প্রতীকী চিত্র।
হাতে আর মাত্র তিনটি দিন। মাধ্যমিক শুরু হচ্ছে ২ ফেব্রুয়ারি। এ দিকে শিক্ষকের অভাব এবং শিক্ষকদের অতিরিক্ত কাজের চাপ নিয়ে চিন্তার কালো মেঘ প্রধানশিক্ষকদের মনে। কারণ, শিক্ষকদের একাংশ এই মুহূর্তে ব্যস্ত নির্বাচন কমিশনের দেওয়া কাজে। চলছে ভোটার তালিকা নিবি়ড় সংশোধনের কাজ। এর মধ্যে কী ভাবে সামাল দেওয়া যাবে মাধ্যমিক বা তার পর উচ্চ মাধ্যমিক?
কোনও স্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে আসবে অন্য স্কুলের পরীক্ষার্থীরা। কোনও কোনও স্কুলকে আবার মূলকেন্দ্র করা হয়েছে। যেমন দমদম বাপুজি কলোনি হাইস্কুল। তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্রের দায়িত্ব এই স্কুলের উপর। এ দিকে কর্মীসঙ্কট। স্কুলের প্রধানশিক্ষক দেবব্রত সিংহ বলেন, “এই মুহূর্তে পরীক্ষা পরিচালনার জন্য পরিদর্শক খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এ দিকে আমার স্কুলের আওতায় আরও তিনটি পরীক্ষাকেন্দ্র রয়েছে। বিভিন্ন স্কুলে চিঠি পাঠিয়েছি শিক্ষক চেয়ে। ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত কোনও উত্তর আসেনি।”
২ থেকে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে মাধ্যমিক। এ দিকে নিবিড় সংশোধনীর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে ১৫ ফেব্রুয়ারি। অর্থাৎ, দু’টি কাজ প্রায় একই সঙ্গে করে যেতে হবে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের। কী ভাবে মাধ্যমিক পরীক্ষার দায়িত্বের সঙ্গে বিএলও-র কাজ সামাল দেবেন শিক্ষকেরা তা নিয়ে সন্দিহান ওয়াকিবহাল মহল।
পরীক্ষার দিনগুলিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের যাতে বিএলও-র কাজে ছাড় দেওয়া হয়, সে জন্য এর আগেই জেলা নির্বাচনী আধিকারিকদের (ডিইও) অনুরোধ জানিয়েছে মধ্যশিক্ষা পর্ষদ। সেই অনুযায়ী বিকেল সাড়ে ৪টের আগে কোনও ভাবেই মাধ্যমিকের দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে ডাকা যাবে না। পর্ষদ চিঠিতে উল্লেখ করেছে, আদালতের নির্দেশ মতো শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজে এমন ভাবে নিযুক্ত করতে হবে, যাতে তাদের শিক্ষাকতার কাজে কোনও ক্ষতি না হয়। ছুটির দিনে বিএলও কাজ ডিউটি করানোর কথা উল্লেখ করানো হয়েছে। আর সেখানেই তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক।
স্কুল শিক্ষকদের একাংশের দাবি, তাঁরা অনেকেই এসআইআর শুনানির কাজে যুক্ত। এই পরিস্থিতিতে কী ভাবে পরীক্ষার দায়িত্ব সামলাবেন? এতে শিক্ষকদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হবে। সমস্যায় পড়বেন স্কুল কর্তৃপক্ষও। পাতিপুকুর আদ্যনাথ শিক্ষামন্দিরের প্রধানশিক্ষিকা মধুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “আমাদের স্কুলে মোট ২৩ জন শিক্ষক। তাঁদের মধ্যে এসআইআর-এ যুক্ত ৭ জন। এর মধ্যে মাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে স্কুলে আসবে অন্য স্কুলের পরীক্ষার্থীরা। কী ভাবে সামাল দেব, তা নিয়েই চিন্তায় রয়েছি।” এ সব ক্ষেত্রে আশপাশের যে সব স্কুলে মাধ্যমিক কেন্দ্র হয়নি, সেখান থেকে শিক্ষকদের নিয়ে আসার কথা চলছে বলে জানা গিয়েছে।
আবার, যে সব স্কুলে মাধ্যমিকের আয়োজন করা হচ্ছে না, সে সব স্কুলেও শিক্ষকের অভাব রয়েছে। দমদম অরবিন্দ বিদ্যামন্দিরের প্রধানশিক্ষক অসীমকুমার নন্দ বলেন, “আমার স্কুলে ছ’জন শিক্ষক এই মুহূর্তে এসআইআর-এর কাজে যুক্ত। আমি মনে করি পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের নির্বাচনী কাজ থেকে সম্পূর্ণ অব্যাহতি দেওয়া উচিত ছিল কমিশনের। ভাবে ছাড় দেওয়া উচিত কমিশনের। না হলে জটিলতা তৈরি হবে।”
অভিযোগ, বিএলও-দের যখন তখন ডেকে পাঠানো হচ্ছে নির্বাচনী কাজে। পার্ক ইনস্টিটিউশন-এর ভারপ্রাপ্ত প্রধানশিক্ষক বাসককুমার চৌধুরী বলেন, “পরীক্ষা চলাকালীন শিক্ষকদের ছাড় না দিলে পরীক্ষা পরিচালনা অসম্ভব। এই সমস্যা সমাধানের কথা আগেই কর্তৃপক্ষের ভাবা উচিত ছিল।”
শিক্ষক সংগঠনগুলির বক্তব্য, কমিশন ও মধ্যশিক্ষা পর্ষদের টানাপড়নে মাত্রাতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে শিক্ষকদের উপর। বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতিরসাধারণ সম্পাদক স্বপন মণ্ডল বলেন, “অদ্ভুত জাতাকলে পড়েছেন শিক্ষকেরা। এত কাজের চাপ শিক্ষকদের উপর থাকা উচিত নয়, এর প্রভাব পড়বে পড়ুয়াদের উপর। এ বিষয়ে আরও সচেতনতা প্রয়োজন ছিল।”