West Bengal Elections 2026

পরিবর্তনে কেউ, মন না বুঝে কেউ আবার নীরব

বুথ-ফেরত বা জনমত সমীক্ষার ফল অনেক সময়েই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইঙ্গিত মিলেও যায়। বিপুল ভোটার সংখ্যার অনুপাতে সামান্য সংখ্যক নমুনার ভিত্তিতে এই ধরনের সমীক্ষা কত দূর গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৮:২৪
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিল আরও একটি বুথ-ফেরত সমীক্ষা। দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোটের পরে বুধবারই বুথ-ফেরত সমীক্ষার ফল প্রকাশ করেছিল বেশ কয়েকটি সংস্থা। তার মধ্যে কয়েকটিতে যেমন বিজেপির সরকার আসার ইঙ্গিত ছিল, তেমনই তৃণমূল কংগ্রেসের সরকারের প্রত্যাবর্তনের আভাসও ছিল কিছু সমীক্ষায়। এর পরে বৃহস্পতিবার ‘টুডে’স চাণক্য’ সংস্থার সমীক্ষায় পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে আসন ও ভোট বাড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে পারে বিজেপি।

বুথ-ফেরত বা জনমত সমীক্ষার ফল অনেক সময়েই বাস্তবের সঙ্গে মেলে না। আবার বেশ কিছু ক্ষেত্রে ইঙ্গিত মিলেও যায়। বিপুল ভোটার সংখ্যার অনুপাতে সামান্য সংখ্যক নমুনার ভিত্তিতে এই ধরনের সমীক্ষা কত দূর গ্রহণযোগ্য, তা নিয়ে নানা প্রশ্নও রয়েছে। তবে প্রকৃত ফলের আগে ভবিষ্যতের আভাস দিতে বুথ-ফেরত সমীক্ষা করে থাকে নানা সংস্থাই। রাজ্যে এ বারের সমীক্ষা নিয়ে এ দিনও তাঁদের দিক থেকে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

‘টুডে’স চাণক্য’-র প্রকাশ করা বুথ-ফেরত সমীক্ষায় ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে, রাজ্যে ১৯২টি আসন পেতে পারে বিজেপি। সেই সংখ্যা ১১টি কম-বেশি হতে পারে। তৃণমূল ১০০ আসনে জয়ী হতে পারে বলে দেখানো হয়েছে। সেখানেও কম-বেশি ১১ আসনের কথা ধরে রাখা হয়েছে হিসেবে। অন্যান্যেরা দুই থেকে কম-বেশি চারটি পর্যন্ত আসন পেতে পারে বলে ইঙ্গিত। ওই,সমীক্ষাতেই দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এ বার ৪৮% ভোট পেতে পারে। তৃণমূল পেতে পারে ৩৮%। আর অন্যান্যদের বাক্সে যেতে পারে ১৪% ভোট। সব ক্ষেত্রেই এই হিসেব ৩% কম-বেশি হতে পারে সমীক্ষায় ইঙ্গিত। প্রসঙ্গত, রাজ্যে পরপর কয়েকটি নির্বাচনে ৩৮-৪০%ভোট ধরে রেখেছে বিজেপি। এই সমীক্ষার আভাস অনুযায়ী, বিজেপির ভোট প্রায় ৮-১০% বাড়তে পারে। সেই অনুপাতে কমতে পারে তৃণমূলের ভোট।

তবে এরই মধ্যে ‘অ্যাক্সিস মাই ইন্ডিয়া’র তরফে জানানো হয়েছে, তারা আপাতত পশ্চিমবঙ্গে বুথ-ফেরত সমীক্ষার ফল দেখাচ্ছে না। সংস্থার কর্ণধার প্রদীপ গুপ্ত বলেছেন, ‘‘আমরা ভোটারদের সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলে সমীক্ষায় বিশ্বাসী। কিন্তু প্রথম দফার ভোটের পরে কথা বলতে গেলে ভোটারদের ৬০-৭০%ই মুখ খুলতে চাননি। তাঁরা ভোট সম্পর্কে একেবারে নীরব থাকছেন। মাত্র ৩০%-এর নমুনার ভিত্তিতে আমরা সমীক্ষার ফল তৈরি করতে চাইনি।’’ দ্বিতীয় ও শেষ দফার ভোট মিটে যাওয়ার পরে এখন আর এক বার চেষ্টা করা হতে পারে বলে ওই সংস্থা ইঙ্গিত দিয়েছে।

এই ধরনের বুথ-ফেরত সমীক্ষা ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা এ দিন বলেছেন, ‘‘২০১৬ ও ২০২১ সালেও এই রকমই বলা হয়েছিল।’’ তাঁর কথায়, ‘‘দেশের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯টি বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এবং অর্থ ভান্ডার, বন্দুকের ভান্ডার নিয়ে বাংলার মানুষকে জব্দ করতে চেয়েছিলেন। তাঁরাই ভোটের বাক্সে জব্দ হয়ে গিয়েছেন!’’

নন্দীগ্রামে বিজেপি প্রার্থী ও বিরোধী নেতা শুভেন্দু পাল্টা বলেছেন, ‘‘কে কী দেখাচ্ছে, জানি না। আমি বাস্তবের হিসেব থেকে বলতে পারি, বিজেপি ক্ষমতায় আসছে। রাজ্যে ২০১১সালেও এ রকম সরকার-বিরোধী মনোভাব দেখিনি। তখন পরিবর্তনের জন্য লড়াইয়ে অনেকের মধ্যে আমিও এক জন ছিলাম।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন