BJP

Bengal polls 2021: বিজেপির প্রার্থী নিয়ে গৃহযুদ্ধ, ইস্তফার চিঠি সতেরো জনের

প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের জেরে ইস্তফা দিতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার ১৭ জন পদাধিকারী।

Advertisement

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২০ মার্চ ২০২১ ০৫:২৪
Share:

টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ বিজেপি কর্মীদের। রানাঘাট পানিখালি মোড়ে শুক্রবার। প্রণব দেবনাথ

প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভের জেরে ইস্তফা দিতে চেয়ে বিজেপি নেতৃত্বকে চিঠি দিলেন নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার ১৭ জন পদাধিকারী। দলের প্রার্থীকে মানতে না পেরে নির্দল প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথাও ঘোষণা করছেন কেউ কেউ।

Advertisement

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে রানাঘাট ও কল্যাণীতে বিজেপি কর্মীদের একাংশের যে ক্ষোভ দেখা গিয়েছিল, শুক্রবারও তা অব্যাহত থেকেছে। সদ্য তৃণমূল থেকে যোগ দেওয়া প্রাক্তন বিধায়ক তথা পুরপ্রধান পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়কে রানাঘাট উত্তর পশ্চিম কেন্দ্রে প্রার্থী করা মানতে পারছেন না দলের অনেকেই। আবার চাকদহে সিপিএম থেকে আসা বাম আমলের মন্ত্রী বঙ্কিম ঘোষের প্রার্থী হওয়া নিয়েও ব্যাপক ক্ষোভ রয়েছে।

কল্যাণী কেন্দ্রে প্রার্থী হিসেবে অম্বিকা রায়ের নাম ঘোষণা হওয়ার আগে থেকেই বিক্ষোভ চলছে। এ দিন দুপুরে বিজেপি কার্যালয়ের সামনে টায়ার জ্বালিয়ে, চেয়ার ভাঙচুর করে, স্লোগান দিয়ে বেশ কিছুক্ষণ বিক্ষোভ দেখান কর্মী-সমর্থকেরা। নদিয়া দক্ষিণের প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক রবীন সরকার বলেন, “এরা দীর্ঘদিন ধরে দল করছে। দলের জন্য অনেকে প্রাণ হারিয়েছে, বাড়িছাড়া রয়েছে। অম্বিকা রায় তো কল্যাণীর বাসিন্দাই নন, বহিরাগত। এদের আবেগ কী করে সামলাব?” অম্বিকা রায়ের প্রতিক্রিয়া অবশ্য পাওয়া যায়নি।

Advertisement

রানাঘাট উত্তর পশ্চিমের প্রার্থী পার্থসারথীকে মানতে না চেয়েও দলের দফতরে তালা ঝুলিয়ে দেন কিছু বিজেপি কর্মী। ভাঙচুর করে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয় চেয়ারে। ক্ষুব্ধ কর্মীদের অন্যতম যুব মোর্চার রানাঘাট শহর মণ্ডলের সভাপতি শুভঙ্কর সাহা বলেন, “উনি মাত্র এক মাস দশ দিন আগে দলে এসেছেন। আগে ওঁর জন্য আমরা আক্রান্ত হয়েছি, মামলা খেয়েছি।”

পার্থসারথী অবশ্য দাবি করেন, “সমস্যা কিছু হবে না। বিষয়টি আলোচনাতেই মিটে যাবে।”

Advertisement

রানাঘাটের সাংসদ জগন্নাথ সরকার শান্তিপুরে প্রার্থী হওয়ায় সন্ধ্যায় ঘোড়ালিয়া জাতীয় সড়ক অবরোধ করেন কিছু বিজেপি কর্মী। সেখানে প্রর্থিপদের অন্যতম দাবিদার ছিলেন এক সময়ে নদিয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি বা সম্পাদকের পদে থাকা সুফল সরকার। বর্তমানে তিনি অবশ্য কোনও পদে নেই। শান্তিপুর ব্লকের বেলগড়িয়া ২ পঞ্চায়েতের ঘোড়ালিয়ার বাসিন্দা সুফল এক সময়ে শান্তিপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে বিজেপির সদস্যও ছিলেন। ২০১৪ সালে বিধানসভা উপনির্বাচনে তিনি শান্তিপুর কেন্দ্রে প্রার্থী ছিলেন। জগন্নাথ দলের প্রার্থী হওয়ায় তিনি ‘নির্দল’ প্রার্থী হিসাবে দাঁড়াবেন বলে জানিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য, “জন সাংসদ হয়েছেন সংরক্ষিত কেন্দ্রে। তিনি আবার এই অসংরক্ষিত কেন্দ্রে এসে দাঁড়াচ্ছেন। লকডাউনে সাংসদ হিসেবে তিনি কোনও কাজ করেননি। তাঁকে ভোট দিয়ে আমাদের কী লাভ?” জগন্নাথ পাল্টা বলেন, “উনি তো আগাগোড়াই নির্দল! দলের ক্ষতিই করে এসেছেন। দলের দায়িত্বে থাকা কেউ ওঁর সঙ্গে নেই। আমি কী কাজ করেছি মানুষ দেখেছে।”

ইস্তফা দিতে চেয়ে যাঁরা দলকে চিঠি দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে রয়েছেন চাকদহের বাসিন্দা তথা দলের জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ ঘোষ বা রানাঘাট উত্তর পূর্ব বিধানসভা কেন্দ্রের বাসিন্দা তথা দলের কিসান মোর্চার জেলা সভাপতি অশোক বিশ্বাসের মত ‘গুরুত্বপূর্ণ’ নেতারা। এঁদের স্বাক্ষরিত চিঠিতে অভিযোগ করা হয়েছে, জেলা সংগঠনকে উপেক্ষা করে তৃণমূলের দুর্নীতিগ্রস্ত, কলঙ্কিত, বিভিন্ন অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের দলে নেওয়া হয়েছে এবং দলীয় প্রার্থী করে কার্যত ‘পুরস্কৃত’ করা হয়েছে। গোটা বিষয়টি তাঁদের মত দীর্ঘদিনের কার্যকর্তাদের কাছে ‘বেদনাদায়ক এবং আপত্তিকর’।

চিঠিতে আরও লেখা হয়েছে, “বরিষ্ঠ কার্যকর্তাদের বাদ দিয়ে দেড় মাস আগে দলে যোগদানকারী অরিন্দম ভট্টাচার্য এবং পার্থসারথী চট্টোপাধ্যায়ের মত দাগি তৃণমূলীদের প্রার্থী করায় আমরা মর্মাহত এবং হতাশ। অবিলম্বে ওই দুই ব্যক্তির প্রার্থীপদ বাতিল করা হোক। অন্যথায় আমাদের দলীয় পদ থেকে দায়িত্বমুক্ত করে এই চরম অপমানের হাত থেকে রেহাই দেওয়া হোক।” এর মধ্যে অরিন্দমকে অবশ্য শান্তিপুর থেকে সরিয়ে উত্তর ২৪ পরগনার জগদ্দলে প্রার্থী করেছে বিজেপি।

বিশ্বজিৎ বলেন, “সদ্য দলে আসা যাঁদের প্রার্থী করা হয়েছে, তাঁদের নিয়ে কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। কর্মীরাই যদি না থাকেন, তা হলে কাদের নিয়ে কাজ করব?” আর এক স্বাক্ষরকারী অশোক বিশ্বাস অবশ্য কোনও মন্তব্য করতে চাননি। আর জগন্নাথের দাবি, “বিষয়টি আমার জানা নেই।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement