school service commision

সুদ-সহ বেতনের টাকা ফেরত দিতে হবে এসএসসি-র চিহ্নিত ‘দাগি’ শিক্ষকদের! উদ্যোগী স্কুলশিক্ষা দফতর

আন্দোলনকারী যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি, যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে। শুধু তা-ই নয়, দুর্নীতির কারণে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার মাধ্যম রাজ্যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ ১৬:২৩
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

২০১৬ এসএসসি প্যানেলে নাম ছিল ‘দাগি’ বা অযোগ্য হিসাবে। চাকরিহারা এমন শিক্ষকদের থেকে সুদ-সহ বেতন ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। তৃণমূল আমলে এই বেতন ফেরানোর বিষয়ে তেমন উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ। এ বার সেই টাকা ফেরাতে উদ্যোগী হচ্ছে প্রশাসন।

Advertisement

জানা গিয়েছে, আদালতের রায় কার্যকর করতে উদ্যোগী হয়েছে স্কুলশিক্ষা দফতর। সূত্রের খবর, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগেই ৭ মে বিকাশ ভবন থেকে বিভিন্ন জেলাশাসকের কাছে এই মর্মে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয়েছে। নোটিস পাঠানো হবে ‘দাগি’ চিহ্নিত সব চাকরিহারা শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে।

যদিও আন্দোলনকারী যোগ্য চাকরিহারা শিক্ষকদের দাবি, যাঁরা টাকা নিয়েছিলেন তাঁদের নাম প্রকাশ্যে আনতে হবে। শুধু তা-ই নয়, দুর্নীতির কারণে তাঁদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে। ২০১৬ সালে স্কুল সার্ভিস কমিশনের পরীক্ষার মাধ্যম রাজ্যে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু ২০২৫-এর এপ্রিলে প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির অভিযোগে গোটা প্যানেল বাতিল করে দেয় সুপ্রিম কোর্ট।

Advertisement

এর পর পৃথক তালিকা প্রকাশ করে রাজ্যের তরফে জানানো হয়, কারা চিহ্নিত অযোগ্য বা দাগি। নবম-দশম স্তরে ৯৯৩ জন এবং একাদশ-দ্বাদশ স্তরে ৮১০ জন শিক্ষককে ‘দাগি’ চিহ্নিত করা হয়। পাশাপাশি ৩৫০০ শিক্ষাকর্মীও ‘দাগি’ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়।

সেই তালিকা অনুযায়ী বেতন বাবদ তাঁরা যে অর্থ সরকারি তহবিল থেকে প্রায় ১০ বছর পেয়েছেন, তা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয় সুপ্রিম কোর্ট। ‘যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষিকা অধিকার মঞ্চ’-এর তরফে মেহবুব মণ্ডল দাবি তুলেছেন, যে সব নেতা বা জনপ্রতিনি‌ধি টাকা আত্মসাৎ করেছেন তাঁদের নামও প্রকাশ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘‘যাঁরা দুর্নীতি করলেন তাঁদের এক পক্ষে রয়েছেন দাগি শিক্ষকেরা। কিন্তু উল্টো দিকে রয়েছেন রাজনৈতিক নেতা-কর্মীরা। তাঁদের নামও প্রকাশ্যে এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।”

এরই পাশাপাশি তাঁরা দাবি তুলছেন, যোগ্য অসহায় চাকরিহারা শিক্ষকদের নিয়ে নতুন রাজ্য সরকার কী ভাবছে, তা-ও স্পষ্ট জানাতে হবে। মেহবুব বলেন, “আমি অনুরোধ করছি যোগ্য শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বাঁচাতে সরকার পদক্ষেপ করুক।’’

বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, ‘‘তৃণমূলের নেতারাই টাকা নিয়ে চাকরির আশ্বাস দিয়েছিলেন। দাগিদের টাকা ফেরতের নির্দেশ কার্যকর করলে তৃণমূল নেতারা চাপে পড়তে পারে, সেই আশঙ্কায় তৃণমূলের সরকার আদালতের নির্দেশ পর্যন্ত চেপে রেখেছিল। এ বার সে সব নাম প্রকাশ্যে আসুক।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement