শুভেন্দু অধিকারী। — ফাইল চিত্র।
ভবানীপুরে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারানোর পরে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া জয়ের শংসাপত্র নিয়ে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল স্কুলের বাইরে বেরোলেন তিনি। সমর্থকদের উল্লাস আর মিষ্টিমুখের মধ্যে জয়ী বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ‘‘আমাকে জিতিয়েছেন ভবানীপুরের হিন্দু, জৈন, শিখ সমাজ। আমি তাঁদের প্রণাম জানাই।’’
এর পরেই তাঁর মন্তব্য, ‘‘এ জয় হিন্দুত্বের জয়, বাংলার জয়, মোদীজির জয়।’’ ভবানীপুরে নিজের জয় শুভেন্দু উৎসর্গ করলেন, ‘পশ্চিমবঙ্গে হিন্দুত্বের জন্য প্রাণ উৎসর্গ করা ৩০০ বিজেপি কর্মীর প্রতি’। ভবানীপুরে তাঁর হয়ে কাজ করতে আসা রাজস্থানের বিজেপি বিধায়কদের ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে ফোনে কথা হয়েছে বলেও জানালেন। সেই সঙ্গে জানালেন, প্রয়াত শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় জন্মভূমিতে এই ঐতিহাসিক জয়ের জন্য তিনি জনতার কাছে কৃতজ্ঞ। ভবানীপুরে এ বার শুভেন্দুর জয়ের ব্যবধান ১৫১০৫ ভোট। কমিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী তিনি পেয়েছেন ৭৩৯১৭টি ভোট। মমতা ৫৮১১২টি।
ভবানীপুরের পাশাপাশি এ বারও পূর্ব মেদিনীপুরর তাঁর পুরনো আসন নন্দীগ্রামে জয়ী হয়েছেন শুভেন্দু। সাখাওয়াত মেমোরিয়ালে জানিয়েছেন, সেখান থেকেই নন্দীগ্রামের গণনাকেন্দ্র হলদিয়ার উদ্দেশে রওনা হচ্ছেন তিনি। ভবানীপুরে জয়ের ব্যবধান ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেলেও নিজের গড় নন্দীগ্রামে শুভেন্দু এ বার জিতেছেন ১০ হাজারেরও কম ভোটে। তা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সরাসরি শুভেন্দু জানিয়ে দিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের ভোট না পাওয়ার কারণেই নন্দীগ্রামে জয়ের মার্জিন কম হয়েছে তাঁর। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ইতিহাস বলছে কংগ্রেস ছেড়ে বাংলা কংগ্রেস গঠনের পরে ১৯৬৭ সালে সালের বিধানসভা ভোটে অজয় মুখোপাধ্যায় নন্দীগ্রামের অদূরে তমলুক আসনের পাশাপাশি আরামবাগ বিধানসভায় প্রার্থী হয়ে হারিয়েছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী প্রফুল্ল সেনকে। সোমবার সেই ইতিহাস ছুঁয়ে ফেললেন শুভেন্দু।