— প্রতীকী চিত্র।
সরকারি এবং সরকার পোষিত স্কুলগুলিকে এ বার থেকে সরাসরি সাহায্য করতে পারবে যে কোনও বেসরকারি সংস্থা। বেসরকারি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বা কোনও ব্যক্তি— সাহায্য নিতে আর কোনও বাধা থাকছে না স্কুলগুলির ক্ষেত্রে। স্কুল চাইলে শংসাপত্রও দিতে পারবে ওই সংস্থাকে। কেন্দ্রের ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্প পশ্চিমবঙ্গে চালু করল নব নির্বাচিত বিজেপি সরকার।
শিক্ষামহলের একাংশের মত, স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে রাজ্য সরকার। পাশাপাশি বেসরকারিকরণের দিকেও কার্যত স্কুলগুলিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। তবে স্কুলশিক্ষা দফতরের তরফে সাফ জানানো হয়েছে, ‘বিদ্যাঞ্জলি’র মতো জনহিতকর প্রকল্পের ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে।
বিকাশ ভবনের দাবি, কেন্দ্রের এই প্রকল্প আসলে স্কুলের সার্বিক পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সংযুক্তি ঘটায়। এই প্রকল্প রাজ্যে চালু হওয়ার ফলে সরকারি ও সরকার পোষিত স্কুলের প্রধানেরা অনলাইনে তাঁদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলি প্রকাশ করতে পারবে। যেমন কোনও স্কুলে শ্রেণিকক্ষের প্রয়োজনীয়তা থাকতে পারে, কোথাও খেলার সরঞ্জামের পাশাপাশি স্কুলের রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতি থাকতে পারে। সে ক্ষেত্রে কোনও সংস্থা সাহায্য করতে এগিয়ে আসতে পারে। শৌচালয় নির্মাণ থেকে খেলার মাঠ ও স্কুলভবন সংস্কারেও এগিয়ে আসতে পারেন যে কোনও ব্যক্তি বা সংস্থা।
কোথাও শিক্ষকের ঘটাতি থাকলে কোনও স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার তরফে ক্লাসও নিতে পারবেন বলে জানান দফতরের এক কর্তা। বিনিময়ে ওই ব্যক্তি বা সংস্থাকে নিজ দায়িত্বে শংসাপত্র প্রদান করতে পারবেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।
এখানেই সিঁদুরে মেঘ দেখছেন শিক্ষকদের একাংশ। নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষক বলেন, “স্কুলের কোনও প্রাক্তনী যে কোনও সময়ে নিজের স্কুলকে সাহায্য করতে পারতেন। এই অধিকার আগেও ছিল। এমন ঘটা করে প্রকল্পের ঘোষণা করার অর্থ বেসরকারি সংস্থাকে স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলানোর সুযোগ করে দেওয়া।” শিক্ষকদের একাংশ মনে করছেন, এ ভাবেই স্কুলের পরিকাঠামো উন্নয়নের দায়িত্ব কার্যত বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দিতে চাইছে সরকার। শাসক ঘনিষ্ঠ কোনও সংস্থা স্কুলগুলির ভিতরে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।
কলকাতার এক শিক্ষক বলেন, “তৃণমূলের আমলে পরিচালন সমিতির মাথায় বসে শাসকদলের পছন্দের ব্যক্তিরা কর্তৃত্ব বজায় রাখতেন। অর্থ নয়ছয় হতো বলে অভিযোগ। এ বার হয়তো শাসক সব দায়ই ঝেড়ে ফেলবে। স্কুল পরিচালনার ভার চলে যাবে বেসরকারি সংস্থার হাতে।”
মাধ্যমিক শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির দক্ষিণ ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদক অনিমেষ হালদার বলেন, “রাজ্য সরকার পরিকল্পিত ভাবে শিক্ষাব্যবস্থার দায় ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। আমরা মনে করি সরকারি গণতান্ত্রিক, সর্বজনীন ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারেরই নেওয়া উচিত।” অ্যাডভান্সড সোসাইটি ফর হেডমাস্টার্স অ্যান্ড হেডমিস্ট্রেসেস-এর রাজ্য সাধারণ সম্পাদক চন্দন মাইতি বলেন, “সরকারি শিক্ষা ব্যবস্থাকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে। বেসরকারি উদ্যোগ আদৌ কতটা ফলপ্রসূ হবে তা নিয়ে আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।”