গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
আইপিএল-এর ফাইনালে না খেলেও নজর কেড়েছেন ১৫ বছরের ক্রিকেটার। ৬৩টি চার এবং ৭২টি ছক্কার মালিক বৈভব সূর্যবংশীকে কমলা টুপি দিয়ে সাম্মানিত করা হয়েছে। কম বয়সে এত ভাল খেলার রহস্য লুকিয়ে কোথায়? এ বার তা নিয়ে বিশেষ গবেষণা করতে চলেছে আইআইএম ইনদওর।
সাধারণত ১৫ বছর বয়সে, বেশির ভাগ কিশোরই লক্ষ্য স্থির করে উঠতে পারে না। সেখানে বৈভবের খেলা মন ছুঁয়েছে আট থেকে আশি সকলের। একের পর এক রেকর্ড সে সাবলীল ভাবে ভেঙেছে, তৈরি করেছে দৃষ্ঠান্ত। রাজস্থান রয়্যালস-এর ব্যাটার হিসাবে তাঁর এ মরসুমের স্ট্রাইক রেট ২৩৭.৩০। ওই কিশোর ১৬ ইনিংস খেলে ৭৭৬ রান সংগ্রহ করেছে।
কম বয়সে এত ভাল খেলার জন্য যে পরিশ্রম বৈভব করেছে, তা নিয়ে চর্চা করতে চাইছে আইআইএম ইনদওর। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা হিমাংশু রাই জানিয়েছেন, খেলার বাইরে বৈভব কী ভাবে নিজেকে প্রস্তুত করেছে, সে বিষয়ের অনুসন্ধানেই বেশি জোর দেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “ক্রিকেটে সাফল্যের নেপথ্যে একজন মানুষের মধ্যে কত সম্ভাবনা লুকিয়ে থাকে, কোন অনুঘটকের সাহায্যে তার বিকাশ হতে পারে— তা নিয়ে এই বিশেষ কেস স্টাডি চলবে।”
এ বারের আইপিএলে জেতা পাঁচটি ট্রফির সঙ্গে বৈভব সূর্যবংশী। ছবি: এক্স।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, এই বিষয় নিয়ে স্পোটর্স সায়েন্স-এর গবেষক, মনোবিদ এবং ম্যানেজমেন্ট বিভাগের বিশেষজ্ঞেরা চর্চা করবেন। তাঁরা খতিয়ে দেখবেন, যশ, খ্যাতি, জনমতের বিপুল প্রত্যাশার চাপে কিশোর মনে কী প্রতিক্রিয়া তৈরি হচ্ছে? তারা কি মূল বিষয়ে মনোযোগ দিতে পারছে? তাতে পরিবার, প্রশিক্ষক, প্রতিষ্ঠান, ব্যক্তিগত আদর্শ কতটা প্রভাব ফেলছে— সে সব নিয়েও গবেষণা করা হবে।
উল্লেখ্য, মরসুম শুরু হওয়ার আগেই নিজের লক্ষ্য স্থির করে রেখেছিল বৈভব। ফাইনালের পর আইপিএল-এর সম্প্রচারকারী চ্যানেলকে কিশোর ক্রিকেটার সেই কথাও জানায়। সে বলেছে, ‘‘মরসুম শুরুর আগে ফোনে লিখে রেখেছিলাম আইপিএলে আমায় ৭০০ রান করতে হবে। প্রতি ম্যাচের পর নিজেকে সেটা মনে করিয়ে দিতাম।’’ বৈভবের এই দৃঢ়চেতা মনোভাবে মুগ্ধ হয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমীরা।