লোকেশ রাহুল। —ফাইল চিত্র।
দেওয়াল লিখন আগেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বৃহস্পতিবার তাতে সিলমোহর পড়ল। হাসতে হাসতে রঞ্জি ট্রফির ফাইনালে উঠল কর্নাটক। উত্তরাখণ্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ফাইনালে উঠলেন লোকেশ রাহুল, দেবদত্ত পড়িক্কলেরা। ১১ বছর পর রঞ্জির ফাইনালে উঠল কর্নাটক। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ প্রথম বার এই প্রতিযোগিতার ফাইনালে ওঠা জম্মু-কাশ্মীর।
২০১৪-১৫ মরসুমে শেষ বার রঞ্জির ফাইনালে উঠেছিল কর্নাটক। সে বার তামিলনাড়ুকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। ২০১৩-১৪ মরসুমেও রঞ্জি জিতেছিল কর্নাটক। সে বার তারা হারিয়েছিল মহারাষ্ট্রকে। কিন্তু ২০১৪-১৫ মরসুমের পর থেকে ভারতের ঘরোয়া লাল বলের প্রতিযোগিতা জেতা তো দূর, ফাইনালেই উঠতে পারেনি তারা। এ বার আবার স্বপ্ন দেখাচ্ছেন রাহুলেরা।
মূলত ব্যাটারদের দাপটেই সেমিফাইনালে উত্তরাখণ্ডকে হারিয়েছে কর্নাটক। প্রথম ইনিংসে তারা ৭৩৬ রান করে। রাহুল ১৪১, পড়িক্কল ২৩২ ও আর স্মরণ ১৩৫ রান করেন। জবাবে উত্তরাখণ্ড প্রথম ইনিংসে ২৩৩ রানে অল আউট হয়ে যায়। ফলো অনের সুযোগ থাকলেও তা করায়নি কর্নাটক। তারা জানত, প্রথম ইনিংসের লিডেই ম্যাচ জিতে যাবে। তাই ব্যাটিং অনুশীলন করেছে।
দ্বিতীয় ইনিংসে ৩২৩ রান করে কর্নাটক। আবার শতরান করেন স্মরণ (১২৭)। রাহুল ৮৬ রানে অপরাজিত থাকেন। পড়িক্কল ব্যাট করতে নামেননি। উত্তরাখণ্ডের সামনে লক্ষ্য ছিল ৮২৭ রান। সেই রান যে উত্তরাখণ্ড করতে পারবে না, তা নিশ্চিত ছিল। ৬ উইকেটে ২৬০ রানের মাথায় খেলা ড্র করার সিদ্ধান্ত নেন উত্তরাখণ্ডের অধিনায়ক। প্রথম ইনিংসে লিড নিয়ে ফাইনালে ওঠে কর্নাটক।
২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হবে রঞ্জির ফাইনাল। কর্নাটকের হুবলির মাঠে খেলা হবে। কর্নাটকের বেঙ্গালুরুতে চিন্নাস্বামী থাকলেও আপাতত সেখানে সংস্কারের কাজ চলছে। গত বছর রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর আইপিএল জয়ের উল্লাসে পদপিষ্ট হয়ে ১১ জনের মৃত্যুর পর থেকে সেই স্টেডিয়াম বন্ধ। সেখানে বেশ কিছু সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। সামনেই আইপিএল। তার আগে সংস্কারের কাজ করে ফেলতে চাইছে কর্নাটক ক্রিকেট সংস্থা। তা হলে আইপিএলের ম্যাচ সেখানে আয়োজন করা যাবে। সেই কারণেই হুব্বালিতে রঞ্জির ফাইনাল হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।