ছেলে খুন হয়েছে এক বছর হয়নি। তারই মধ্যে বামনগাছির প্রতিবাদী ছাত্র সৌরভ চৌধুরীর বাবা সরোজ চৌধুরীকে মারধরের অভিযোগ উঠল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। শুধু সরোজবাবু নয়, বেধড়ক মারধর করা হয়েছে তাঁর বড় ছেলে সন্দীপকেও। মঙ্গলবার রাতে দত্তপুকুর থানায় এই নিয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ঘটনায় অভিযুক্ত তৃণমূলের এক পঞ্চায়েত সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতের নাম তুষার মজুমদার ওরফে বিশু। তিনি স্থানীয় ছোট জাগুলিয়া পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্য। বুধবার তাঁকে বারাসত আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
কী হয়েছিল ওই দিন?
পুলিশের কাছে অভিযোগে জানানো হয়েছে, রাত তখন ১০টা। স্থানীয় কুলবেড়িয়ার বাসিন্দা জগন্নাথ দে টেলিফোনে সরোজবাবুকে জানান তৃণমূল কর্মীরা তাঁকে মারধর করছে। এলাকায় তিনি বিজেপি সমর্থক হিসেবে পরিচিত। খবর পেয়ে ছেলে সন্দীপকে নিয়ে তড়িঘড়ি করে জগন্নাথবাবুর বাড়ি পৌঁছন সরোজবাবু। সেখানে গিয়ে তাঁর নাম ধরে ডাকাডাকি করার মধ্যেই আচমকা সরোজবাবুদের উপর চড়াও হন তুষারবাবু। কোনও প্ররোচনা ছাড়াই তাঁদের বেধড়ক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তুষারবাবুর বিরুদ্ধে দত্তপুকুর থানায় অভিযোগ জানানো হয়। তাঁকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তুষারবাবু যদিও সরোজবাবুদের বিরুদ্ধে তাঁকে মারধর করার পাল্টা অভিযোগ করেছেন থানায়। আহত সরোজবাবুকে বারাসত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চোখে এবং মাথায় আঘাত নিয়ে তিনি সেখানেই চিকিত্সাধীন। তাঁর ছেলে সন্দীপ বলেন, ‘‘বাবার সঙ্গে আমাকেও বেধড়ক মারধর করেছে। বাবার মাথার পেছনের দিকে এবং বাঁ চোখে গুরুতর আঘাত লেগেছে।’’
গত বছরের ৫ জুলাই সকালে সরোজবাবুর ছোট ছেলে সৌরভের দেহ মেলে দত্তপুকুর ও বামনগাছি স্টেশনের মাঝে ৩ নম্বর রেলগেট এলাকায়। আগের দিন রাত থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। তার ঊর্ধ্বাঙ্গের একটি অংশ পড়েছিল আপ লাইনের উপরে। শ’খানেক মিটার দূরে ডাউন লাইনে মেলে বাকি অর্ধেক অংশ। রেললাইনের পাশের ডোবায় পাওয়া যায় মুন্ডু। লাইনের আশপাশ থেকে মেলে আরও একটি হাত ও পা। চৌধুরী পরিবার এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, শ্যামলকান্তি কর্মকার নামে স্থানীয় এক দুষ্কৃতীর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোয় সে ও তার সঙ্গীরা সৌরভকে খুন করেছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, ওই ঘটনায় মূল অভিযুক্ত শ্যামল ছিল তুষারের ঘনিষ্ঠ। এর আগে তোলাবাজি এবং মারধরের ঘটনায় বেশ কয়েক বার গ্রেফতার হতে হয়েছে তুষারবাবুকে। ঘটনার পর যদিও জগন্নাথবাবু পুলিশের কাছে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। এ বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করতেও রাজি হননি তিনি।
বিজেপি-র রাজ্য সভাপতি রাহুল সিংহ বলেন, ‘‘এটা তৃণমূলের ঘৃণ্য আক্রমণ ছাড়া কিছুই নয়। সেই জন্যই ওরা নিজেদের দলের লোককে গ্রেফতার করিয়ে প্রহসন করছে। আদালতে গেলেই তো জামিন পেয়ে যাবে।’’
সিমিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী বলেন, ‘‘সৌরভ খুনের প্রতিবাদে ওর বাবা-দাদা রাস্তায় নেমেছিল, সেটা নিয়ে ক্ষোভ ছিল শাসক দলের মনে। সেটাই হামলার মুখ্য কারণ। তৃণমূল বলছে, ওঁরাই নাকি আক্রমণ করেছিলেন! এর চেয়ে হাস্যকর যুক্তি কী হতে পারে! যা দেখা যাচ্ছে, মানুষ এ রাজ্যে প্রতিবাদও করতে পারবে না!’’