হার্টের যত্ন নিতে কী কী অভ্যাস রপ্ত করবেন? ছবি: সংগৃহীত।
হার্টের রোগ আর বয়স মানে না। যাহা তিরিশ, তাহাই আশি। অনেকেই ভাবেন, কম বয়সে অনিয়ম করে নিয়ে বার্ধক্যে গিয়ে সুস্থ যাপনে পা দেবেন। কিন্তু তার আগেই যা ক্ষতি হওয়ার, তা হয়ে যায়। বাইরে থেকে স্বাভাবিক দেখালেও, হৃদ্যন্ত্রের উপর চাপ বাড়তে থাকে জীবনযাত্রা, মানসিক পরিস্থিতি, ঘুমের অভাব আর অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে। আর সেই কারণেই চিকিৎসকেরা বলছেন, হৃদ্যন্ত্রের যত্ন নেওয়ার জন্য ষাট বা সত্তরের অপেক্ষা করলে চলবে না। বরং ৩০ বছর বয়সের পর থেকেই সতর্ক হতে হবে। কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি করতে হবে, কিছু অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে। যাতে বার্ধক্যে পৌঁছেও হার্ট সুস্থ থাকে।
১. ধূমপান ত্যাগ
সিগারেট, ভেপ বা অন্য কোনও ধরনের ধূমপানই হৃদ্যন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। অনেকেই ভাবেন, এতে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি হয়, কিন্তু ধূমপান রক্তনালি ও হৃদ্যন্ত্রের উপরেও গভীর প্রভাব ফেলে। এটি ধীরে ধীরে রক্তনালিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ধূমপানে হার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ছবি: সংগৃহীত
২. সুষম আহার
অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনিযুক্ত পানীয় এবং অতিরিক্ত স্যাচুরেটেড ফ্যাট দীর্ঘ মেয়াদে হৃদ্যন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তার বদলে শাকসব্জি, ফলমূল, দানাশস্য, বাদাম ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন পুষ্টিবিদেরা।
৩. রক্তচাপ পরীক্ষা
উচ্চ রক্তচাপকে অনেক সময়ে 'নীরব ঘাতক' বলা হয়। কারণ, কখনও কখনও বুঝে ওঠার আগেই উচ্চ রক্তচাপ হার্টের ক্ষতি করে দিয়ে যায়। ৩০ বছর বয়সের পর নিয়মিত রক্তচাপ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে ধরা পড়লে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
৪. পর্যাপ্ত ঘুম
আজকের ব্যস্ত জীবনে ঘুমকে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করা হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, ঠিক মতো ঘুম না হলে শরীর তার কোষ মেরামতির জন্য সময় পায় না। কম ঘুমের প্রভাবে উচ্চ রক্তচাপ, মানসিক চাপ এবং হৃদ্রোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে। রোজ নির্দিষ্ট সময়ে শুয়ে পড়ে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমোনো উচিত। পর্যাপ্ত এবং সঠিক সময়ে ঘুম হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
ঘুম না হলে হার্টে প্রভাব পড়তে পারে। ছবি: সংগৃহীত
৫. সক্রিয় থাকা
চিকিৎসকদের মতে, শুধু সপ্তাহে এক দিন জিমে গেলেই হবে না। প্রতি দিন শরীরকে সক্রিয় রাখা জরুরি। হাঁটা, সাঁতার কাটা, সাইকেল চালানো, যোগাসন করা বা শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম— সব কিছুরই উপকারিতা রয়েছে। হৃদ্যন্ত্রের জন্য অ্যারোবিক ব্যায়াম যেমন জরুরি, তেমনই পেশি ও হাড়ের জন্য রেজ়িস্ট্যান্স ট্রেনিংও প্রয়োজন।