WB Elections 2026

নিজের গাড়ি নেই, কোটিপতি আগে থেকেই ছিলেন, গত পাঁচ বছরে সম্পত্তির শ্রীবৃদ্ধি হয়েছে আরও! কত আয় ফিরহাদের?

গত পাঁচ বছরে ফিরহাদের বার্ষিক আয় ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালে তাঁর ৪ কোটি ১২ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। এখন তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ২০:১৯
Share:

কলকাতা বন্দরের তৃণমূল প্রার্থী ফিরহাদ হাকিম। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তিনি কলকাতার মহানাগরিক। একই সঙ্গে সামলান রাজ্য মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও। পাশাপাশি নিজস্ব ব্যবসাও রয়েছে তাঁর। কোটিপতি ছিলেন আগে থেকেই। গত পাঁচ বছরে সম্পত্তি আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। কোটিপতি নেতা হওয়ার পরেও ফিরহাদের নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই।

Advertisement

কলকাতা বন্দর এলাকার টানা তিন বারের বিধায়ক ফিরহাদ। বিদায়ী বিধায়ককে প্রত্যাশিত ভাবেই এ বারও কলকাতা বন্দর থেকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। কলকাতা বন্দরে ভোটগ্রহণ রয়েছে দ্বিতীয় দফায়, ২৯ এপ্রিল। ওই আসনের প্রার্থী হিসাবে ইতিমধ্যে মনোনয়ন দাখিল করেছেন বিদায়ী বিধায়ক। তাঁর সম্পত্তির হিসাবনিকাশ, বার্ষিক আয়, জমিজমা-সহ বিভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে নির্বাচনী হলফনামায়।

আয় এবং সম্পত্তি

Advertisement

গত পাঁচ বছরে ফিরহাদের বার্ষিক আয় ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের সময়ে দাখিল করা হলফনামায় ফিরহাদ জানিয়েছিলেন, ওই সময়ে তাঁর ৪ কোটি ১২ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি ছিল। তৃণমূল নেতার স্থাবর সম্পত্তির ওই সময়ের বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা। পাঁচ বছর পরে স্থাবর, অস্থাবর উভয় সম্পত্তিই বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি জমা দেওয়া হলফনামায় ফিরহাদ জানিয়েছেন, তাঁর কাছে ৭ কোটি ২৭ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তির বর্তমান বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা।

হলফনামায় ফিরহাদ জানিয়েছেন, ২০২০-২১ সালে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৭৬ লক্ষ টাকা। পরবর্তী চার বছরে তাঁর বার্ষিক আয় যথাক্রমে ৮৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা, ১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা, ১ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা এবং ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা। ২ এপ্রিল জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী, বিদায়ী বিধায়কের হাতে নগদ ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা রয়েছে। তাঁর স্থায়ী আমানত-সহ মোট ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট রয়েছে। সেখানে গচ্ছিত রয়েছে ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। বিভিন্ন জায়গায় বিনিয়োগও রয়েছে তাঁর। এর মধ্যে ১ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ রয়েছে মিউচুয়াল ফান্ডে।

Advertisement

সোনা, রুপো এবং মূল্যবান পাথরের গয়নাও রয়েছে ফিরহাদের। সেগুলির দাম ১৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। ফিরহাদের নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই। তবে তাঁর স্ত্রীর ২৭ লক্ষ টাকা দামের একটি গাড়ি রয়েছে। ফিরহাদের স্ত্রীও ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। নেতার স্ত্রীও গত পাঁচ বছরে ধারাবাহিক ভাবে কোটি টাকার বেশি উপার্জন করেছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষে ফিরহাদ-জায়ার বার্ষিক আয় ছিল ২ কোটি ১০ লক্ষ টাকা। তাঁর মোট ৯ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকার।

ইডি-সিবিআইয়ের মামলা

কলকাতা বন্দর এলাকার বিদায়ী বিধায়কের বিরুদ্ধে দু’টি এফআইআর রয়েছে। দু’টিই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার রুজু করা— একটি সিবিআইয়ের, অন্যটি ইডির। নারদকাণ্ডে ওই এফআইআরগুলি রুজু হয়েছে। প্রথমে সিবিআই পদক্ষেপ করে। পরে ইডিও এফআইআর রুজু করে। তবে দু’টি মামলাই এখনও বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে। চলছে কলকাতার বিচারভবনে। তবে কোনওটিতেই এখনও চার্জ গঠন হয়নি।

পড়াশোনা এবং পেশা

১৯৭৬ সালে কালীঘাট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন ফিরহাদ। তার পরে ১৯৭৯ সালে স্নাতক হন। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের হেরম্বচন্দ্র কলেজ থেকে বি.কম করেন তিনি। হলফনামায় ফিরহাদ রাজনীতিকের পাশাপাশি ব্যবসায়ী এবং সমাজকর্মী হিসাবেও নিজের পেশাগত পরিচয় দিয়েছেন। জানিয়েছেন, সরকারি বেতনের পাশাপাশি ব্যবসা এবং ব্যাঙ্কের সুদ থেকে তাঁর আয় হয়। স্ত্রীর আয়ের উৎস হিসাবেও ব্যবসা এবং ব্যাঙ্কে গচ্ছিত টাকার সুদের কথা উল্লেখ করেছেন ফিরহাদ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement