গ্রাফিক আনন্দবাজার ডট কম।
বিধাননগর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের প্রথম মেয়র ছিলেন তিনি। ছিলেন ২০১১ থেকে টানা ১০ বছর ছিলেন রাজারহাট-নিউটাউন কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক। কিন্তু দল বদলে ২০২১ সালে বিজেপির টিকিটে লড়তে নেমে ‘ভাগ্যবিপর্যয়’ হয় সব্যসাচী দত্তের। বিধাননগরে তৃণমূল প্রতিদ্বন্দ্বী সুজিত বসুর কাছে পরাস্ত হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই আবার তৃণমূলের ফিরে গিয়েছিলেন তিনি। ২০২২-এ পুরভোটে জিতে বিধাননগরের চেয়ারম্যানও হয়েছেন। এ বার তাঁর লড়াই বিধানসভায় প্রত্যাবর্তনের। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত আসন থেকে।
মনোনয়নের সঙ্গে সব্যসাচী যে হলফনামা জমা দিয়েছেন তাতে দেখা যাচ্ছে, গত পাঁচ বছরে রাজনৈতিক উত্তরণ না ঘটলেও সম্পত্তি বেড়েছে তাঁর পরিবারের। জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী সব্যসাচীর হাতে নগদ রয়েছে ১৬ হাজার ৭০৬ টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী ইন্দ্রানীর কাছে রয়েছে ৮০ হাজার ৯৩৯ টাকা। এছাড়াও বিভিন্ন স্থায়ী আমানত (ফিক্সড ডিপোজিট), সঞ্চয়ী অ্যাকাউন্ট, মিউচুয়াল ফান্ড ও বিমায় সব্যসাচীর বিনিয়োগ ৩ কোটি ৮২ লক্ষ ৫১ হাজার টাকার বেশি। তাঁর স্ত্রীর ৩ কোটি ২৫ লক্ষ ১৫ হাজারের বেশি। সব্যসাচীর তিনটি গাড়ির মোট মূল্য প্রায় ৬১ লক্ষ ৭৮ হাজারের বেশি। সোনা রয়েছে ২৯৮ গ্রাম (মূল্য প্রায় ২৭ লক্ষ টাকা)। তাঁর স্ত্রীর গাড়ি নেই। তবে প্রায় ৭১৩ গ্রাম সোনা রয়েছে। যার বাজারমূল্য ৬৫৬ লক্ষের বেশি।
সব মিলিয়ে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তি ৫ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার। স্ত্রী ইন্দ্রানীর ৩ কোটি ৯০ লক্ষেরও বেশি! সব্যসাচীর ঋণ এবং বকেয়া রয়েছে প্রায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ টাকা। তাঁর স্ত্রীর ৫৬ লক্ষ ৭০ হাজার। সব্যসাচীর ৪০ লক্ষ টাকা বাজারমূল্যের ফ্ল্যাট রয়েছে। তাঁর স্ত্রীর দু’টি ফ্ল্যাট এবং অকৃষিজমির মোট বাজারমূল্য ৯০ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা। বাণিজ্য এবং আইনের স্নাতক সব্যসাচীর নামে কোনও ফৌজদারি মামলা নেই। ২০২১-এ পেশ করা হলফনামা অনুযায়ী সব্যসাচীর ৩৭ হাজার এবং ইন্দ্রানীর ৫৪ হাজার ১৫০ টাকা নগদ ছিল। দু’টি গাড়ি-সহ সব্যসাচীর অস্থাবর সম্পত্তির অঙ্ক ছিল ৪ কোটি ৫৯ লক্ষ ৬০ হাজারের বেশি। তাঁর স্ত্রীর ৩ কোটি ১৫ লক্ষ ৯৩ হাজারের বেশি। সে সময় সব্যসাচীর ঋণ এবং দায় ছিল ২ কোটি ৯৭ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকারও বেশি। ইন্দ্রানীর ৮৯ লক্ষ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী সব্যসাচী এবং ইন্দ্রানীর সে সময় কোনও স্থাবর সম্পত্তিই ছিল না!