ছবি: রয়টার্স।
ভারত তথা আন্তর্জাতিক মহলের চাপে অবশেষে টনক নড়ল পাকিস্তানের। ‘টেকনিক্যাল ভুল’ শুধরে মুম্বই হামলার অন্যতম মূল চক্রী জাকিউর রহমান লকভির জামিনের বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিল তারা। পাশাপাশি জামিন পাওয়া লকভিকে অন্য একটি মামলায় ফের নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে পাক প্রশাসন।
গত মঙ্গলবার পেশোয়ারের সেনা স্কুলে বর্বরোচিত হামলা চালায় তেহরিক-ই-তালিবান। হামলার পরেই তালিবান-সহ বিভিন্ন জঙ্গিগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানের আশ্বাস দেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। অভিযানে যে ‘ভাল ও খারাপ তালিবান’-এর বাছাবাছি হবে না তা-ও জানিয়েছিলেন তিনি। ছ’বছর ধরে বন্ধ থাকা মৃত্যুদণ্ডের উপর স্থগিতাদেশ তুলে দেশ জুড়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গিদের উপর তা প্রয়োগ করার কথাও জানান তিনি। সেই সিদ্ধান্ত দ্রুত কার্যকর করতে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ১৭ জন জঙ্গির ফাঁসির সিদ্ধান্ত নেয় পাক সরকার।
পাকিস্তানের এই সর্বাত্মক জঙ্গি দমনের আশ্বাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছিল ভারত-সহ গোটা বিশ্ব। কিন্তু এর পরেই এল লকভির জামিনের খবর। স্কুলে হামলা এবং প্রশাসনের ‘যুদ্ধ যোষণা’র ৪৮ ঘণ্টা কাটার আগেই এই জঙ্গিকে জামিন দেয় আদালত। জামিনের বিরোধিতা করে পাকিস্তান সরকারের মনোভাবের তীব্র সমালোচনা করে ভারত। শুক্রবার বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র সৈয়দ আকবরুদ্দিন বলেন, “মুম্বই হামলার অন্যতম মূল চক্রীকে পাকিস্তান জামিন দেওয়ায় ভারত বিস্মিত। জঙ্গি দমনে পাক সরকারের দ্বিচারিতার বড়সড় প্রমাণ এই রায়। মুম্বই হামলায় লকভির জড়িত থাকার বহু নথি পাকিস্তানকে দিয়েছে ভারত। এর পরেও এই সিদ্ধান্তে ভারত হতাশ।” পাকিস্তানকে যে যথেষ্ট কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে তা এ দিন লোকসভায় জানান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। লকভির জামিনের বিরোধিতায় সরব হয় বিশ্বের বিভিন্ন দেশ।
আন্তর্জাতিক চাপের সামনে ব্যাকফুটে চলে যাওয়া পাকিস্তান প্রথম থেকেই সামনে আনে ‘টেকনিক্যাল ভুল’-এর তত্ত্ব। এ দিন সেই তত্ত্বকেই সামনে রেখে পাক প্রশাসনের তরফ থেকে জানিয়ে দেওয়া হল, লকভির জামিনের বিরোধিতা করে লাহৌর হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছে সরকার। পাশাপাশি পুরনো একটি মামলায় ফের তাকে হেফাজতে নিয়ে আপাতত তার জামিন পাওয়াও আটকানো হয়েছে।
পাক অধিকৃত কাশ্মীরের রাজধানী মুজফ্ফররাবাদ থেকে ধৃত লকভি ২০০৯ সাল থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা জেলে বন্দি। মুম্বই হামলায় অভিযুক্ত আরও ছয় জঙ্গি ওই একই জেলে আছে। বৃহস্পতিবার লকভি জামিন পেলেও বাকিরা তা পায়নি।