হেডমাস্টার নয়, টাস্কমাস্টার হিসেবেই নিজেকে দেখতে চান মোদী

ইম্ফলের এক কিশোরের প্রশ্ন ছিল, “কী ভাবে আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি?” সহাস্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে লড়ার ‘পরামর্শ’ দিলেন। এর ফলে ২০২৪ পর্যন্ত তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব যে সুরক্ষিত থাকবে তা-ও জানিয়ে দিলেন তিনি। আর এক ছাত্রের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কী ধরনের শিক্ষক হতেন? মোদীর উত্তর, হেডমাস্টার নয়, নিজেকে টাস্কমাস্টার হিসাবেই দেখতে চাইতেন তিনি। তাঁর ছাত্রজীবনে কোনওদিন ক্লাস মনিটর নির্বাচনেও লড়েননি বলে জানান মোদী।

Advertisement

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ০৫ সেপ্টেম্বর ২০১৪ ১৯:১০
Share:

ছবি: এএফপি।

ইম্ফলের এক কিশোরের প্রশ্ন ছিল, “কী ভাবে আমি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতে পারি?” সহাস্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাকে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে লড়ার ‘পরামর্শ’ দিলেন। এর ফলে ২০২৪ পর্যন্ত তাঁর প্রধানমন্ত্রিত্ব যে সুরক্ষিত থাকবে তা-ও জানিয়ে দিলেন তিনি। আর এক ছাত্রের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী কী ধরনের শিক্ষক হতেন? মোদীর উত্তর, হেডমাস্টার নয়, নিজেকে টাস্কমাস্টার হিসাবেই দেখতে চাইতেন তিনি। তাঁর ছাত্রজীবনে কোনওদিন ক্লাস মনিটর নির্বাচনেও লড়েননি বলে জানান মোদী।

Advertisement

উপলক্ষ ছিল শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে। আর সেই অনুষ্ঠানে দেশের লক্ষাধিক ছাত্র-শিক্ষক প্রায় পৌনে দু’ঘণ্টার হাই প্রোফাইল আড্ডা দিলেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে। দিল্লির মানেকশ’ প্রেক্ষাগৃহে এ দিন উপস্থিত ছিলেন হাজারখানেক ছাত্রছাত্রী। দূরদর্শনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটির সরাসরি সম্প্রচার হয়েছে দেশের বিভিন্ন স্কুলে। উপগ্রহের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটিতে অংশ নিয়েছিল দেশের বিভিন্ন স্কুলের ছাত্রছাত্রী। মানবাধিকার কমিশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সরাসরি সম্প্রচারিত হয় সমগ্র অনুষ্ঠান।

Advertisement

মোদী বললেন

• শিক্ষকই ছাত্রের জীবনে আদর্শ। শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা, বিশ্বাসই ছাত্রছাত্রীর জীবনে পরিবর্তন আনে। প্রতিটি সফল ব্যক্তির জীবনে শিক্ষকের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

• স্কুলে কোনওদিন মনিটরের নির্বাচনও লড়িনি। তাই ছাত্রজীবনে কখনও ভাবিনি প্রধানমন্ত্রী হব।

• মুখ্যমন্ত্রী থেকে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে জীবনে বিশেষ কোনও পরিবর্তন আসেনি। তবে দায়িত্ব অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। এখন আরও বেশি সতর্ক থাকতে হচ্ছে।

• অনেক মেধাবী শিক্ষার্থীই এখন শিক্ষক হতে চান না। এই বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন।

• একটা সময় ছোট ছোট গ্রামগুলিতে সম্মাননীয় ব্যক্তিরা শিক্ষক হতেন। এখন সেই ব্যবস্থা বদলে গিয়েছে।

• শিক্ষকেরাই ছাত্রছাত্রীর আসল হিরো। অনেক শিক্ষার্থীই তার জীবনের আদর্শ শিক্ষকের মতো পোশাক পড়ে, তাঁর অনুকরণ করার চেষ্টা করে। এই উত্সাহকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।

• দেশে ভাল শিক্ষকের খুব প্রয়োজন। সফল ব্যক্তিদের উচিত কিছু ক্ষণের জন্য হলেও স্কুলে গিয়ে পড়ানো।

• ছাত্রছাত্রীদের উচিত মহান ব্যক্তিদের জীবনচরিত পড়া ও সেই সময়ের ইতিহাস জানা। তবেই শিক্ষার সার্বিক বিকাশ হবে।

• জাপানের অনেক স্কুলে ছাত্র ও শিক্ষকেরা একই সঙ্গে স্কুল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখেন। আমাদের দেশেও এই ব্যবস্থা চালু করতে হবে।

• শিক্ষকদের উচিত ছাত্রছাত্রীদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচয় করানো।

• শরীরচর্চা এবং খেলাধূলা ছাড়া জীবনের বিকাশ সম্ভব নয়।

• আমি হেডমাস্টার হতে চাই না, টাস্কমাস্টার হতে চাই। মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে চাই।

• নারীশিক্ষা প্রসারে এখন বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। প্রত্যেক স্কুলে শৌচাগার থাকা খুবই প্রয়োজন।

• শুধু বৃত্তিগত প্রশিক্ষণ নয়, প্রতিভা থাকা দরকার।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement