DI of Secondary

শিক্ষক অসন্তোষ কমাতে আপোস মীমাংসা! ডিআইদের একাংশের প্রস্তাবে দ্বিধা শিক্ষামহলে

দক্ষিণবঙ্গের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের মধ্যেই নানা বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের অভিযোগ হয়ত শোনার মতো লোক পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকেরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কখনও তাঁরা বিকাশ ভবনে আর্জি জানিয়েছেন।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৫ মার্চ ২০২৬ ১৭:৩৭
Share:

ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

শিক্ষকদের মধ্যে বাড়ছে অসন্তোষ। এ বার তা আপোসে মিটিয়ে নিতে চাইছেন জেলা স্কুল পরিদর্শকদের একাংশ। এ জন্য আলোচনায় বসার প্রস্তাব দিতে চলেছেন তাঁরা।

Advertisement

রাজ্যের জেলা স্কুল পরিদর্শকদের (মাধ্যমিক ) একাংশের দাবি, শিক্ষকদের অসন্তোষের সরাসরি প্রভাব এসে পড়ে শিক্ষা ব্যবস্থার উপরেই। সে কারণে তাঁরা শিক্ষকের অভিযোগ শুনতে ইচ্ছুক। শিক্ষকদের কাছে তাঁরা আবেদন জানাবেন, জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে যোগাযোগ রাখার।

কিন্তু কেন এমন ভাবনা?

Advertisement

দক্ষিণবঙ্গের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক জানান, শিক্ষকদের মধ্যে অনেকের মধ্যেই নানা বিষয়ে অসন্তোষ রয়েছে। সে ক্ষেত্রে তাঁদের অভিযোগ শোনার মতো লোক পাওয়া যায় না। অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষকেরা আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন। কখনও তাঁরা বিকাশ ভবনে আর্জি জানিয়েছেন। ওই স্কুল পরিদর্শকের কথায়, “আদালতে বা বিকাশ ভবনে শিক্ষকেরা যেতেই পারেন। সেটা তাঁদের অধিকার। কিন্তু তার আগে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে যদি সমস্যার সমাধান হয়ে যায়, তা হলে তার থেকে ভাল আর কিছু হতে পারে না।” সে কারণেই শিক্ষকদের কাছে এই আবেদন করা হবে বলে তাঁর দাবি।

উত্তরবঙ্গের এক জেলা স্কুল পরিদর্শক বলেন, “শিক্ষকেরা প্রথমে তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অভিযোগ জানাতে পারেন। সেখানে ফল না হলে আমাদের অফিস রয়েছে। তাঁরা কথা বলতেই পারেন।” কলকাতা লাগোয়া এক জেলার স্কুল পরিদর্শক বলেন, “আমরা চাইছি কেউ যেন কোনও ভোগান্তির শিকার না হন। তাই কথা বলেই সমস্যার সমাধান করতে চেষ্টা করা হবে।” দক্ষিণবঙ্গের অন্য এক জেলা স্কুল পরিদর্শক দাবি করেছেন, “আমরা কোনও ভাবেই যে সরকারি পদ্ধতিকে এড়িয়ে যেতে বলছি না। কথা বলে সমস্যার সমাধান করা যায় কিনা সেটা চেষ্টা করতেই বলছি।”

পশ্চিমবঙ্গ তৃণমূল মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির রাজ্য সভাপতি প্রীতম হালদার বলেন, “জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকেই শিক্ষকদের বহু সমস্যার সমাধান হয়ে যেতে পারে। অন্যত্র যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না।”

যদিও এ তত্ত্ব মানতে নারাজ বিরোধীরা। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিস থেকে শিক্ষকেরা সহযোগিতা পান না বলেই তো বাধ্য হয়ে আদালতের দ্বারস্থ হন। ওই অফিসের কর্মী এবং রাজ্যের সমস্ত জেলার ডিআই যদি শিক্ষক সংগঠনের সঙ্গে সহযোগিতা করতেন তা হলে সমস্যা অনেক কমে যাবে।” পাশাপাশি নিখিলবঙ্গ শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুজিত দাস বলেন, “সংঠনগত ভাবে বা ব্যক্তিগত ভাবে জেলা স্কুল পরিদর্শকের অফিসে বহুবার অভিযোগ করেও কোনও কাজ হয় না। তাঁরা সেই অভিযোগ খতিয়েও দেখেন না, তদন্তও হয় না। তাই বাধ্য হয়েই আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement