Tet deputation

বাধ্যতামূলক টেট! পথে নেমে আন্দোলন, হস্তক্ষেপ চেয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি শিক্ষক সংগঠনগুলির

২০২৫-এ একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের ২০২৮-এর ৩১ অগস্টের মধ্যে তা উত্তীর্ণ হতে হবে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৬ জুন ২০২৬ ১৮:৫৮
Share:

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের মিছিল। ছবি: সংগৃহীত।

টেট-জট থেকে শিক্ষকদের মুক্তি দিতে ফের পথে নামল কয়েকটি শিক্ষক সংগঠন। মঙ্গলবার বেলা ২টো থেকে কলেজ স্কোয়ার থেকে মিছিল করে ধর্মতলা পর্যন্ত আসেন সদস্যেরা। এর পর সেখানে একটি সভা করে টেট-জট থেকে শিক্ষকদের মুক্তি দিতে সরকারের কাছে আবেদন জানানো হয়।

Advertisement

মঙ্গলবার বঙ্গীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি, মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতি, প্রাথমিক শিক্ষক কল্যাণ সমিতি-সহ বহু শিক্ষকেরা আন্দোলনে যোগ দেন। ইতিমধ্যেই এই টেট বিতর্ককে কেন্দ্র করে দফায় দফায় আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষকেরা। গত সপ্তাহেই বিভিন্ন বাম শিক্ষক সংগঠনগুলি সুবোধ মল্লিক স্কয়ার থেকে কলেজস্ট্রিট পর্যন্ত মিছিল করে। পরে সেখানে অবস্থান বিক্ষোভও করেন তাঁরা।

এ ছাড়া আগামী ১৮ জুন গোটা দেশে সব জেলাশাসকের দফতরের সামনে ধর্না ও বিক্ষোভ প্রদর্শিত হবে এবং জেলাশাসকদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে স্মারকলিপি দেওয়া হবে। এমনই জানিয়েছে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ (বিদ্যালয় শাখা)।

Advertisement

কবে থেকে শুরু হয় এই টেট জট?

২০২৫-এ একটি মামলার রায় দিতে গিয়ে সুপ্রিম কোর্ট জানায়, দেশের প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক শিক্ষকদের ক্ষেত্রে টেট উত্তীর্ণ হওয়া বাধ্যতামূলক। যাঁরা ‘টিচার্স এলিজিবিলিট টেস্ট’ (টেট) উত্তীর্ণ নন, তাঁদের ২০২৭-এর ৩১ অগস্টের মধ্যে তা উত্তীর্ণ হতে হবে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে যাঁদের চাকরির সময়সীমা শেষ হচ্ছে, তাঁদের এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হয়। সম্প্রতি এক রিভিউ মামলার শুনানির সময়ে ২০২৭-এর ৩১ অগস্টের পরিবর্তে সময়সীমা বৃদ্ধি করে ২০২৮ সাল করা হয়।

এ দিকে শিক্ষকদের একাংশের দাবি, শিক্ষার অধিকার আইন ২০০৯ কার্যকর হয় ২০১০-এ। সেই আইন অনুযায়ী বিধি তৈরি করে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর টিচার্স ট্রেনিং বা এনসিটিই। পশ্চিমবঙ্গে ২০১১ সালের জুলাইয়ে শিক্ষকদের যোগ্যতা সংক্রান্ত নিয়ম চালু হয়। সেখানে টেট বাধ্যতামূলক করা হয়। শিক্ষার অধিকার আইন, আরটিই ২০০৯ এবং এনসিটিই ২০১০-এর নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষকতার জন্য টেট পাশ করা ন্যূনতম এবং বাধ্যতামূলক যোগ্যতা। তাই সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, টেট আবশ্যিক যোগ্যতা। কিন্তু সমস্যা হয়েছে ২০১১ পর্যন্ত শিক্ষকতায় নিযুক্তদের নিয়ে।

মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, ‘‘আমাদের দাবি সংসদে আসন্ন বাদল অধিবেশনে সংশোধনী বিল পাশ করিয়ে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে হবে। পাশাপাশি নির্বাচনের আগে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং শুভেন্দু অধিকারী প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বিষয়টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করবেন। তাই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ বিষয়টি কেন্দ্রের কাছে তুলে ধরুন।’’ এ দিন রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী এবং শিক্ষামন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement