উপাচার্যের পাশেই আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসংসদ, অখুশি আদালত

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগারে স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের ঢোকার বিষয়ে মন্তব্য করে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। শুক্রবার তাঁর সেই মন্তব্যের সমর্থনে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্বাচিত ছাত্রসংসদকে পাশে পেয়ে গেলেন উপাচার্য জমির উদ্দিন শাহ। যদিও এ বিষয়ে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এক ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন উপাচার্যের এই মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ১৪ নভেম্বর ২০১৪ ১৯:৩৬
Share:

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগারে স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের ঢোকার বিষয়ে মন্তব্য করে সম্প্রতি বিতর্ক তৈরি করেছিলেন। শুক্রবার তাঁর সেই মন্তব্যের সমর্থনে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্বাচিত ছাত্রসংসদকে পাশে পেয়ে গেলেন উপাচার্য জমির উদ্দিন শাহ। যদিও এ বিষয়ে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একটি জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে এক ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন উপাচার্যের এই মন্তব্যে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। ছাত্রীদের ওই গ্রন্থাগারে প্রবেশের নির্দেশ দিয়ে উপাচার্যকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে আদালতকে তা জানাতে বলা হয়েছে।

Advertisement

তাঁর কাছে প্রধান গ্রন্থাগারটি স্নাতক স্তরের ছাত্রীরা ব্যবহারের অনুমতি চাইলে গত সোমবার উপাচার্য জমির উদ্দিন শাহ বলেন, “মেয়েদের গ্রন্থাগারে ঢোকার অনুমতি দিলে ছেলেদের আসাও চার গুণ বেড়ে যাবে।” উপাচার্যের মন্তব্যের নিন্দা করেন মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী স্মৃতি ইরানিও। তিনি বলেছিলেন, “মহিলা হিসেবে উপাচার্যের এ হেন মন্তব্য শুধু দুঃখ দেয় না, ক্ষোভও তৈরি করে... এমন মন্তব্য কন্যাসন্তানদের অপমান।” এর পরে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে রিপোর্টও চেয়ে পাঠায় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রক। মুখ খোলে জাতীয় মহিলা কমিশনও। কিন্তু উপাচার্য জানান, স্রেফ জায়গা নেই বলেই স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের প্রধান গ্রন্থাগারে আসতে দেওয়া হয় না। এ দিন ছাত্রসংসদ স্মৃতি ইরানির বক্তব্যেরও সমালোচনা করেছে। সংসদের সভাপতি আবদুল্লাহ আজম বলেন, “দেশের শিক্ষা মানচিত্রে গৈরিকিকরণের কালো ছায়া পড়ছে। আমরা প্রতিবাদ করছি।” সংসদ সম্পাদক শাহজেব আহমেদ বলেন, “উপাচার্যকে সুনিশ্চিত করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি যেন কোনও ভাবেই বিঘ্নিত না হয়।” মন্ত্রকের এমন রিপোর্ট তলব করার প্রেক্ষিতে ছাত্রছাত্রীরা দিল্লিতে ধরনাতেও বসবে বলে জানিয়েছেন সংসদের সহ-সভাপতি মাসুদুল হাসান।

ছাত্রীদের মৌলানা আজাদ গ্রন্থাগারে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার পাশাপাশি উপাচার্যের ওই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইলাহাবাদ হাইকোর্টে সম্প্রতি একটি জনস্বার্থের মামলা করা হয়। এ দিন আদালত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের ওই গ্রন্থাগারে প্রবেশে অনুমতি দেওয়ার নির্দেশ দেয়। হাইকোর্টের মুখ্য বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত এক ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন উপাচার্যকে আগামী ২৪ নভেম্বরের মধ্যে এ বিষয়ে তাঁর ব্যাখ্যা তলব করেছে। স্নাতক স্তরের ছাত্রীদের গ্রন্থাগারে ঢুকতে দেওয়ার অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি তাঁদের ‘অখুশি’ করেছে বলেও এ দিন মন্তব্য করেন বিচারপতিরা। যদিও এ দিন আদালতকে তাঁর পুরনো ব্যাখ্যাই মৌখিক ভাবে জানিয়েছেন উপাচার্য। আদালত তার প্রেক্ষিতেই ১০ দিনের মধ্যে উপাচার্যকে গোটা ঘটনার ব্যাখ্যা লিখিত ভাবে জমা দেওয়ার ওই নির্দেশ দেয়।

Advertisement

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement