—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।
পশ্চিমবঙ্গে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গেলেই প্রথম দফার তালিকা ঘোষণা করে দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্ব। আজ তাই প্রথম দফার তালিকা তৈরিতে রাজ্য বিজেপি নেতা শমীক ভট্টাচার্য, শুভেন্দু অধিকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসলেন জে পি নড্ডা, সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদবের মতো কেন্দ্রীয় নেতারা। সব ঠিক থাকলে আজকের নামগুলিতে চূড়ান্ত ছাড়পত্র দিতে আগামিকাল বৈঠকে বসবে দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি। এ দিকে ভবানীপুরের মতো প্রায় ৪০টি হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রের প্রার্থী বাছার সিদ্ধান্ত একেবারে নিজেদের হাতে রেখেছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
গত বার নন্দীগ্রামে দাঁড়িয়ে হেরে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রবল অস্বস্তিতে পড়েছিল দল। এ বারে তাই ভবানীপুর থেকেই দাঁড়ানোর কথা রয়েছে মমতার। সে ক্ষেত্রে ভবানীপুরেই মমতাকে হারানোর পরিকল্পনা করেছে বিজেপি। কেবল ভবানীপুর নয়, তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা দাঁড়াচ্ছেন এমন বেশ কিছু কেন্দ্রের নির্বাচনকে ‘সম্মানের লড়াই’ হিসেবে দেখছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
সূত্রের মতে, ভবানীপুরের মতো প্রায় ৪০টি কেন্দ্রকে হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ভবানীপুরে মমতার বিপক্ষে কাকে দাঁড় করানো হবে বা বাকি হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রগুলিতে কে প্রার্থী হবেন সেই সিদ্ধান্ত একান্তই নিজেরা নিতে চাইছেন কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
পাঁচ বছর আগের কৌশল পাল্টে বিধানসভা যুদ্ধে নামছে বিজেপি। গোড়া থেকেই সিদ্ধান্ত হয়েছিল— অন্য দলের নিচুতলার কর্মীরা স্বাগত। কিন্তু অন্য দলের কোনও বড় মুখকে ভোটের আগে দলে নেওয়া হবে না। টিকিট বণ্টনের ক্ষেত্রেও ঠিক হয়েছে যে, কেবল নামে কাটলে হবে না। যে নেতাদের একেবারে তৃণমূল স্তরে জনপ্রিয়তা রয়েছে, কর্মীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাঁদেরই টিকিট দেবে দল। অগ্রাধিকার দেওয়া হবে পুরনো কর্মীদের।
বিজেপির এক নেতার কথায়, “এমন ব্যক্তিদের টিকিট দেওয়া হবে, যাঁরা সংগঠনে পরিচিত, নিজেদের এলাকায় জনসমর্থন রয়েছে।” দলের ইঙ্গিত, শমীক ভট্টাচার্য সভাপতি হওয়ায় পুরনো মুখেরা গুরুত্ব পাচ্ছেন। টিকিট বণ্টনেও সেই প্রভাব দেখা যাবে। মহিলা প্রার্থীর সংখ্যা গত বারের চেয়ে বেশি হওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও মুসলিম প্রার্থীর সংখ্যা হাতে গোনা থাকবে বলে খবর।
ইতিমধ্যে রাজ্য নেতৃত্ব, জেলা নেতৃত্ব, আরএসএস এবং সমীক্ষাকারী সংস্থার পক্ষ থেকে বিধানসভা-পিছু চার থেকে পাঁচটি করে নাম জমা পড়েছে। সূত্রের মতে, প্রথম দফায় দল চাইছে অন্তত একশোর কাছাকাছি নাম প্রকাশ করে দিতে। গত বিধানসভা ভোটে যে বিধায়কেরা জিতেছিলেন এবং যাঁরা এখনও দলের সঙ্গে রয়েছেন এমন প্রায় ৬৫ জনের নাম ঘোষণা করে দেওয়া হতে পারে। উপরন্তু যে কেন্দ্রগুলিতে প্রার্থীর নাম নিয়ে রাজ্য নেতৃত্বের মধ্যে কোনও বিবাদ নেই, সেই সব কেন্দ্রগুলিতেও আগামী সাত দিনের মধ্যে নাম ঘোষণা করে দেওয়ার পক্ষপাতী দল। তা হলে প্রস্তুতির যথেষ্ট সময় পাবেন প্রার্থীরা।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে