অধীর চৌধুরী। — ফাইল চিত্র।
নবাব-ভূমে ইতিহাসের কাঁটা আবার পুরনো বিন্দু ছুঁতে চলেছে ৩০ বছর পরে!
সব ঠিক থাকলে তিন দশক পরে ফের বিধানসভার লড়াইয়ে ফিরতে চলেছেন কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী। বহরমপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে এ বার কংগ্রেসের সম্ভাব্য প্রার্থী প্রাক্তন সাংসদই। বামেদের সঙ্গ ছেড়ে কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে এ বার একক লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে কঠিন সময়ে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য তাঁর প্রার্থী হওয়া উচিত বলে দাবি তুলছিলেন কংগ্রেসের নেতা-কর্মীরা। প্রথমে গররাজি থাকলেও শেষ পর্যন্ত কর্মীদের যুক্তির সঙ্গে অধীর সহমত হয়েছেন। তালিকা আপাতত কংগ্রেসের কেন্দ্রীয় স্ক্রিনিং কমিটির কাছে রয়েছে। এর পরে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটিতে (সিইসি) সিলমোহর পড়লে বিষয়টি চূড়ান্ত হবে।
বাম জমানায় ১৯৯৬ সালে নবগ্রাম কেন্দ্র থেকে সিপিএমের মুজফ্ফর হোসেনকে ২০ হাজার ভোটে হারিয়ে প্রথম বার বিধানসভায় এসেছিলেন অধীর। পুলিশের তাড়ায় এলাকাছাড়া কংগ্রেস প্রার্থীর সে সময়ে প্রচারের অনেকটাই হয়েছিল ক্যাসেট বাজিয়ে! তার পরে ১৯৯৯ সালে বহরমপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতে সাংসদ হয়ে যাওয়ায় বিধায়ক-পদ থেকে তিনি ইস্তফা দিয়েছিলেন। উপনির্বাচনে সে যাত্রায় বহরমপুর থেকে জিতে বিধায়ক হয়েছিলেন সিপিএমের এক সময়ের মুর্শিদাবাদ জেলা সম্পাদক নৃপেন চৌধুরী। আর অধীর পাঁচ বার সাংসদ হয়েছিলেন পরপর। তৃণমূল কংগ্রেসের ইউসুফ পাঠানের কাছে পরাজিত হয়ে সেই ইনিংসে আপাতত দাঁড়ি পড়েছে ২০২৪ সালে। এ বার অন্য ইনিংসের ভাবনা!
কংগ্রেসের বৈঠক সেরে দিল্লি থেকে বহরমপুর ফেরার পথে এই প্রশ্নে অধীর বলছেন, ‘‘বিষয়টা এখন দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বিবেচনাধীন। বিধানসভা ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে আমি প্রথমে ভাবিইনি। তবে দলের কর্মীরা এই কঠিন সময়ে লড়াই চাইছিলেন। পরে ভেবে দেখলাম, আমি এখন সাংসদ নই, প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতিও নই। দলের স্বার্থ মাথায় রেখে যেটা করা যায়, করা উচিত।’’ অধীর নিজে প্রার্থী হলে বহরমপুরে অনেক অঙ্ক যে এলোমেলো হয়ে যেতে পারে, তা মেনে নিতে দ্বিধা নেই তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি, দুই শিবিরেই। বিজেপির এক নেতার মতে, ‘‘বহরমপুরে অধীরবাবু নিজে প্রার্থী হলে হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে সমর্থন পাওয়ার ক্ষমতা রাখেন। ওই জেলায় অন্য কাউকে দিয়েই এই কাজ এখন কঠিন!’’
বিধানসভায় ২০২১ সালে বহরমপুর আসনে জয়ী হয়েছিলেন বিজেপির সুব্রত (কাঞ্চন) মৈত্র। কিন্তু লোকসভা ভোটে কংগ্রেস প্রার্থী অধীর বহরমপুর থেকে ‘লিড’ পেয়েছিলেন। এ বার বিজেপি ফের সুব্রতকে প্রার্থী করেছে। তৃণমূলের প্রার্থী বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়, যিনি গত বারও দাড়িয়েছিলেন। বামেদের তরফে বহরমপুরে লড়বেন সিপিআই (এম-এল) লিবারেশনের আবুল কাশেম শেখ। বহরমপুরের প্রাক্তন বিধায়ক ও কংগ্রেসের মুর্শিদাবাদ জেলা সভাপতি মনোজ চক্রবর্তীকে বহরমপুর লোকসভা এলাকার বাইরে একটি কেন্দ্র থেকে লড়তে দেখা যেতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রাজ্যে ২৯৪টি আসনে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নিলেও প্রত্যাশিত ভাবেই কংগ্রেস সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপাতে চাইছে মালদহ ও মুর্শিদাবাদ জেলায়। মালদহের একটি আসন থেকে প্রার্থী হতে পারেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। তৃণমূল ছেড়ে আসা মৌসম বেনজির নূর, কংগ্রেসের সাংসদ ও জেলা সভাপতি ইশা খান চৌধুরীর পরিবারের আরও কেউও প্রার্থী হওয়ার সম্ভাবনা। জোট না-থাকায় কংগ্রেসের নানা স্তরের নেতাদেরই এ বার প্রার্থী করতে হবে বিধানসভায়। দলীয় সূত্রের খবর, এআইসিসি-র পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীর দলের পরিচিত সব নেতাকেই ভোটের ময়দানে নামার জন্য হাই কম্যান্ডের তরফে অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে বর্ষীয়ান দুই নেতা প্রদীপ ভট্টাচার্য ও আব্দুল মান্নানের এই তালিকায় ব্যতিক্রম হওয়ার কথা। শাসক তৃণমূলের টিকিট না-পাওয়া বিধায়কদের মধ্যে কেউ কেউও কংগ্রেসের সঙ্গে ষোগাযোগ করছেন। তবে সূত্রের খবর, শেষ মুহূর্তে দলে এসেই টিকিট পেয়ে যাওয়ার নীতির বিপক্ষে কংগ্রেসের একাংশ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে