কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ফাইল চিত্র।
গোটা বাংলায় বেকারত্ব বাড়িয়েছে দিদির সরকার। ৭ হাজার কারখানা বাংলা ছেড়ে চলে গিয়েছে। আমরা ২ বছরে সব কারখানা আবার বাংলায় ফিরিয়ে নিয়ে আসব। যুব সম্প্রদায়ের চাকরির রাস্তা খুলবে।
টিএমসি সব সময় এসসি সমাজের অপমান করেছে। আর বিজেপি সম্মান করেছে। এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ করেছে। মতুয়া আর শূদ্র সমাজকে বলে দিয়ে যাচ্ছি, বিজেপির প্রাণ বাংলার মতুয়া সমাজ। বাংলায় কারও চারটে বিয়ে করা উচিত? ৫ তারিখের পর আমরা ইউসিসি (অভিন্ন দেওয়াবিধা বিধি) আনব। কেউ চারটে বিয়ে করতে পারবে না।
কেন্দ্র সরকার গরিবদের পাকাবাড়ি, পরিশ্রুত পানীয় জল, শিক্ষার জন্য টাকা পাঠিয়েছে। কিন্তু এই কোথায় গেল? এই সব টাকা টিএমসি-র সিন্ডিকেট আর ভাইপো-ট্যাক্সে চলে গিয়েছে। আর যদি ভাবেন এই টাকা হজম করে নেব, তা হলে সিন্ডিকেটবাজরা কান খুলে শুনে রাখুন, প্রতি পয়সার হিসাব নেব।
আপনারা বলুন তো, জামালপুরে কোনও কাজ হয়েছে? রেল ক্রসিংয়ে একটাও আন্ডারপাস হয়েছে? গুন্ডার টোল ট্যাক্স উসুল করছে। ইট, বালি, সিমেন্টের উপর টোল ট্যাক্স। এগুলো টোল ট্যাক্স নয়, ভাইপো-ট্যাক্স। ৫ তারিখে বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৬ তারিখে সব সিন্ডিকেটরাজ বঙ্গোপসাগরে ছুড়ে ফেলব।
দিদি মতুয়াদের ভয় দেখাচ্ছেন, যদি বিজেপি আসে তা হলে আপনাদের ভোট চলে যাবে। কিন্তু দিদি, এই মতুয়া সমাজ আমাদের প্রাণ। ওদের কেউ ছুঁতে পারবে না। মতুয়া সমাজ, নমশূদ্র সমাজের ব্যক্তিদের ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। সিএএ করতে দিচ্ছে না দিদি। আপনারা বিজেপির সরকার বানিয়ে দিন, ৫ তারিখের পর মতুয়া সমাজের সব ভাই-বোনকে নাগরিকত্ব দেবে বিজেপি।
প্রতি বার ভোটের সময় দিদির গুন্ডারা ঝামেলা করে। দিদির গুন্ডাদের তাই বলে যাচ্ছি, ২৯ তারিখে ঘরের বাইরে যেন না দেখতে পাই। যদি বার হয়, তা হলে ৫ তারিখের পর উল্টো করে ঝোলাব। দিদি আমার উপর রেগে যাচ্ছেন। অমিতভাই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়ে গুন্ডাদের ধমকাচ্ছেন। আরে দিদি, গুন্ডাদের কি ভালবাসব আমি! গুন্ডাদের ধমকানো উচিত কি না আপনারা বলুন তো? এখন শুধু ধমকাচ্ছি, শুধরে যাও, না হলে তোমাদের জায়গা হবে জেলের ভিতরে।
দেশের ২০ রাজ্যে বিজেপির সরকার আছে। কোনও মুখ্যমন্ত্রী এ কথা বলেননি মহিলারা ৭টার পর ঘরের বাইরে বেরোবেন না। লজ্জা করুন দিদি, মহিলাদেরর আপনি সুরক্ষা দিতে পারেননি। কিন্তু বিজেপির সরকার এলে কোনও গুন্ডা মা-বোনেদের দিকে চোখ তুলে তাকালে জেলের হাওয়া খাওয়াব।
১৫ বছরে মমতাদিদির জমানায় সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাস হয়েছে মা-বোনেদের উপর। আরজি কর, সন্দেশখালি প্রতি জায়গায় মা-বোনেদের উপর অত্যাচার হয়েছে। কিন্তু দিদি বলেন, মা-বোনেরা সন্ধ্যা ৭টা পর বাড়ি থেকে বেরোবেন না। কিন্তু আমি বলে যাচ্ছি, বিজেপি সরকার এলে মাঝরাতেও মা-বোনেরা বেরোতে পারবেন।
জামালপুর আসন জিততে হবে। শনিবার সভায় পৌঁছে বার্তা দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পৌনে ৪টে নাগাদ পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে পৌঁছোন শাহ। সভা থেকে তিনি বলেন, ‘‘প্রথম দফায় বিজেপি ১১০ আসন জিতবে, দিদির খেলা শেষ করে দেবে।’’ এখানে পদ্মফুল ফুটবে। আমি প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ৪ মে বর্ধমানের সীতাভোগ মোদীজিকে খাইয়ে ওঁর মুখমিষ্টি করব।
দ্বিতীয় দফার ভোটের প্রচারে শনিবার পশ্চিমবঙ্গে দু’টি জনসভা রয়েছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের। প্রথমটি রয়েছে পূর্ব বর্ধমানের জামালপুরে। দ্বিতীয়টি হাওড়ার শ্যামপুরে। শুক্রবারই হুগলির উত্তরপাড়ায় সভা করেন শাহ। সেখান থেকে তিনি দাবি করেন, প্রথম দফায় ১১০টিরও বেশি আসন পাবে বিজেপি। শুধু তা-ই নয়, ৫ তারিখে তৃণমূলের খেলা শেষ বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।