— প্রতীকী চিত্র।
বিদ্যুতের বিল বাবদ প্রতি বছরে খরচ হয় প্রায় ২০ লক্ষ টাকা। এ দিকে বছর ঘুরলেও বরাদ্দ অর্থ মিলছে না। বিদ্যুতের বিল মেটাতে গিয়ে কার্যত ছাত্রাবাস বন্ধ করে দেওয়ার উপক্রম। এমনই পরিস্থিতিতে স্কুলশিক্ষা দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে সৌর প্যানেল বসানোর দাবি তুলছেন বহু স্কুলের প্রধানশিক্ষক।
সম্প্রতি জানা গিয়েছে, উত্তর থেকে দক্ষিণ— রাজ্যের বহু জেলার স্কুলেই ছাত্রাবাস চালানোর মতো অর্থ পাওয়া যাচ্ছে না। গত অর্থবর্ষে বরাদ্দ টাকা হাতে পাননি কর্তৃপক্ষ। নানা খরচের মধ্যে অন্যতম বিদ্যুতের খরচ। সে ক্ষেত্রে সৌরবিদ্যুৎ হতে পারে আদর্শ বিকল্প। যদিও সমগ্র শিক্ষা মিশনের প্রকল্পে কিছু স্কুলে সৌর প্যানেল বসানো হলেও ছাত্রাবাসের এমন কোনও ব্যবস্থা নেই বলেই জানা গিয়েছে।
কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক চন্দন মাইতি জানান, তাঁদের স্কুলে ৫টি ছাত্রাবাস রয়েছে। সেখানে প্রায় ৭০০ পড়ুয়া থাকে। বছরে প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা বিদ্যুতের বিল মেটাতে হয়। সৌর প্যানেল থাকলে এই সমস্যার সমাধান হওয়া সম্ভব বলে মনে করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্কুলে যে সৌর প্যানেল রয়েছে সেটা পর্যাপ্ত নয় বলেই দাবি তাঁর। চন্দন বলেন, ‘‘শহরতলি ও গ্রামের দিকে এই ছাত্রাবাসগুলি কতটা গুরুত্বপূর্ণ সরকার কি সেটা বুঝতে চাইছে না? এমনিতেই গোটা অর্থবর্ষে কোনও অর্থ পাওয়া যায়নি। তার উপরে ছাত্রাবাসের বিদ্যুতের বিল মেটাতে আমরা হিমসিম। এ বারে ছাত্রাবাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সরকারের উচিত এই বিষয়ে স্পষ্ট ভাবে নীতি নির্ধারণ করা এবং সাহায্য করা।’’
পূর্ব মেদিনীপুরের ময়না ব্লকের আধারিয়া জাতীয় বিদ্যাপীঠ হাই স্কুলের প্রধানশিক্ষক গোপালচন্দ্র ভক্তা জানিয়েছেন, স্থানীয় শিক্ষা দফতরে সৌর প্যানেল বসানোর জন্য আবেদন করেছেন তাঁরা। বছরে প্রায় ২০ হাজার টাকার বেশি বিদ্যুতের জন্য খরচ হয়। মাঝে মধ্যে লোডশেডিং হয়ে গেলেও পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়ে।
ওই জেলারই চণ্ডীপুরের গোপীনাথপুর হাই স্কুলে অবশ্য ইতিমধ্যেই সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। প্রধানশিক্ষক সজল বটব্যাল জানান, তাঁদের স্কুলে সৌর প্যানেল বসানো হয়েছে। সেটা দিয়েও আপাতত কাজ চলে যাচ্ছে। তবে ছাত্রাবাসের জন্য পৃথক কোনও সৌর প্যানেল নেই। তিনি অবশ্য বেশি জোর দিয়েছেন ছাত্রাবাসের পরিকাঠামোর উপরে।
স্কুলশিক্ষা দফতর সূত্রের খবর, ইতিমধ্যে সমগ্রশিক্ষা মিশনে কেন্দ্রের বরাদ্দ অর্থ বন্ধ রয়েছে। তাই তা দিয়ে আদৌ সৌর প্যানেল বসানোর কাজ করা যাবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। যদিও শিক্ষকদের দাবি, পরিবেশবান্ধব এই বিদ্যুতের ব্যবস্থা যে ভাবেই হোক সরকারের করা উচিত। প্রধান শিক্ষকদের তরফ থেকে এই দাবিই তোলা হচ্ছে।