WB Assembly Election 2026

উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের ‘সেনাপতি’ অভিষেক

বারাবনি হোক বা তারাপীঠ সংলগ্ন কড়কড়িয়া মাঠ— ভোটপ্রচারে অভিষেকের মুখে বার বার শোনা গিয়েছে ‘উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ডের’ কথা। গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারাবনি ও হাসন কেন্দ্রে কী কী উন্নয়ন করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরেন তিনি।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ২১:১৭
Share:

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: সংগৃহীত।

ভোটপ্রচারে শনিবার তাঁর জোড়া সভা থেকে বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুড়লেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে তিনি পশ্চিম বর্ধমানের বারাবনিতে এবং পরে বীরভূমের তারাপীঠ সংলগ্ন হাসনের কড়কড়িয়া মাঠে জনসভা করেন। গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার দুই বিধানসভা কেন্দ্রে কী কী উন্নয়ন করেছে, তার খতিয়ান তুলে বিজেপিকে অভিষেকের চ্যালেঞ্জ, ‘‘আমি আমাদের উন্নয়নমূলক কাজের ভিত্তিতে ওদের হারানোর প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। যদি না-হারাতে পারি তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’

Advertisement

বারাবনিতে এ বার তৃণমূলের প্রার্থী বিধান উপাধ্যায়। তাঁর বিপক্ষে লড়ছেন বিজেপির অরিজিৎ রায়। অভিষেকের দাবি, ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, হুমকির অভিযোগ দায়ের হয়েছে। সেই বিষয় উল্লেখ করে তৃণমূলের ‘সেনাপতি’র সাবধানবাণী, ‘‘ওঁকে ভোট দেওয়ার অর্থ বারাবনির মাটিতে অপরাধীদের রাজত্ব ফিরিয়ে আনা।’’ অভিষেকের কথায়, ‘‘বিজেপিতে ভাল মানুষ পাওয়া যাবে না। ওদের পার্টি অফিস কয়লা মাফিয়াদের দখলে।’’

বারাবনি হোক বা তারাপীঠ সংলগ্ন কড়কড়িয়া মাঠ— ভোটপ্রচারে অভিষেকের মুখে বার বার শোনা গিয়েছে ‘উন্নয়নের রিপোর্ট কার্ডের’ কথা। গত ১৫ বছরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারাবনি কেন্দ্রে কী কী উন্নয়ন করেছে, তার খতিয়ান তুলে ধরে অভিষেক বলেন, ‘‘আমি বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ করছি, ওরা ওদের সুবিধামতো সময় ও স্থানে মোদী সরকারের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসুক। আমি আমাদের সরকারের রিপোর্ট কার্ড নিয়ে আসব। তুলনা করে দেখা হবে, কে মানুষের জন্য কী কাজ করেছে।’’ হাসনের তৃণমূল প্রার্থী কাজল শেখের সমর্থনে জনসভাতেও অভিষেক একই চ্যালেঞ্জ করেন। আগামী ৯ এপ্রিল বীরভূমে আসার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। সেই কথা উল্লেখ করে অভিষেক বলেন, ‘‘আপনি যখন আসবেন, তখন প্রমাণ নিয়ে আসুন যে, গত পাঁচ বছরে কী কী উন্নয়ন এবং জনকল্যাণমূলক কাজ করেছেন।’’ তৃণমূল নেতার চ্যালেঞ্জ, ‘‘যদি বীরভূমের উন্নয়নে কেন্দ্রের এক পয়সার অবদান দেখাতে পারেন, তবে আমি আর কখনও তৃণমূলের হয়ে প্রচার করব না।’’ একই সঙ্গে অভিষেক বলেন, ‘‘দুরবাজপুরে জিতেছিল বিজেপি। তবে ওই কেন্দ্রে যদি বাড়তি উন্নয়ন দেখাতে পারে, তবে রাজনীতি ছেড়ে দেব।’’

Advertisement

অভিষেক জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার-সহ সরকারের যে সব জনকল্যাণমূলক প্রকল্প রয়েছে, তা আগামী দিনেও চলবে। তাঁর কথায়, ‘‘কিছু বিজেপি নেতা যখন লক্ষ্মীর ভান্ডার বন্ধ করার কথা বলেন, অন্যরা তখন তা বাড়ানোর কথা বলেন। আমি ওদের চ্যালেঞ্জ করছি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে ভাবে মহিলাদের জন্য প্রকল্প চালু করেছেন, অসম, ত্রিপুরা, গুজরাত, রাজস্থান বা মধ্যপ্রদেশের মতো অন্তত একটি বিজেপিশাসিত রাজ্যে তেমন একটা করে দেখাক। ওরা যদি পারে, তবে আমি আর কখনও এখানে ভোট চাইতে আসব না।’’

মোদীর সরকার এবং ইউপিএ সরকারের তুলনা টেনে অভিষেক বলেন, ‘‘গত ১০-১২ বছরে কী হয়েছে? নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে।’’ বারাবনির মতো হাসানের জনসভা থেকেও অভিষেক বিজেপি-কে নিশানা করেছেন। এসআইআরে যাঁদের নাম বাদ পড়েছে, তাঁদের আশ্বস্ত করে অভিষেক বলেন, চিন্তা করবেন না। অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়া হচ্ছে। আমরা এই বিষয়ে রাজপথে, সংসদে এবং আদালতে লড়াই করেছি। কেউ আপনাদের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে পারবে না। প্রতিটি ব্লক এবং পঞ্চায়েতের সঙ্গে আমার অফিস যোগাযোগ রাখছে এবং সুপারভাইজ়ার মোতায়েন আছে।’’ অভিষেকের কথায়, ‘‘আমরা ভেদাভেদের রাজনীতি করি না। ধর্ম, বর্ণ বা জাতি নির্বিশেষে আমরা মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছি। আমরা বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যে বিশ্বাস করি।’’

Advertisement

কড়কড়িয়া মাঠে জনসভা শেষে অভিষেক তারাপীঠের মন্দিরে যান। সেখানে পুজো দেন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement