— প্রতীকী চিত্র।
টেট উত্তীর্ণ না হলে কি শিক্ষকদের চাকরি থাকবে না? সুপ্রিম কোর্টে রায় পুনর্বিবেচনার মামলার শুনানি হতে পারে আগামী ১৩ মে।
আইনজীবীদের একাংশের দাবি, কোনও রায় পুনর্বিবেচনার মামলার শুনানি এ ভাবে এজলাসে ওঠা বিরল। ফলে, রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি বিচারপতি গ্রহণ করে শুনানির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় আশা দেখছে নিখিলবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ধ্রুবশেখর মণ্ডল জানান, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে সুপ্রিম কোর্টে এক রায়ে জানায় প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্তরে সব শিক্ষকদের টেট বাধ্যতামূলক। যাঁদের এই যোগ্যতা নেই তাঁদের আগামী দু’বছরের মধ্যে এই যোগ্যতা অর্জন করতে হবে। তবে ২০৩০ সালের মধ্যে যাঁদের চাকরির সময়সীমা শেষ হচ্ছে তাঁদের অবশ্য এই নির্দেশের আওতার বাইরে রাখা হয়। অর্থাৎ পাঁচ বছর পর্যন্ত যাঁদের চাকরি রয়েছে, প্রবীণ সেই শিক্ষকদের আর টেট পরীক্ষায় বসতে হবে না।
তার পরই রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানানো হয় বিভিন্ন রাজ্য থেকে। ধ্রুবশেখর জানান, তাঁরাও রায় পুনর্বিবেচনার আর্জি জানিয়েছেন। গত ২৮ এপ্রিল বিচারপতি দীপঙ্কর দত্তের ঘরে এই মামলার শুনানি হয়। এই মামলার এক আইনজীবী ফিরদৌস শামিম বলেন, “পরবর্তী শুনানি হবে এজলাসে। এমন ঘটনা খুব কমই ঘটে। আমরা আশাবাদী।’’
শামিম জানান, তিনটি বিষয়ের উপরে বিশেষ করে জোর দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, একটি রায়ের ফলে যে সব শিক্ষকদের উপরে প্রভাব পড়ল তাঁরাই মামলার অংশীদার হতে পারলেন না। দ্বিতীয়ত, বিচারপতিদের জানানো হচ্ছে যে সব শিক্ষকেরা ২০০৯-এর আগে টেট ছিল না। ফলে সেই সময় চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য নূন্যতম যোগ্যতা হিসেবে টেট উল্লেখিত ছিল না। চাকরিরত অবস্থায় কারও চাকরির শর্তাবলি পরিবর্তন হতে পারে না। পাশাপাশি ২০০৯-এ শিক্ষার অধিকার আইনের ফলে এসিটিই ২০১০ এবং ২০১১ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, যে সব শিক্ষকে আগে কাজে যোগ দিয়েছেন তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন নূন্যতম যোগ্যতা প্রযোজ্য হবে না।
তাই আগামী শুনানিতে বিচারপতিদের কাছে এই বিষয়গুলি ফের তুলে ধরা হবে বলে জানা গিয়েছে। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির সাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডলও আশাবাদী যে রায় তাঁদের পক্ষেই যাবে।