NIA

উদ্দেশ্য কি ভারত বিরোধী কার্যকলাপ, তদন্তে এনআইএ

কূটনৈতিক মহল মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের একাংশ এবং বাংলাদেশের একাংশ মিলিয়ে স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি সক্রিয় হয়েছেন।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১৯ মার্চ ২০২৬ ০৯:২১
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

ভারত থেকে মায়ানমারে বেআইনি ভাবে যাতায়াতের সময়ে নয়। জঙ্গিদের প্রশিক্ষণের সময়েও নয়। আমেরিকার নাগরিক ম্যাথু ভ্যানডাইক গ্রেফতার হয়েছেন ভারত ছাড়ার সময়ে। কলকাতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে। দিল্লি বিমানবন্দর এবং লখনউ বিমানবন্দর থেকে আরও ছ’জন ইউক্রেনের নাগরিককে গ্রেফতার করেছে জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা (এনআইএ)। এর পরে গোটা ঘটনা নিয়ে জাতীয় এবং কূটনৈতিক মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। সূত্রের দাবি, এই দলের আরও সদস্য এখনও ভারতে থাকতে পারেন।

কূটনৈতিক মহল মনে করিয়ে দিয়েছে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দাবি করেছিলেন, ভারতের উত্তর-পূর্বের একাংশ এবং বাংলাদেশের একাংশ মিলিয়ে স্বাধীন খ্রিস্টান রাষ্ট্র গঠনের ব্যাপারে এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তি সক্রিয় হয়েছেন। তার কয়েক মাস পরে মিজ়োরামের মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইউক্রেনের যুদ্ধে যোগ দেওয়া কয়েক জন তৎপরতা বাড়াচ্ছেন সীমান্তে। সেই সময়ে দু’জনের বক্তব্যই থিতিয়ে গিয়েছিল। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউক্রেনের সাত নাগরিকের গ্রেফতার হওয়ার পরে সেই দাবিতে নতুন করে আলো পড়েছে। কারণ, ধৃতেরা রাশিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন বলেই খবর। সূত্রের বক্তব্য, ভ্যানডাইকের মোবাইল ফোন এবং সমাজমাধ্যম ঘেঁটে এনআইএ জানতে পেরেছে, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘর্ষে যুদ্ধক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন এই ব্যক্তি। ফলে তিনি ও তাঁর অনুগামীরা ভারত বিরোধী কার্যকলাপে জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ধৃতদের মধ্যে সবচেয়ে শোরগোল ফেলেছে এই ভ্যানডাইকের নামই। কিন্তু কেন? মূল কারণ, উত্তর আফ্রিকা, পশ্চিম এশিয়া এবং ইউক্রেন-সহ বিভিন্ন দেশে স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলিকে সেনা প্রশিক্ষণ দিতেন আমেরিকার নাগরিক। বিভিন্ন সময়ে সমাজমাধ্যম এবং সংবাদমাধ্যমের কাছে অতীতে এমন দাবি করেছেন নিজেই। এনআইএ সূত্রের খবর, ওই সাত ব্যক্তি ভারতে এসেছিলেন পর্যটন ভিসা নিয়ে। তার পরে অসমের গুয়াহাটি যান। সেখান থেকে যান মিজ়োরাম। সেখান থেকে বেআইনি ভাবে মায়ানমারে যান তাঁরা। সে দেশের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেন। এর মধ্যে ড্রোন প্রশিক্ষণও ছিল।

এনআইএ সূত্রের বক্তব্য, সবচেয়ে উদ্বেগের দিক হল, ওই সমস্ত গোষ্ঠীর সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর যোগাযোগ রয়েছে। তা ছাড়া ইউরোপ থেকে ভারত হয়ে বিপুল সংখ্যায় ড্রোন মায়ানমারে পাচার করেছেন ধৃতেরা। পুরোটাই বেআইনি ভাবে। সেই প্রশিক্ষণের পরে তাঁরা ভারতে ফিরে আসেন এবং এ দেশ থেকে চলে যাওয়ার চেষ্টা করেন। বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার হওয়ার সময়ে অবশ্য তাঁদের কাছে ড্রোন কিংবা অন্য কোনও বেআইনি দ্রব্য ছিল না। আমেরিকা ভ্যানডাইকের ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি। তবে ইউক্রেনের দূতাবাসের দাবি, তাদের নাগরিকদের বিরুদ্ধে কোনও অপরাধমূলক কার্যকলাপ প্রমাণিত হয়নি। তাঁদের মুক্তি দেওয়া হোক।

ভ্যানডাইক আমেরিকার মেরিল্যান্ড প্রদেশের বল্টিমোরের বাসিন্দা। সে দেশের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, রাষ্ট্রবিজ্ঞান, নিরাপত্তা এবং বিশেষ বিষয় হিসেবে পশ্চিম এশিয়া সম্পর্কে জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন তিনি। নিজেকে পরিচয় দেন যুদ্ধ ক্ষেত্র থেকে খবর দেওয়া সংবাদকর্মী, নিরাপত্তা বিশ্লেষক ও তথ্যচিত্র নির্মাতা হিসেবে। ২০০৭ সালে তিনি পশ্চিম এশিয়ায় যান। পরে সংবাদমাধ্যমের কাছে দাবি করেন, তাঁর দুই বন্ধু আইএস সন্ত্রাসবাদীদের হাতে নৃশংস ভাবে খুন হন। তার পরেই নাকি অসামরিক মানুষদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন তিনি। সন্‌স অব লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল (সোলি) নামে একটি সংস্থা তৈরি করেন। এই সংস্থার সদস্যেরাই বিভিন্ন দেশে সামরিক প্রশিক্ষণ দিয়ে বেড়ান। ২০১১ সালে লিবিয়ায় মুয়ম্মার গদ্দাফি সরকারের বিরোধী বিদ্রোহীদের হয়ে লড়তে গিয়েও এক বার ধরা পড়েছিলেন এই আমেরিকান। কয়েক মাস পরে অবশ্য জেল থেকে পালাতে সক্ষম হন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন