অবৈধ ভাবে বালি তোলার কারণে তৈরি হওয়া নদীর চোরা স্রোত কেড়ে নিল আরও দু’টি ছাত্রের প্রাণ। মৃতেরা হলেন কলকাতার আশুতোষ কলেজের ভূগোল অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র তন্ময় প্রামাণিক ওরফে নীল (১৮) এবং ওই কলেজের ইংরেজি অনার্সের প্রথম বর্ষের ছাত্র অতনু রাজবংশী ওরফে বাবান (১৯)। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুর ও খড়্গপুর শহরের মধ্যে দিয়ে বয়ে যাওয়া কাঁসাই নদীতে, রেল সেতুর ঠিক নীচেই। শনিবার সকালে জলে তলিয়ে যাওয়া ওই দুই ছাত্রের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
কী ভাবে এই ঘটনা ঘটল? পুলিশ জানিয়েছে, খড়্গপুর শহরের ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা স্নেহাশিস ভট্টাচার্য আশুতোষ কলেজেরই ভূগোল অনার্সের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। ছাত্র রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন স্নেহাশিস। সেই সূত্রেই কলেজের অন্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক ছিল। কিছু দিন যাবৎ স্নেহাশিস অসুস্থ থাকায় কলেজ যেতে পারেননি। তাই বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তন্ময়, অতনু ও ইনজামাম উল হক নামে কলেজের তিন ছাত্র তাঁকে দেখতে খড়্গপুরে এসেছিলেন। সেখান থেকেই শুক্রবার দুপুরে কাঁসাই নদীতে ৬ জন বন্ধু মিলে স্নান করতে এসেছিলেন। রেল সেতুর কাছেই নদীর মধ্যে ছিল একটি বিশাল গর্ত। যন্ত্রের মাধ্যমে বালি তোলার কারণে সেই গর্ত তৈরি হয়েছে। দু’দিন হল ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ার কারণে কাঁসাই নদীতে জলও রয়েছে। তবে এই অংশে নদী খুব চওড়া হওয়ায় চড়া অংশে জল হাঁটু সমান। সেখানে বন্ধুরা কিছু ক্ষণ সময় কাটান। এ-দিক সে-দিক ছোটাছুটিও করেন। কিন্তু বুঝতে পারেননি বালি তোলার কারণে একটি জায়গায় মরণফাঁদ ছিল। সেখানে পৌঁছতেই চরা বালির স্রোতে ধীরে ধীরে জলে তলিয়ে যান দু’জন। বাকিরা তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়েও বিফল হন।
অবৈধ ভাবে বালি তোলা বন্ধ করা নিয়ে সেচ দফতরের এক এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার বলেন, “আমি কারিগরি বিষয় সম্বন্ধে পরামর্শ দিতে পারি। কিন্তু বালি চুরি আটকাবো কী ভাবে?”