গোটা কাঁচকলা দিয়েই বানিয়ে নিন জিভে জল আনা আচার। ছবি: সংগৃহীত।
রান্নাঘরে কাঁচকলা ব্যবহার করার পরই খোসা ফেলে দেন। কিন্তু জানেন কি, গোটা সব্জি দিয়েই তৈরি করা যায় দারুণ সুস্বাদু ও পুষ্টিকর আচার? এখন সারা বিশ্বে খাদ্যের অপচয় কমানোর উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আর সেই ভাবনা থেকেই জনপ্রিয় হচ্ছে সব্জি ও ফলের ফেলে দেওয়া অংশ দিয়ে রাঁধা খাবার। কাঁচকলার আচার তারই একটি চমৎকার উদাহরণ। তবে এখানে খোসা এবং ভিতরের কলা, সবই এই রান্নার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
বাঙালি বাড়িতে কাঁচকলার খোসা দিয়ে নানা ধরনের পদ তৈরির চল রয়েছে। তা কাঁচকলার খোসাবাটা হোক বা ভাজা। আর ও দিকে কাঁচকলার সেদ্ধ বা তা দিয়ে মাছের ঝোল করার রেওয়াজ রয়েছে। সেই ধারা বজায় রেখেই খোসা সমেত কাঁচকলা দিয়ে তৈরি করা যায় ঝাল, মশলাদার ও টক আচার। ভাত, খিচুড়ি, রুটি কিংবা ডালের সঙ্গে এই আচার দারুণ মানিয়ে যায়।
উপকরণ
১টি বড় গোটা কাঁচকলা
২টি কাঁচালঙ্কা কুচোনো
১ টেবিল চামচ তেঁতুল
এক চিমটে হিং
স্বাদমতো নুন
১ চা চামচ সর্ষের তেল
আধ চা চামচ গোটা সর্ষে
আধ চা চামচ হলুদগুঁড়ো
অল্প কারিপাতা
প্রণালী
প্রথমে খোসা সমেত কাঁচকলা ভাল করে ধুয়ে নিতে হবে। তার পর গোটা কাঁচকলাটি ছোট গোল গোল টুকরো করে কেটে সেদ্ধ করতে দিন। সেদ্ধ করার সময়ে পাত্রে এক চিমটে হলুদ দিয়ে দিন। ১০-১২ মিনিট পর কলাগুলি নরম হয়ে গেলে জল ঝরিয়ে নিন। এর পরে নরম হয়ে যাওয়া টুকরোগুলি কাঁচালঙ্কা, নুন এবং তেঁতুলের সঙ্গে মিক্সিতে বেটে নিন মিহি করে। দরকার হলে অল্প জলও মিশিয়ে নিতে পারেন ঘন ও মিহি মিশ্রণের জন্য।
একটি কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করে সর্ষে, হিং, কারিপাতা ফোড়ন দিন। তার মধ্যে হলুদও অল্প মিশিয়ে দিতে পারেন।
এর পরে কাঁচকলার মিশ্রণটি দিয়ে কয়েক মিনিট নেড়ে মশলার সঙ্গে ভাল ভাবে মিশিয়ে নিন। রান্না হয়ে গেলে ঠান্ডা করতে দিন। তার পর কাচের বয়ামে ভরে সংরক্ষণ করুন। চাইলে সামান্য ধনেপাতাকুচিও যোগ করতে পারেন।
রান্নাঘরের বর্জ্য কমানোর অন্যতম সহজ উপায় এটি। যে অংশ সাধারণত ময়লার বালতিতে যায়, সেটিকেই সুস্বাদু খাবারে পরিণত করা হচ্ছে। ঝাল, টক ও মশলাদার স্বাদের মিশ্রণ এই আচারের বিশেষ আকর্ষণ।