—প্রতীকী চিত্র।
প্রথম পর্বের ভোট শেষে ‘ইভিএম’ (ভোট-যন্ত্র) নিয়ে অশান্তি এবং বিক্ষোভের ছবি মিলেছে রাজ্যের উত্তর থেকে দক্ষিণ প্রান্তে। কোথাও গাড়িতে রাখা ‘রিজ়ার্ভ ইভিএম’-কে আটকে বিক্ষোভ হয়েছে। পাশাপাশি, ‘স্ট্রং রুম’-এর নজর-ক্যামেরার ত্রুটিতে প্রকাশ করা হয়েছে সন্দেহ।
পূর্ব মেদিনীপুরের হলদিয়ার সেক্টর-১৩ এলাকায় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মীরা। ‘ইভিএম’ নিয়ে যাওয়ার পথে বাস আটকান তাঁরা। অভিযোগ, কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা ছাড়া, ওই ভোট-যন্ত্র বদলাতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। রাতে নন্দীগ্রামের মহম্মদপুরে এক বিজেপি নেতার গাড়িতে থাকা বিজেপি কর্মীদের মারধর করেন তৃণমূলের লোকজন। অভিযোগ, তাঁরা ‘ইভিএম’ বদলাতে যাচ্ছিলেন। পাঁশকুড়ায় হরিনারায়ণ চক হাই স্কুলের সেক্টর অফিসে ‘ইভিএম’ জমা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু চৈতন্যপুরের বেশ কয়েকটি বুথের প্রিসাইডিং অফিসারেরা অন্য বাসে পাঁশকুড়া গার্লস হাই স্কুলের সেক্টর অফিসে পৌঁছে যান। খবর পেয়ে পাঁশকুড়া পশ্চিম বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী সিন্টু সেনাপতি আটকান সে বাস। ‘ইভিএম’ অন্যত্র নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্মীরা বাসের সামনে বিক্ষোভ দেখান।
ভোট মেটার পরে, বৃহস্পতিবার বীরভূমের ইলামবাজার ব্লকের জয়দেব এলাকায় ভোট-যন্ত্র লুট হচ্ছে বলে বিজেপি অভিযোগ করে। যদিও পুলিশ জানায়, ভোটকর্মীদের ও ‘ইভিএম’ নিয়ে একটি বাস ও একটি গাড়ি যাচ্ছিল। গাড়িটি পিছিয়ে পড়ায় ভুল বোঝাবুঝি হয়। ওই রাতেই বোলপুরের বিনয়পল্লি এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষী ছাড়া ‘ইভিএম’ নেওয়ার অভিযোগে বিজেপি কর্মীরা গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। পরে গাড়িটিকে মহকুমাশাসকের (বোলপুর) দফতরে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ১০টা থেকে মাঝরাত পর্যন্ত মহকুমাশাসকের দফতর ঘেরাও করেন বিজেপি কর্মীরা। ইআরও তথা মহকুমাশাসক (বোলপুর) অনিমেষকান্তি মান্না শুক্রবার বলেন, “ওগুলি সমস্ত রিজ়ার্ভ ইভিএম ছিল। তাই নিয়ম অনুযায়ী, ভোট শেষে গুদামে নিয়ে আসা হয়।’’ জেলাশাসক ধবল জৈন বলেন, ‘‘লিখিত অভিযোগ পেলে, আইনানুগ ব্যবস্থা হবে।’’
বাঁকুড়ার শালতোড়ায় বৃহস্পতিবার ‘রিজ়ার্ভ ইভিএম’ বোঝাই সেক্টর অফিসের গাড়িতে তৃণমূলের পতাকা দেখে বিক্ষোভ দেখান শালতোড়ার বিজেপি প্রার্থী চন্দনা বাউরি। সমাজমাধ্যমে সে ভিডিয়ো প্রকাশ করে তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট-যন্ত্র বদলের অভিযোগ তোলেন বিজেপি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ। তা ছড়াতেই বিজেপি কর্মীরা ছাতনা, বিষ্ণুপুরের একাধিক জায়গায় ‘ইভিএম’ বোঝাই সেক্টর অফিসারদের গাড়ি আটকে বিক্ষোভ দেখান। যদিও জেলা প্রশাসনের দাবি, ওই সব ‘ইভিএম’ রিজ়ার্ভে ছিল।
মালদহের হবিবপুর বিধানসভার ঘোলাডাঙা ২৯ নম্বর বুথের ‘ইভিএম’ বদলের অভিযোগকে ঘিরে বুধবার রাতে উত্তেজনা ছড়ায়। প্রিসাইডিং অফিসারের দাবি, গাড়িতে ‘রিজ়ার্ভ ইভিএম’ ছিল। ভুল বুঝে বিক্ষোভ দেখানো হয়। ওই রাতেই ‘ইভিএম’ বদলের আশঙ্কায় কোচবিহারের হলদিবাড়িতে বিক্ষোভ দেখায় বিজেপি। মুর্শিদাবাদেও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া কেন ‘ইভিএম’ বোঝাই গাড়ি নিয়ে যাওয়া হচ্ছে অভিযোগে গাড়ি আটকে বিজেপি কর্মীদের বিক্ষোভের একটি ভিডিয়ো সমাজমাধ্যমে ছড়ায়। যদিও মুর্শিদাবাদের জেলাশাসক আর অর্জুন বলেন, ‘‘ভোটকেন্দ্র থেকে স্ট্রং রুম নিরাপত্তা দিয়ে ইভিএম নিয়েআসা হয়েছে।’’ মুর্শিদাবাদের ডোমকল গার্লস কলেজের ‘স্ট্রং রুম’-এর ‘ডিসপ্লে টিভি’র ছবি শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ মিনিট ১৫ বন্ধ হয়ে যায়। জেলা প্রশাসনের দাবি, বিষয়টি বিশদে দেখা হবে। স্ট্রং রুমের নিরাপত্তায় রাখা সিসি ক্যামেরা বন্ধ থাকার অভিযোগে সন্ধেয় কোচবিহারে বিক্ষোভ দেখায় তৃণমূল। তাদের দাবি, কোচবিহার পলিটেকনিক কলেজের স্ট্রং রুমের পাঁচ নম্বর সিসি ক্যামেরা ৪টে ৮ মিনিটের পরে কিছু সময় বন্ধ ছিল।
তুফানগঞ্জের ‘স্ট্রং রুম’-এরও পাঁচটি ক্যামেরা বন্ধ রাখা হয়। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে, ‘স্ট্রং রুম’গুলিতে একাধিক সিসি ক্যামেরা রয়েছে। একটি বিকল হলেও, অন্যগুলির ফুটেজ থাকবে। এ দিকে, হলদিয়াতে স্ট্রং রুমে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। রাজ্য নির্বাচন কমিশনের সিইও দফতরে লিখিত অভিযোগ জানানো হল তৃণমূলের তরফে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে