— প্রতীকী চিত্র।
বিধানসভা নির্বাচনের কারণে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এ কথা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ামক দফতর।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, কোনও ঝুঁকি না নিয়ে ৫ মে-র পরই পরীক্ষা নেওয়া হবে। গত বৃহস্পতিবার বেশ কয়েকটি কলেজের সঙ্গে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের বৈঠক হয়। কলেজগুলি দাবি করে, ১৩ এপ্রিল থেকে বেশির ভাগ কলেজেই কেন্দ্রীয় বাহিনী পৌঁছে যাবে। বিশেষত, শ্রীরামপুর কলেজ, বিবেকানন্দ কলেজ, সিটি কলেজের মতো বেশ কয়েকটি কলেজ অসুবিধার কথা জানায়।
এ দিকে ১০ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে প্রথম সেমেস্টারের পরীক্ষা। কী ভাবে সেই পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব, তা নিয়েই চিন্তায় ছিলেন কর্তৃপক্ষ। সমাধানের কোনও পথ না মেলায় পরীক্ষাই স্থগিতের সিদ্ধান্ত হয়।
জানানো হয়েছে ১০, ১১ এবং ১৩ এপ্রিল নির্ধারিত সময় মেনে পরীক্ষা হবে। তার পর থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত যে পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল সেটাই নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পরে হবে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্তা। নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই এই পরীক্ষা নিয়ে নানা টালবাহানা চলছিল। আশপাশের কলেজে যেখানে বসার জায়গা রয়েছে সেখানে পড়ুয়াদের নিয়ে গিয়ে পরীক্ষার ব্যবস্থা করা যায় কি না, তা-ও বিবেচনা করে দেখছিলেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা স্থগিতের পথেই যেতে বাধ্য হলেন কর্তৃপক্ষ।
যদিও এ নিয়ে শিক্ষকদের মধ্যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্বাচন ও তার পরবর্তী পরিস্থিতিতে অশান্তি ছড়ালে পরীক্ষা আরও পিছিয়ে যেতে পারে। গত নভেম্বর থেকে এসআইআর এবং নির্বাচনী কাজে ব্যস্ত স্কুল শিক্ষকেরা। পঠনপাঠন কার্যত শিকেয় উঠেছে বলে অভিযোগ। এরই মধ্যে কলেজের পঠনপাঠনে কোপ পড়ায় ক্ষোভ আরও বাড়ছে। নজিরবিহীন ভাবে এ বছর ভোটে কলকাতার বহু কলেজ শিক্ষককে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সব শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীর নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ফলে এপ্রিলের পরীক্ষার দায়িত্ব তাঁরা অনেকেই সামলাতে পারবেন না।
কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থগিত হয়ে যাওয়া পরীক্ষা কবে নেওয়া হবে তা এখনই নির্ধারণ করা যায়নি। পরীক্ষার সূচি পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছেন কর্তৃপক্ষ।