—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
আরও একটি অতিরিক্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করল নির্বাচন কমিশন। বুধবারই সুপ্রিম কোর্টকে জানানো হয়েছে আগামী ৭ এপ্রিলের মধ্যে বিবেচনাধীন ভোটারদের তথ্য নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানিতে কলকাতা হাই কোর্ট শীর্ষ আদালতে একটি তথ্য দেয়। বলা হয়, ইতিমধ্যে প্রায় ৪৭ লক্ষ নামের তথ্য নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন বিচারকেরা।
বুধবার রাতেই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর এসআইআর সংক্রান্ত সপ্তম অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হল মোট ৪৯ লক্ষ ৬২ হাজার ৮৫০ জনের তথ্যের নিষ্পত্তি হয়েছে। উল্লেখ্য, রাজ্যের বিবেচনাধীন ভোটার হিসাবে চিহ্নিত করা হয় মোট ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনকে। অর্থাৎ, বাকি রইল আর ১০ লক্ষ ৪৩ হাজার ৮২৫ জনের নাম। যদিও নিষ্পত্তি হওয়া তথ্যের মধ্যে কত নাম বাদ গিয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি সিইও দফতর।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল কমিশন। সেখানেই বিবেচনাধীন ভোটার সংখ্যাও জানায় তারা। ঘটনাক্রমে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ মেনে নিষ্পত্তি হওয়া তালিকা ধাপে ধাপে বার করার কথা জানিয়েছে কমিশন। সেই অনুযায়ী গত ২৩ মার্চ রাত থেকে অতিরিক্ত তালিকা প্রকাশ শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য, কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরাই যোগ্ য ভোটার। প্রথম দফায় রাজ্যের যে আসনগুলিতে নির্বাচন হবে, সেগুলির জন্য প্রার্থীদের মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন আগামী ৬ এপ্রিল। অর্থাৎ, ৬ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত যাঁদের নাম ভোটার তালিকায় থাকবে, তাঁরাই বিধানসভা ভোট দিতে পারবেন। সেই কারণে কমিশনের তরফে বিবেচনাধীন ভোটারদের নামের নিষ্পত্তি ৬ এপ্রিল রাতের মধ্যে করার জন্য সুপ্রিম কোর্টের কাছে আর্জি জানানো হয়েছিল। ৬ এপ্রিল বিকেল ৪টের সময়েই রাজ্যের এসআইআর মামলাটি ফের শুনবে সুপ্রিম কোর্ট।
অন্য দিকে, বুধবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও)-এর দফতরের সামনে সামনে বিক্ষোভ দেখান এসইউসিআই-এর কর্মী-সমর্থকেরা। সিইও মনোজ আগরওয়াল যখন দফতরে ঢুকছিলেন, তখন তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান দেন জড়ো হওয়া তৃণমূলপন্থী বিএলও-রাও। সিইও অফিসের আশপাশে ১৬৩ (সাবেক ১৪৪) ধারার পরিধি বিস্তার করে কলকাতা পুলিশ। কলকাতার পুলিশ কমিশনার (সিপি) একটি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানান, স্ট্র্যান্ড রোডের রাস্তা এবং দু’পাশের ফুটপাত-সহ এলাকায় ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে। ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছে কয়লাঘাটা ক্রসিং থেকে কিরণশঙ্কর রায় রোড পর্যন্তও। আগে কেবল সিইও অফিসের সামনেই ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল।