার কথা। কিন্তু শিক্ষকের অভাবে তা সম্ভব হচ্ছে না।
হিসাব বলছে, রসায়নে ৪৭ শিক্ষকের পদে রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। উদ্ভিদবিদ্যায় অনুমোদিত শিক্ষকের পদ ৩০, রয়েছেন মাত্র ১২ জন। অর্থাৎ ঘাটতির নিরিখে ৬০ শতাংশ। প্রাণিবিদ্যা বিভাগে ২৩ জন শিক্ষকের কাজ করছেন মাত্র ১০ জন।
কলিকাতা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি সনাতন চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এই শিক্ষক সঙ্কটের সুরাহা না হওয়ায় কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তার দীর্ঘদিনের অর্জিত গরিমা হারাতে বসেছে। আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন জানিয়েছি। কিন্তু এখনও কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। শিক্ষকের ঘাটতির অর্থ গবেষকের সংখ্যা হ্রাস, গবেষণা পত্রের সংখ্যা ও মান হ্রাস।” তাঁর দাবি, সার্বিক ভাবে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে যে সমস্ত মানদণ্ডে পরিমাপ হয়, তার প্রায় সবগুলিতেই পিছিয়ে পড়ছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়।
কিন্তু কেন এমন অবস্থা?
এই বিষয়ে অবশ্য কেউ মুখ খোলেননি। সূত্রের খবর, এর আগেও একবার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময় কোনও নিয়োগ হয়নি বলেই খবর। কবে মিটবে এই সমস্যা?
বর্তমানের উপাচার্য আশুতোষ ঘোষ বলেন, “নিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা ছিল। সেগুলির সমাধান করার জন্য আইন সহজ করে নেওয়া হয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হবে।” সব ক’টি পদের জন্যই কি নিয়োগ করতে চলেছে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়? এ প্রশ্নের উপাচার্য বলেন, “সব নিয়ম মেনে যত গুলি পদে নিয়োগ করা যায়, করা হবে। যদি সব ক’টি পদে নিয়োগ করতে কোনও আইনি জটিলতা না থাকে তা হলে সব পদেই হবে। আগামী দু’এক দিনের মধ্যেই তা জেনে নিতে পারব।”