গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দ্বাদশ শ্রেণির চূড়ান্ত পরীক্ষার ফলপ্রকাশের জন্য সিবিএসই ওএসএম পদ্ধতি ব্যবহার করেছিল। যে সংস্থাকে বোর্ড দায়িত্ব দিয়েছিল, তাদের বিরুদ্ধে পরীক্ষার খাতা স্ক্যান করা-সহ একাধিক ক্ষেত্রে গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। প্রথমে সেই সংস্থার কাছেই পুনর্মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে জানা গেলেও সোমবার বোর্ড সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছে।
সংবাদসংস্থাকে বোর্ডের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সংশ্লিষ্ট এডুটেক সংস্থাকে পুনর্মূল্যায়ন সংক্রান্ত কোনও কাজের দায়িত্বই দেওয়া হচ্ছে না। কিন্তু কেন সিদ্ধান্ত বদল করা হল, সেই সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করেননি ওই আধিকারিক।
উল্লেখ্য, কোএম্পট এডুটেক-এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের গাফিলতির অভিযোগ রয়েছে। ভুয়ো নথি প্রদান, খাতা স্ক্যানিং-এ গোলমাল, সুরক্ষিত সফট্অয়্যার ব্যবহার না করার মতো ঘটনার জেরে তেলঙ্গানার ইন্টারমিডিয়েট (প্লাস টু) পরীক্ষার্থীরা এবং নাগপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও ক্ষতির মুখে পড়েছিলেন। এ ছাড়াও সংস্থার বিরুদ্ধে রোবোটিক স্ক্যানারের বদলে সাধারণ মানের স্ক্যানার ব্যবহারের অভিযোগও প্রকাশ্যে এসেছে। ওই স্ক্যানারের সাহায্যেই সিবিএসই-র দ্বাদশের উত্তরপত্র স্ক্যান করা হয়েছিল। যার জেরে মূল্যায়নেও তার প্রভাব পড়ে। পরীক্ষার্থীদের অনেকেই দাবি করেন, খাতার প্রতিলিপি ঝাপসা। কেউ আবার সঠিক লিখেও নম্বর পাননি, এমনকি অনেকের খাতা দেখাই হয়নি বলে দাবি করেছিলেন পরীক্ষার্থীরা।
সোমবার সিবিএসই-র তরফে এক্স হ্যান্ডলে জানানো হয়েছে, ২ জুন থেকে ৭ জুন পর্যন্ত ১.৬ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষার্থী পুনর্মূল্যায়নের জন্য আবেদন জানাতে পেরেছেন। মোট আবেদনে সংখ্যা ৩.৮ লক্ষ। আইআইটি প্যানেলের পরামর্শ মেনেই পুনর্মূল্যায়নের পোর্টালটির মাধ্যমে যাতে পড়ুয়াদের সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে, তার ব্যবস্থা করেছে বোর্ড।
একই সঙ্গে বোর্ডের তরফে জানানো হয়েছে, সিবিএসই-র পোস্ট রেজাল্ট সার্ভিসেস পোর্টালটি থেকে সব পরীক্ষার্থীরা আবেদন জমা দিতে পারবেন না। ওই পোর্টাল মারফত শুরুতে যাঁরা স্ক্যান করা উত্তরপত্রের প্রতিলিপির জন্য আবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাঁরাই শুধুমাত্র ওই পোর্টাল মারফত নথি দেখার সুযোগ পাবেন। পুনর্মূল্যায়নের জন্য আলাদা পোর্টাল চালু করা হয়েছে, যেখানে সকলেই আবেদন জানানোর সুযোগ পেয়েছেন।
বোর্ডের আশ্বাস, পুনর্মূল্যায়নের প্রক্রিয়া স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পূর্ণ করা হবে। এই বিষয় নিয়ে কোনও রকম আপস করা হবে না। পড়ুয়াদের সব অভিযোগ খতিয়ে দেখে প্রত্যেককে প্রাপ্ত নম্বর দেওয়া হবে। তবে, দেশের লক্ষাধিক পড়ুয়ার খাতার মূল্যায়নে বিলম্বের কারণ কী? তা নিয়ে কোনও বক্তব্য পেশ করেননি কোনও সিবিএসই কর্তাই।