গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
দেশজুড়ে চিকিৎসা বিদ্যার পাঠ্যক্রমে ভর্তি হওয়ার পরীক্ষা নেয় একটি সংস্থা। সেই পরীক্ষা প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটল ২০২৪ সালে। চিকিৎসক তৈরির প্রথম স্তরে দুর্নীতির গন্ধ পেয়ে দ্রুত সেই সংস্থাকে নানা বদল করতে বলা হল। কিন্তু দীর্ঘ দু’বছরেও তা হল না। ফল— ২০২৬ সালে আবার প্রশ্নফাঁসের ঘটনা এবং আবার ভোগান্তি পরীক্ষার্থীদের। ভুল থেকে শিক্ষা নিতে না পারা ওই সংস্থা— ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (এনটিএ)-র বিরুদ্ধে তাই সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছিল ফেডারেশেন অফ অল ইন্ডিয়া মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন (ফাইমা)। প্রশ্ন তুলেছিল, এমন সংস্থার প্রশাসনিক পরিকাঠামো কি ভেঙে দেওয়া উচিত নয়। ওই সংস্থাকে কি নতুন করে ঢেলে সাজা জরুরি নয়? সেই আবেদন শুক্রবারই শুনতে চলেছে দেশের শীর্ষ আদালত।
শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টে ফাইমার আবেদন শুনানির জন্য পেশ করা হবে। এখন দেখার সুপ্রিম কোর্টও সেই আর্জির সঙ্গে একমত হয় কি না।
নিট ইউজি প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় প্রথম থেকেই অভিযোগের তীর ছিল আয়োজক সংস্থা এনটিএ-র দিকে। কারণ ২০২৪ সালে একইরকম প্রশ্নফাঁসের ঘটনা ঘটার পরে ওই সংস্থাকে বেশকিছু সতর্কতামূলক প্রশাসনিক পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছিল। কেন্দ্র নিযুক্ত কমিটি, যার মাথায় ছিলেন ইসরোর প্রাক্তন প্রধান, এনটিএ-কে প্রশাসনিক পরিকাঠামোতেও অনেকগুলি বদল আনতে বলেছিল। যাতে ভবিষ্যতে আর কখনও প্রশ্নফাঁসের মতো ঘটনা না ঘটে। কিন্তু সেই সমস্ত পরামর্শের অর্ধেকও গত দু’বছরে মানতে পারেনি এনটিএ। ফলে মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের প্রশ্ন, যারা এত বড় ভুল থেকেও শিক্ষা নেয় না, তাদের প্রশাসনিক পরিকাঠামোয় কি আর ভরসা করা উচিত? এটা কি ওই সংস্থার পরিচালন সংক্রান্ত ত্রুটি নয়। সে ক্ষেত্রে কেনই বা সেই ত্রুটিপূর্ণ পরিচালন ব্যবস্থা এখনও চালিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে? কেন তা ঢেলে সাজা হবে না?
এর আগে এই মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল, ‘‘এনটিএ আগের ভুল থেকে যে শিক্ষা নেয়নি, তা দুঃখজনক।’’ এ ব্যাপারে কেন্দ্র এবং তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই-এর বক্তব্যও জানতে চেয়েছিল শীর্ষ আদালতের বিচারপতি পিএস নরসিংহ এবং বিচারপতি আলোক আরাধের বেঞ্চ। এর পাশাপাশি, এই বক্তব্যের পাল্টা যুক্তি দিয়ে একটি আবেদন করতে বলা হয়েছিল এনটিএ-কেও। শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদ্বয়ের বেঞ্চে সেই সব পক্ষের বক্তব্য শোনার কথা। এনটিএ-র ভাগ্য নির্ভর করছে সেই শুনানির উপর।